১২:৫৯ পি.এম
জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে অন্যান্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
এ কারণে জুমার দিনে মুমিনদের হৃদয়ে মমতা এবং হৃদ্যতার অপার্থিব সুখ ফুটে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই দিন কিছু বিশেষ ইবাদত এবং আমল রয়েছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে দেখা যায়। নিম্নে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো—
এক. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা: আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন।
আরও পড়ুন: ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামতে হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার জন্য
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)
জুমার দিনে মহানবী (সা.) জুমার নামাজের ফজরে এই সুরাগুলো তিলাওয়াত করতেন। এই সুরাগুলোর মধ্যে আল্লাহ সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সকলের সমবেত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়গুলো জুমার দিনে হবে, এজন্য উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
দুই. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের পাঠানো দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
তিন. জুমার নামাজ আদায় করা: ইসলামের ফরজ বিধানগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পরে এদিন সবচেয়ে বেশি মানুষ একত্রিত হয়। যারা জুমার নামাজকে অলসতা করে কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।
আরও পড়ুন: বাগাতিপাড়ায় মাদক ও বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা
চার. গোসল করা: এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) বলেন, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে। (তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)
পাঁচ. সুগন্ধি ব্যবহার করা: অন্য দিনের তুলনায় জুমার দিনে অধিক পরিমাণে সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)
ছয়. দ্রুত মসজিদে যাওয়া: জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।
seven. ইবাদতে মশগুল থাকা: ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।
আরও পড়ুন: অ্যাপল গ্লোবাল টেলরের এমডি-চেয়ারম্যানকে ২২ বছরের কারাদণ্ড, ৯২৬ কোটি টাকা জরিমানা
aat. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)
নয়. সুরা কাহফ পড়া: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যে সময় জ্যোতির্ময় হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)
দশ. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা: নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি তেলাওয়াত করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)
কিছু কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।
আরও পড়ুন: গাড়ি থেকে সরকারি লোগো খুলে ফেললেন ইশরাক
এগার. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা: আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, তারপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দু’জনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)
বারো. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো: ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।
তেরো. ক্ষমা প্রার্থনা করা: এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, যদি কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করার সময় নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি তিনি মহৎ গুনাহ থেকে বিরত থাকেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)
চৌদ্দ. মৃতদের জন্য দোয়া করা: জুমার দিনে কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছিলেন, জুমার দিন ছাড়া (বাকি দিনগুলোতে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)
আরও পড়ুন: ১ ডিসেম্বর ইউএনও সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটি এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটা নিশ্চিত নয়।
পনের. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)
বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)
আরও পড়ুন: মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার তাগিদ: শিক্ষামন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন