০৪:১৪ পি.এম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদীয় এলাকা বারাণসীতে অনুষ্ঠিত উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একটি ধাক্কা খেয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী লালবিহারি যাদব শিক্ষক আসনে জয়লাভ করেছেন। একইসঙ্গে, বারাণসীর স্নাতক আসনে সমাজবাদী পার্টির এগিয়ে থাকার খবরও পাওয়া গেছে। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে অখিলেশ যাদবের দলের এই সাফল্য রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ১১টি আসনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক ও স্নাতক প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত এই আসনগুলিতে বিজেপি এবং সমাজবাদী পার্টির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। যদিও বিজেপি কিছু আসনে জয়লাভ করেছে, বারাণসীর ফল প্রধানমন্ত্রী মোদির দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বারাণসীর শিক্ষক আসনে সমাজবাদী পার্টির লালবিহারী যাদব বিজেপির প্রার্থী প্রমোদ মিশ্রকে পরাজিত করেছেন। লালবিহারী যাদব ১০ হাজার ৯৫৮ ভোট পেয়েছেন, যেখানে বিজেপি প্রার্থী ৬ হাজার ৬০ ভোট অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, স্নাতক আসনে সমাজবাদী পার্টির ভালো ফলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য কয়েকটি আসনে বিজেপি তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। লখনউয়ের শিক্ষক আসনে বিজেপির উমেশ দ্বিবেদী জয়ী হয়েছেন। মেরঠের শিক্ষক ও স্নাতক আসন, পাশাপাশি বরেলি-মোরাদাবাদের শিক্ষক আসনেও বিজেপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য থাকলেও বারাণসীর ফল বিরোধী সমাজবাদী পার্টির জন্য রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
এই নির্বাচনের গুরুত্ব শুধুমাত্র বিধান পরিষদের কয়েকটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আগামী ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রে এই ফলকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সংসদীয় এলাকায় বিজেপির পরাজয় বিরোধীদের কাছে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তবে শিক্ষক ও স্নাতক আসনের ভোটের ফল দিয়ে সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনের ফল অনুমান করা সম্ভব নয়। এই নির্বাচনে ভোটারদের ধরন এবং রাজনৈতিক সমীকরণ আলাদা। তা সত্ত্বেও, বারাণসীর ফল বিজেপির জন্য সতর্কবার্তা এবং অখিলেশ যাদবের দলের জন্য মনোবল বৃদ্ধির মতো একটি ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের বাকি আসনগুলোর গণনা ও চূড়ান্ত ফলের দিকে রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে লড়াই কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন