প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০২১ সালে মা ম্যান্ডি টিফির সঙ্গে মিলে ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড গ্লোবাল’ নামের একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পপতারকা সেলেনা গোমেজ। প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি এখন গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়ে গিয়েছে। ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার ফেডারেল আদালতে সেলেনার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ জন বিনিয়োগকারী।
নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডাভিত্তিক এই বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ হল, সেলেনার তারকাখ্যাতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা পঞ্চাশ কোটির বেশি অনুসারীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য সাফল্য নিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। ২০২১ সালে শুরু হওয়া ওয়ান্ডারমাইন্ডে সেলেনা সহপ্রতিষ্ঠাতা, চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার ও চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সাফল্যের আশায় পাঁচ বিনিয়োগকারী মোট প্রায় ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, যা এখন তাঁরা ক্ষতিপূরণসহ ফেরত চাইছেন।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ রয়েছে যে, ব্র্যান্ডটিকে প্রসারের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখার এবং প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার জন্য সেলেনা চুক্তি করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে তাঁরা অর্থ প্রতিষ্ঠানে ঢেলেছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘সেলেনা গোমেজ কাজ করার অঙ্গীকার করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ভান করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন।’ ২০২২ সালে ওয়ান্ডারমাইন্ড নিজেদের মূলধন প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে করপোরেট অংশীদারত্ব, বিজ্ঞাপন চুক্তি, তারকাদের কভার স্টোরি এবং নতুন একটি অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছিল। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব প্রতিশ্রুতির কোনোটিই শেষমেশ বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থার কারণে কর্মীদের বেতন এবং ফ্রিল্যান্সার-ভেন্ডরদের পাওনা পরিশোধের মতো মৌলিক দায়ও যথাসময়ে দেওয়া যায়নি। বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, ‘এখানে লাভজনক তো দূরের কথা, কোনো বাস্তবমুখী বা নীতিগত উদ্যোগই ছিল না।’ মামলায় সেলেনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তাঁর মা ও প্রতিষ্ঠানের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকে। তাঁদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, আইনগত প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, সেলেনা, ম্যান্ডি ও পিয়ারসন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় নব্বই শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন। পিয়ারসন নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ষাট হাজার ডলার বিনিয়োগকারীদের অর্থ থেকে খরচ করতেন। ২০২৩ সালে পিয়ারসন প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেন।
বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের সংকটময় অবস্থার কথা তাঁরা প্রায় তিন বছর ধরে গোপন রাখছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য কাট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়, ওয়ান্ডারমাইন্ড চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ম্যান্ডি টিফির মাদকাসক্তি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে সেলেনার দায়িত্ব এড়ানোর বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।
পপতারকা ও অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরে, সেলেনা গোমেজ সফল বিউটি ব্র্যান্ড ‘রেয়ার বিউটি’র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ২০২৪ সালে বিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিশ্বের অন্যতম ধনী শিল্পীর তালিকায় তিনি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থা প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
মামলা এবং ওয়ান্ডারমাইন্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সেলেনা গোমেজ বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিনিয়োগকারীরা তাঁদের মূল বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ আদায়ের জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন