১০:৫০ এম
ভাই, বছরের পর বছর ধরে হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করার পর শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিবহন শ্রমিকদের ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য ছাড়া’ আর কী করেন? রাজধানীর এক বাসচালকের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার মন্তব্যে অনেকে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি রাষ্ট্রের নীতির অংশ, যা ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়।
রোববার (২১ জুন) ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি থেকে ওই বাসচালকের নাম কিংবা পরিচয় জানা যায়নি।
বাসচালক বলেন, সর্বনিম্ন ২০ বছর ধরে পিঠে কইরা বা গাড়িতে কইরা এসব শিক্ষার্থীদের বহন করি। এই স্টুডেন্টরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমাদের সাধারণ শ্রমিকদের জন্য কী করছে?
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে নানান তাত্ত্বিক আলোচনা চললেও একজন শ্রমিকের মুখে এ ধরনের প্রশ্ন অনেকের কাছে নতুন মনে হয়েছে। ভিডিওটির নিচে উপস্থিত হাজারো মন্তব্যে নেটিজেনরা লিখেছেন, ছাত্রজীবনে তারা দীর্ঘ সময় ধরে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন, কিন্তু এর পেছনে শ্রমিকদের ত্যাগ বা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি কখনো এভাবে ভাবেননি।
চালকের বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও তার জন্য শিক্ষার্থীদের কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন।
তার ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই দশক পর্যন্ত হাফ ভাড়ার সুবিধা ভোগ করে। এই সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু যখন সেই শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন শ্রমিকদের জন্য তাদের অবদান বা সাহায্যের কোনো চিহ্ন চোখে পড়ে না।
তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থী একসময় হাফ ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করতো, সে পরে ডাক্তার, প্রকৌশলী, পুলিশ কর্মকর্তা অথবা বিচারক হয়ে যায়। কিন্তু কখনো কি তারা পরিবহন শ্রমিকদের জন্য তাদের সেবার মূল্য কমিয়েছে? চালকের ভাষায়, অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকেও অন্যদের মতো পূর্ণ ফি দিতে হয়, যদিও সেই চিকিৎসক একসময় তার কাছ থেকে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩
তিনি বলেন, উনি ১০ জনের থেকে যে ভিজিট নিছেন, আমার কাছ থেকেও একই ভিজিট উঠিয়েছেন; তবে আমার কাছে তো ২০ বছর উনি হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন।
ভিডিওটিতে পরিবহন শ্রমিকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও উঠে এসেছে। চালকের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের নিজের ভাতিজা, ভাগিনা, ছোট ভাই কিংবা সন্তান হিসেবে দেখেন। তাদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অনেকেই সেই শ্রমিকদের প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব প্রকাশ করেন।
চালকের অভিযোগ, যখন ভাড়া বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে সামান্য বিরোধ তৈরি হয়, তখন অনেক সময় শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে বাস আটকে দেন, শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং মালিকপক্ষের কাছে অভিযোগ তুলে শাস্তির ব্যবস্থা করেন।
তিনি বলেন, যখন সামান্য কিছু সমস্যা ঘটে, তখন তারা ভাবেন না যে এটা আমার বাবা হতে পারে বা বড় ভাই হতে পারে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তবে ভিডিওটির মন্তব্যঘরে সবাই তার সঙ্গে একমত হয়েছেন, তা নয়। অখিল মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, এটি সরকারি নীতি। দেশে চলতে হলে আইন মানতেই হবে। স্টুডেন্টদের প্রতিদিন চলতে হয়। তাদের বড় হয়ে দেশের কাজে লাগে। দেশের স্বার্থে এতটুকু করতেই হবে।
অখিল মাহমুদকে আরেকজন আবার রিপ্লাই দিয়েছেন, এসব বাধ্যকর আইন কি শুধু গরিব শ্রমিকদের জন্যই?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন