ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে দিন দিন বাড়ছে খালি কনটেইনারের স্তূপ


চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে দিন দিন বাড়ছে খালি কনটেইনারের স্তূপ

চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে দিনদিন খালি কনটেইনারের স্তূপ বড় হচ্ছে।

এতে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।

মূলত বন্দরে খালাস হওয়া আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ফুল কনটেইনার লোড (এফসিএল) বন্দরের ইয়ার্ডেই আনস্টাফিং করা হয়। তাতে প্রতিদিন খালি কনটেইনার তৈরি হচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার। ফলে প্রতিদিনই চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে খালি কনটেইনারের চাপ বাড়ছে। আর ওই সংকট কমিয়ে বন্দর পরিচালনা আরো গতিশীল করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) কাস্টমস বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই সুবিধাজনক স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি চাচ্ছে। তবে ওই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান— না আসায় বন্দরের কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে সুস্থতার পথে বাকৃবি শিক্ষার্থী জীম

চবক এবং বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে কাস্টমস বিধিমালা অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা অফডকের বাইরে অন্য কোথাও খালি কনটেইনার সংরক্ষণ বা স্থানান্তরের সুযোগ নেই। তাতে প্রতিদিন যে পরিমাণ খালি কনটেইনার বন্দর থেকে অফডক বা রপ্তানির জন্য সরানো সম্ভব হয়, তার চেয়ে বেশিসংখ্যক নতুন খালি কনটেইনার ইয়ার্ডে জমা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এমনকি প্রতিবেশী দেশেই শিপিং এজেন্ট ও এমএলওদের (প্রধান লাইন পরিচালনকারী) বন্ড সুবিধাবিহীন স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে নেই। অথচ ওই সুযোগ থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর (আইসিডি) ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে আসবে।

পাশাপাশি বাড়বে বন্দরের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমাসহ লজিস্টিক গতিশীলতা। ওই লক্ষ্যে এনবিআরকে দেয়া একাধিক চিঠিতে বন্ড লাইসেন্স ব্যতিরেকে শিপিং এজেন্টদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ কোনো উপযুক্ত স্থানে খালি কনটেইনার রাখার অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে চবক।

সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট শুধু বন্দরের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই নয় বরং দেশের সাপ্লাই চেইনকেই ফেলছে হুমকির মুখে। কারণ সময়মতো খালি কনটেইনার না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি পণ্য স্টাফিং।

আর তাতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ফলে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের ডেমারেজ খরচ বাড়ছে। সর্বশেষ ওসব অতিরিক্ত ব্যয়ের চূড়ান্ত দায় সাধারণ ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে। অথচ এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে কাস্টমস। ফলে প্রতিনিয়ত বন্দরের লজিস্টিক ব্যয় বাড়ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে বিএনপির লিফলেট বিতরণ, সরকারের উন্নয়ন প্রচারণা ও গুজবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে বন্দর ও ডিপোর বাইরে খালি কনটেইনারের জটে পরিবহনজট তৈরি হচ্ছে। তাতে কঠিন হয়ে পড়ছে সময়মতো পণ্য জাহাজে পাঠানো। পরিস্থিতি উত্তরণে সাময়িক সমাধান হিসেবে কাস্টমসের তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বন্ড ছাড়া নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে খালি কনটেইনার রাখার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যেতে পারে নতুন গড়ে ওঠা বেসরকারি আইসিডিগুলোও।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া খালি কনটেইনার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে কমে আসবে শিপিং এজেন্টদের পরিচালনা ব্যয়।

পাশাপাশি বন্দরের ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জীবনের হুমকির পেছনে বিরোধী দলের উসকানি: রাশেদ খান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধির জন্য দুই বছর সময় দরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০২ এম


জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধির জন্য দুই বছর সময় দরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবকাঠামো তৈরি করে এ থেকে বের হওয়ার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেই সময় দিতে হবে।

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জগুলো এখন স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবকাঠামো তৈরি করে এ থেকে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয় এবং নতুন কূপ খনন করা হয়, তবে জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে। কিন্তু এর জন্য দুই বছর সময় প্রয়োজন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে 'আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের' আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক কর্মশালা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'বর্তমানে দৈনিক জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের চেয়ে দ্বিগুণ।' তিনি বলেন, এই সময় বিশেষ করে বছরের অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যার ফলে সংকটটি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই কারণেই সরকার মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কৃষিখাতে সাফল্যের জন্য সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষিকাজ থেকে সর্বাধিক রিটার্ন তুলে আনা। এই কৃষির অপার সম্ভাবনাকে সরকার কাজে লাগানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মশালা শেষে সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বন বিভাগ আয়োজিত একটি বিভাগীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামিট-এক্সিলারেট চালু, বেড়েছে গ্যাসের সরবরাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ এম


সামিট-এক্সিলারেট চালু, বেড়েছে গ্যাসের সরবরাহ

দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়ে এসেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর, সামিট ও এক্সিলারেট, একসঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করায় দেশে ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আজ শনিবার ভোর থেকে সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।

এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল দৈনিক ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সামিট বর্তমান পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করলেও এক্সিলারেট এখনও আংশিক সক্ষমতায় রয়েছে। স্থানীয় গ্রাহকদের সাময়িক স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে দেশে গ্যাস সরবরাহে একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর কারণেই বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পায়। সেইসঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।

পেট্রোবাংলার সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে এবং প্রতিটির মাধ্যমে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। আগুনে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরটি থেকে ৬ আগস্ট আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়ে গেছে। যদিও শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকলেও, ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

তবে এখনও ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি সচল হয়নি। এটি চালুর জন্য আগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনালের সরবরাহ প্রায় ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। কখন এই পরীক্ষা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এখনও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ হয়নি। এর ফলে এক্সিলারেটের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

এদিকে এলএনজি সংকটের কারণে গত কয়েক দিন সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। সোমবার সরবরাহ কমানো হয় এবং মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দৈনিক মাত্র ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্রবার বঙ্গোপসাগরে ভিটলের একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। এর আগে, টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে সরবরাহ ছিল সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুটের মতো, যা ভোররাতে বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। প্রয়োজনে আরও ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজি জাহাজ বঙ্গোপসাগর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। টার্মিনালের সঙ্গে জাহাজটির এলএনজি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য না থাকায়, সেটি থেকে গ্যাস নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়েছিল। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও ওই জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি ফেরত পাঠানোর পরে এর পরিবর্তে আরেকটি জাহাজ পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে, অধিকাংশ খাতে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে, যা শনিবার বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। তবে, স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে, এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয় হাতছানি দিলেও ফল নিয়ে ভাবছেন না শান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ এম


জয় হাতছানি দিলেও ফল নিয়ে ভাবছেন না শান্ত

 

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দারুণ অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় দিনের খেলার শেষে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিডের কারণে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের হাতে আছে ৬ উইকেট। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা বাংলাদেশের হাতে থাকলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জয় নিয়ে আগাম ভাবতে চান না। তার নজর এখন শুধুমাত্র প্রতিটি সেশন এবং নিজেদের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দিকে।

ডারউইনে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল অন্তত পাঁচদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা। কিন্তু তিন দিনেই সেই পরিকল্পনাকে ছাড়িয়ে গেছে দলটি। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ব্যাট হাতে ২২৮ রানের বড় লিড নেয় বাংলাদেশ।

প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন হাসান মাহমুদ। তার ৬ উইকেটের ওপর ভর করে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দেয়। এরপর ব্যাটারদের পারফরম্যান্স চমৎকার হয়ে এর লিড আরও বড় হয়।

তৃতীয় দিনের খেলায় বাংলাদেশের বোলাররা আবারও অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ তৈরি করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার ফলে ১৬১ রানে থেমে দিন শেষ করতে হয় স্বাগতিকদের। চতুর্থ দিনে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।

এমন অবস্থায় বাংলাদেশের জয় এখন বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে উঠলেও শান্ত সতীর্থদের ফলাফল নিয়ে আগেভাগে ভাবতে দিতে চান না। তিনি তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ফক্স ক্রিকেটকে বলেন, “ফল নিয়ে ভাবছি না। আমরা সেশন ধরে এগোচ্ছি, ফলাফল নয়, এখন প্রক্রিয়াটাই অনুসরণ করছি।”

বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজেদের আগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন। তার মতে, “আমাদের পরিকল্পনা ছিল অন্তত পাঁচ দিন ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করা। কিন্তু গত তিন দিনে আমরা যেভাবে নিজেদের চরিত্র দেখিয়েছি এবং যেভাবে খেলেছি, সেটা অসাধারণ। পুরো দলকে এভাবে খেলতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।”

বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্সে লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের অবদানও আলাদা করে নজর কেড়েছে। দলের নিচের সারির ব্যাটারদের ব্যাট হাতে অবদান বাড়ানোর বিষয়ে শান্ত উল্লেখ করেন, বহুদিন ধরে তারা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সবসময় ভেবেছি, কীভাবে মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংয়ে অবদান রাখতে পারে। আজ বোলাররা দেখিয়েছে তারা ব্যাট হাতে কী করতে পারে। আমরা এই জিনিসটা নিয়েই ২-৩ বছর ধরে কাজ করছি।”

তবে বড় লিড পেয়েও ম্যাচের শেষ ফল নিয়ে কোনো হিসাব করতে রাজি নয় শান্ত। তার পরিকল্পনা সেশনভিত্তিক। কোনভাবে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটগুলো তুলে নেওয়া যায় সেটি এখন দলের মূল ভাবনা।

শান্ত বলেন, “আমরা সেশন বাই সেশন পরিকল্পনা করছি। ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমাদের পরিকল্পনা ধরে আগাচ্ছি। কীভাবে আমরা উইকেটগুলো নিতে পারি, আমরা শুধু সেটাই ভাবছি। আমাদের বোলাররা যেভাবে এই কন্ডিশনে বোলিং করছে, তা সত্যিই দারুণ।”

বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হলেও অস্ট্রেলিয়ার সামনে ম্যাচে ফেরার জন্য এখনো সুযোগ রয়েছে। ফক্স উইনের হিসাব অনুযায়ী স্বাগতিকদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ১৫ শতাংশ। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার মার্ক ওয়াহ মনে করেন, চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, “আগামীকাল প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়া যদি কোনো উইকেট না হারায় এবং ৬৭ রানের ঘাটতি মুছে ফেলতে পারে, তাহলে তাদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশে উঠে যেতে পারে।”

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এখন ক্রিজে রয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স কেয়ারি। গ্রিন ৪৩ রানে অপরাজিত, আর কেয়ারির সংগ্রহ ১৯ রান। চতুর্থ দিনের শুরুতে স্বাগতিকদের নজর এই জুটির দিকে থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচনার মধ্যে থাকা গ্রিনের জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার অ্যালিসা হিলি। তার মতে, বড় ইনিংস খেলে গ্রিন অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরানোর সুযোগ করে দিতে পারেন।

হিলি বলেন, “ক্যামেরন গ্রিনের জন্য এটা বড় একটি ইনিংস হতে যাচ্ছে। আগামীকাল যদি সে ভালোভাবে শুরু করতে পারে, বড় রান করতে পারে এবং বাইরের সমালোচনা কিছুটা থামিয়ে দিতে পারে, তাহলে সে অস্ট্রেলিয়াকে সত্যিই জয়ের সুযোগ এনে দিতে পারে।”

বাংলাদেশের জন্য তাই চতুর্থ দিনটি হতে পারে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে শান্তর বার্তা পরিষ্কার, ফলাফল নিয়ে নয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি সেশন শেষ করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পপতারকা সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১২ এম


পপতারকা সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০২১ সালে মা ম্যান্ডি টিফির সঙ্গে মিলে ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড গ্লোবাল’ নামের একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পপতারকা সেলেনা গোমেজ। প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি এখন গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়ে গিয়েছে। ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার ফেডারেল আদালতে সেলেনার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ জন বিনিয়োগকারী।

নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডাভিত্তিক এই বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ হল, সেলেনার তারকাখ্যাতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা পঞ্চাশ কোটির বেশি অনুসারীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য সাফল্য নিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। ২০২১ সালে শুরু হওয়া ওয়ান্ডারমাইন্ডে সেলেনা সহপ্রতিষ্ঠাতা, চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার ও চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সাফল্যের আশায় পাঁচ বিনিয়োগকারী মোট প্রায় ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, যা এখন তাঁরা ক্ষতিপূরণসহ ফেরত চাইছেন।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ রয়েছে যে, ব্র্যান্ডটিকে প্রসারের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখার এবং প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার জন্য সেলেনা চুক্তি করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে তাঁরা অর্থ প্রতিষ্ঠানে ঢেলেছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘সেলেনা গোমেজ কাজ করার অঙ্গীকার করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ভান করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন।’ ২০২২ সালে ওয়ান্ডারমাইন্ড নিজেদের মূলধন প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে করপোরেট অংশীদারত্ব, বিজ্ঞাপন চুক্তি, তারকাদের কভার স্টোরি এবং নতুন একটি অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছিল। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব প্রতিশ্রুতির কোনোটিই শেষমেশ বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থার কারণে কর্মীদের বেতন এবং ফ্রিল্যান্সার-ভেন্ডরদের পাওনা পরিশোধের মতো মৌলিক দায়ও যথাসময়ে দেওয়া যায়নি। বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, ‘এখানে লাভজনক তো দূরের কথা, কোনো বাস্তবমুখী বা নীতিগত উদ্যোগই ছিল না।’ মামলায় সেলেনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তাঁর মা ও প্রতিষ্ঠানের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকে। তাঁদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, আইনগত প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, সেলেনা, ম্যান্ডি ও পিয়ারসন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় নব্বই শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন। পিয়ারসন নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ষাট হাজার ডলার বিনিয়োগকারীদের অর্থ থেকে খরচ করতেন। ২০২৩ সালে পিয়ারসন প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেন।

বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের সংকটময় অবস্থার কথা তাঁরা প্রায় তিন বছর ধরে গোপন রাখছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য কাট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়, ওয়ান্ডারমাইন্ড চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ম্যান্ডি টিফির মাদকাসক্তি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে সেলেনার দায়িত্ব এড়ানোর বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।

পপতারকা ও অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরে, সেলেনা গোমেজ সফল বিউটি ব্র্যান্ড ‘রেয়ার বিউটি’র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ২০২৪ সালে বিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিশ্বের অন্যতম ধনী শিল্পীর তালিকায় তিনি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থা প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

মামলা এবং ওয়ান্ডারমাইন্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সেলেনা গোমেজ বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিনিয়োগকারীরা তাঁদের মূল বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ আদায়ের জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%