০৩:০৫ এম
দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়ে এসেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর, সামিট ও এক্সিলারেট, একসঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করায় দেশে ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ শনিবার ভোর থেকে সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল দৈনিক ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সামিট বর্তমান পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করলেও এক্সিলারেট এখনও আংশিক সক্ষমতায় রয়েছে। স্থানীয় গ্রাহকদের সাময়িক স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে দেশে গ্যাস সরবরাহে একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর কারণেই বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পায়। সেইসঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।
পেট্রোবাংলার সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে এবং প্রতিটির মাধ্যমে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। আগুনে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরটি থেকে ৬ আগস্ট আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়ে গেছে। যদিও শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকলেও, ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
তবে এখনও ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি সচল হয়নি। এটি চালুর জন্য আগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনালের সরবরাহ প্রায় ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। কখন এই পরীক্ষা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এখনও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ হয়নি। এর ফলে এক্সিলারেটের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেবেন ডা. জুবাইদা রহমান
এদিকে এলএনজি সংকটের কারণে গত কয়েক দিন সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। সোমবার সরবরাহ কমানো হয় এবং মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দৈনিক মাত্র ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার বঙ্গোপসাগরে ভিটলের একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। এর আগে, টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে সরবরাহ ছিল সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুটের মতো, যা ভোররাতে বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। প্রয়োজনে আরও ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে, সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজি জাহাজ বঙ্গোপসাগর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। টার্মিনালের সঙ্গে জাহাজটির এলএনজি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য না থাকায়, সেটি থেকে গ্যাস নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়েছিল। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও ওই জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি ফেরত পাঠানোর পরে এর পরিবর্তে আরেকটি জাহাজ পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে, অধিকাংশ খাতে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, সহিংসতা কমেছে : ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে, যা শনিবার বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। তবে, স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে, এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন