১১:৪২ এম
জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সংকট সরকারের মাধ্যমে বিতরণ করা পাঁচ ধরনের পণ্য এর সরবরাহ কমেছে। দেড় বছর ধরে এমন সংকট চলমান。
অর্থ সংকট, ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘসূত্রতা এবং বাজেট বাস্তবায়নের জটিলতার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায় থেকে চাহিদা দিলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অর্থাভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩৭৮ উপজেলায় কনডমের মজুত নেই। ৩৬৭ উপজেলায় ওরাল পিলের মজুত শেষ হয়ে গেছে। ৪১৮ উপজেলায় জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (ইসিপি) নেই, ৩১১ উপজেলায় তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি সুরক্ষাদানকারী ইমপ্লান্টের মজুত নেই এবং ৩৯৭ উপজেলায় ১০ বছর কার্যকর আইইউডি নেই। ইনজেক্টেবল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুতও শেষ হয়েছে ৪৭৭ উপজেলায়। শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণই নয়, মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মিসোপ্রোস্টল, অক্সিটোসিন, আয়রন-ফলিক এসিড ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের মতো ওষুধও অধিকাংশ উপজেলায় এখন মজুতশূন্য। দৈনিক সমাকালের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সক্ষম দম্পতিরা ৩৭ শতাংশ সরকারি খাত থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী পান। এনজিওদের কাছ থেকে পান ৩ শতাংশ এবং বাকি ৬০ শতাংশ পান বেসরকারি খাত থেকে। ফলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ধরনের উপকরণের মধ্যে ইনজেক্টেবলের সরবরাহ পাঁচ লাখে নেমে এসেছে। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৪০ হাজার, অর্থাৎ সরবরাহ প্রায় ৫৬ শতাংশ কমে গেছে। মুখে খাওয়ার পিলের সরবরাহ ৮৮ লাখ ৯০ হাজার থেকে কমে হয়েছে ১৮ লাখ ৯০ হাজার, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ কম।
দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির চিত্র আরও আশঙ্কাজনক। আপন ব্র্যান্ডের মুখে খাওয়ার পিলের সরবরাহ ২৩ লাখ ৪ হাজার ৯৪৩ পিস থেকে কমে হয়েছে মাত্র ৪৩ হাজার ৭৬৮ পিস, অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ কমেছে। ইমপ্লান্টের সরবরাহ ২৯ লাখ ৮৩ হাজার থেকে নেমে এসেছে ৯ হাজার ৭৫২টিতে, যার ফলে এটি প্রায় ৯৭ শতাংশ কমে গেছে। জরায়ুর ভেতরে স্থাপনযোগ্য গর্ভনিরোধক যন্ত্র (আইইউডি) ১৯ হাজার ৬৯১ থেকে কমে হয়েছে ৭ হাজার ২৮৩, যা প্রায় ৬৩ শতাংশ কম। সরকারি সেবার এই অবস্থা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তবে দেশের জনসংখ্যার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেছেন, ‘২০২৩ সালে বড় ধরনের ক্রয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের জুনে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সংকট আরও তীব্র মনে হয়। তবে সরকার নতুন করে বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে এবং এই খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ সংস্থান করেছে।’
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন