ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সামিট-এক্সিলারেট চালু, বেড়েছে গ্যাসের সরবরাহ


সামিট-এক্সিলারেট চালু, বেড়েছে গ্যাসের সরবরাহ

দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়ে এসেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর, সামিট ও এক্সিলারেট, একসঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করায় দেশে ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আজ শনিবার ভোর থেকে সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।

এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল দৈনিক ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সামিট বর্তমান পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করলেও এক্সিলারেট এখনও আংশিক সক্ষমতায় রয়েছে। স্থানীয় গ্রাহকদের সাময়িক স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে দেশে গ্যাস সরবরাহে একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর কারণেই বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পায়। সেইসঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।

পেট্রোবাংলার সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে এবং প্রতিটির মাধ্যমে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। আগুনে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরটি থেকে ৬ আগস্ট আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়ে গেছে। যদিও শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকলেও, ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

তবে এখনও ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি সচল হয়নি। এটি চালুর জন্য আগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনালের সরবরাহ প্রায় ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। কখন এই পরীক্ষা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এখনও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ হয়নি। এর ফলে এক্সিলারেটের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেবেন ডা. জুবাইদা রহমান

এদিকে এলএনজি সংকটের কারণে গত কয়েক দিন সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। সোমবার সরবরাহ কমানো হয় এবং মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দৈনিক মাত্র ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্রবার বঙ্গোপসাগরে ভিটলের একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। এর আগে, টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে সরবরাহ ছিল সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুটের মতো, যা ভোররাতে বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। প্রয়োজনে আরও ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজি জাহাজ বঙ্গোপসাগর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। টার্মিনালের সঙ্গে জাহাজটির এলএনজি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য না থাকায়, সেটি থেকে গ্যাস নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়েছিল। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও ওই জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি ফেরত পাঠানোর পরে এর পরিবর্তে আরেকটি জাহাজ পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে, অধিকাংশ খাতে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, সহিংসতা কমেছে : ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে, যা শনিবার বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। তবে, স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে, এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয় হাতছানি দিলেও ফল নিয়ে ভাবছেন না শান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ এম


জয় হাতছানি দিলেও ফল নিয়ে ভাবছেন না শান্ত

 

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দারুণ অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় দিনের খেলার শেষে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিডের কারণে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের হাতে আছে ৬ উইকেট। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা বাংলাদেশের হাতে থাকলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জয় নিয়ে আগাম ভাবতে চান না। তার নজর এখন শুধুমাত্র প্রতিটি সেশন এবং নিজেদের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দিকে।

ডারউইনে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল অন্তত পাঁচদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা। কিন্তু তিন দিনেই সেই পরিকল্পনাকে ছাড়িয়ে গেছে দলটি। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ব্যাট হাতে ২২৮ রানের বড় লিড নেয় বাংলাদেশ।

প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন হাসান মাহমুদ। তার ৬ উইকেটের ওপর ভর করে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দেয়। এরপর ব্যাটারদের পারফরম্যান্স চমৎকার হয়ে এর লিড আরও বড় হয়।

তৃতীয় দিনের খেলায় বাংলাদেশের বোলাররা আবারও অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ তৈরি করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার ফলে ১৬১ রানে থেমে দিন শেষ করতে হয় স্বাগতিকদের। চতুর্থ দিনে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।

এমন অবস্থায় বাংলাদেশের জয় এখন বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে উঠলেও শান্ত সতীর্থদের ফলাফল নিয়ে আগেভাগে ভাবতে দিতে চান না। তিনি তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ফক্স ক্রিকেটকে বলেন, “ফল নিয়ে ভাবছি না। আমরা সেশন ধরে এগোচ্ছি, ফলাফল নয়, এখন প্রক্রিয়াটাই অনুসরণ করছি।”

বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজেদের আগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন। তার মতে, “আমাদের পরিকল্পনা ছিল অন্তত পাঁচ দিন ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করা। কিন্তু গত তিন দিনে আমরা যেভাবে নিজেদের চরিত্র দেখিয়েছি এবং যেভাবে খেলেছি, সেটা অসাধারণ। পুরো দলকে এভাবে খেলতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।”

বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্সে লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের অবদানও আলাদা করে নজর কেড়েছে। দলের নিচের সারির ব্যাটারদের ব্যাট হাতে অবদান বাড়ানোর বিষয়ে শান্ত উল্লেখ করেন, বহুদিন ধরে তারা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সবসময় ভেবেছি, কীভাবে মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংয়ে অবদান রাখতে পারে। আজ বোলাররা দেখিয়েছে তারা ব্যাট হাতে কী করতে পারে। আমরা এই জিনিসটা নিয়েই ২-৩ বছর ধরে কাজ করছি।”

তবে বড় লিড পেয়েও ম্যাচের শেষ ফল নিয়ে কোনো হিসাব করতে রাজি নয় শান্ত। তার পরিকল্পনা সেশনভিত্তিক। কোনভাবে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটগুলো তুলে নেওয়া যায় সেটি এখন দলের মূল ভাবনা।

শান্ত বলেন, “আমরা সেশন বাই সেশন পরিকল্পনা করছি। ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমাদের পরিকল্পনা ধরে আগাচ্ছি। কীভাবে আমরা উইকেটগুলো নিতে পারি, আমরা শুধু সেটাই ভাবছি। আমাদের বোলাররা যেভাবে এই কন্ডিশনে বোলিং করছে, তা সত্যিই দারুণ।”

বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হলেও অস্ট্রেলিয়ার সামনে ম্যাচে ফেরার জন্য এখনো সুযোগ রয়েছে। ফক্স উইনের হিসাব অনুযায়ী স্বাগতিকদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ১৫ শতাংশ। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার মার্ক ওয়াহ মনে করেন, চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, “আগামীকাল প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়া যদি কোনো উইকেট না হারায় এবং ৬৭ রানের ঘাটতি মুছে ফেলতে পারে, তাহলে তাদের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশে উঠে যেতে পারে।”

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এখন ক্রিজে রয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স কেয়ারি। গ্রিন ৪৩ রানে অপরাজিত, আর কেয়ারির সংগ্রহ ১৯ রান। চতুর্থ দিনের শুরুতে স্বাগতিকদের নজর এই জুটির দিকে থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচনার মধ্যে থাকা গ্রিনের জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার অ্যালিসা হিলি। তার মতে, বড় ইনিংস খেলে গ্রিন অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরানোর সুযোগ করে দিতে পারেন।

হিলি বলেন, “ক্যামেরন গ্রিনের জন্য এটা বড় একটি ইনিংস হতে যাচ্ছে। আগামীকাল যদি সে ভালোভাবে শুরু করতে পারে, বড় রান করতে পারে এবং বাইরের সমালোচনা কিছুটা থামিয়ে দিতে পারে, তাহলে সে অস্ট্রেলিয়াকে সত্যিই জয়ের সুযোগ এনে দিতে পারে।”

বাংলাদেশের জন্য তাই চতুর্থ দিনটি হতে পারে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে শান্তর বার্তা পরিষ্কার, ফলাফল নিয়ে নয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি সেশন শেষ করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পপতারকা সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১২ এম


পপতারকা সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০২১ সালে মা ম্যান্ডি টিফির সঙ্গে মিলে ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড গ্লোবাল’ নামের একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পপতারকা সেলেনা গোমেজ। প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি এখন গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়ে গিয়েছে। ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার ফেডারেল আদালতে সেলেনার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ জন বিনিয়োগকারী।

নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডাভিত্তিক এই বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ হল, সেলেনার তারকাখ্যাতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা পঞ্চাশ কোটির বেশি অনুসারীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য সাফল্য নিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। ২০২১ সালে শুরু হওয়া ওয়ান্ডারমাইন্ডে সেলেনা সহপ্রতিষ্ঠাতা, চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার ও চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সাফল্যের আশায় পাঁচ বিনিয়োগকারী মোট প্রায় ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, যা এখন তাঁরা ক্ষতিপূরণসহ ফেরত চাইছেন।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ রয়েছে যে, ব্র্যান্ডটিকে প্রসারের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখার এবং প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার জন্য সেলেনা চুক্তি করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে তাঁরা অর্থ প্রতিষ্ঠানে ঢেলেছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘সেলেনা গোমেজ কাজ করার অঙ্গীকার করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ভান করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন।’ ২০২২ সালে ওয়ান্ডারমাইন্ড নিজেদের মূলধন প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে করপোরেট অংশীদারত্ব, বিজ্ঞাপন চুক্তি, তারকাদের কভার স্টোরি এবং নতুন একটি অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছিল। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব প্রতিশ্রুতির কোনোটিই শেষমেশ বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থার কারণে কর্মীদের বেতন এবং ফ্রিল্যান্সার-ভেন্ডরদের পাওনা পরিশোধের মতো মৌলিক দায়ও যথাসময়ে দেওয়া যায়নি। বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, ‘এখানে লাভজনক তো দূরের কথা, কোনো বাস্তবমুখী বা নীতিগত উদ্যোগই ছিল না।’ মামলায় সেলেনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তাঁর মা ও প্রতিষ্ঠানের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকে। তাঁদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, আইনগত প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, সেলেনা, ম্যান্ডি ও পিয়ারসন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় নব্বই শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন। পিয়ারসন নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ষাট হাজার ডলার বিনিয়োগকারীদের অর্থ থেকে খরচ করতেন। ২০২৩ সালে পিয়ারসন প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেন।

বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের সংকটময় অবস্থার কথা তাঁরা প্রায় তিন বছর ধরে গোপন রাখছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য কাট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়, ওয়ান্ডারমাইন্ড চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ম্যান্ডি টিফির মাদকাসক্তি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে সেলেনার দায়িত্ব এড়ানোর বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।

পপতারকা ও অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরে, সেলেনা গোমেজ সফল বিউটি ব্র্যান্ড ‘রেয়ার বিউটি’র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ২০২৪ সালে বিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিশ্বের অন্যতম ধনী শিল্পীর তালিকায় তিনি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থা প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

মামলা এবং ওয়ান্ডারমাইন্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সেলেনা গোমেজ বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিনিয়োগকারীরা তাঁদের মূল বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ আদায়ের জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের গুলি বিনিময়, গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ এম


নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের গুলি বিনিময়, গ্রেপ্তার ২

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া রেললাইন এলাকায় পুলিশের মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বিকেলে, চাষাড়া ডাক বাংলোর উল্টোদিকের গলির আরবান স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এই অভিযান চলাকালীন একটি বিদেশি পিস্তলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বিকেলে আরবান স্কুলের সামনে সাত থেকে আটজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময়, মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে একটি গুলি ছোঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে পাল্টা আট রাউন্ড গুলি চালানো হয়। সেই সময় অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী জসিম (২৪) ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, বলেছিলেন তিনি।

এই ঘটনার ফলে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— এসআই মো. রফিক, এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার এবং রাশিদুল। গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন— জসিম (২৪) ও মোহন (২৩)। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর ৪৫তম মঞ্চায়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ এম


ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর ৪৫তম মঞ্চায়ন

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার এবং হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস নিয়ে গড়া নাটক ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ আবারও মঞ্চে উঠতে যাচ্ছে। ঢাকার অন্যতম নাট্যদল ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম এই প্রযোজনার ৪৫তম মঞ্চায়ন হবে রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে।

নাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। মাসুম আজিজের মৃত্যুর পর নবনির্দেশনার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ পরিকল্পনায় নতুন মাত্রাও যোগ করেছেন।

মহলজুড়ে মঞ্চায়নের শুরু থেকেই নাটকটি দর্শক ও মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নান্দনিক নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের অন্যতম আলোচিত প্রযোজনা। নাটকটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের দিল্লিতেও দুটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হয়েছে এবং সেখানে দর্শক ও নাট্য সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা নিয়ে নাদের চৌধুরী বলেন, ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। মাসুম আজিজ ভাই এটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর উপস্থিতির পর প্রয়োজন অনুযায়ী অলংকরণ করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক নাটকটি বর্তমান প্রজন্মের দেখা উচিত।’

নাটকটি প্রায় চল্লিশটি চরিত্র নিয়ে নির্মিত হয়েছে এবং এতে সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অম্বিকা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিলের মতো উল্লেখযোগ্য চরিত্র রয়েছে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, হাসনাহেনা শিল্পী, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, আক্তার হোসেন, তারেক আলী মিলন, রবিউল মিলটন, আতিকুর রহমান, কাজি সম্রাট, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, নূর, জাহিদসহ আরও অনেকে। নাটকের আলোক পরিকল্পনায় আছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল, আর মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় শ্যামল হাসান দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর নাটকটি দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মাধ্যমে ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকের মধ্যে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। এদিকে আগামী বছর মাস্টারদা সূর্যসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামে নাটকটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজনের আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি এই বিশেষ প্রদর্শনী চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%