প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এ ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের উপরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং ডিজিটাল আসক্তি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে দেশটির মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং এটি অনুমোদিত হয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন নীতিমালা অনুসারে ১৫ বছরের নিচে কোনও শিশু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার) অথবা স্ন্যাপচ্যাটে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট গ্রহণ বা ব্যবহার করতে পারবে না। তাদের পোস্ট করা, মন্তব্য করা, পাবলিক গ্রুপে অংশ নেওয়া বা অনলাইন আলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগও থাকবে না। এর সঙ্গে, অভিভাবকের অনুমতিও এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম হিসেবে অগ্রহণযোগ্য হবে।
তবে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সীমিত আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বয়সের ব্যবহারকারীদের জন্য বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ ফিচার নিষ্ক্রিয় করাসহ এবং বাধ্যতামূলক প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার মতো কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাই পদ্ধতি স্থাপন করতে হবে। এই জন্য ডিজিটাল আইডি, পরিচয়পত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু ব্যবহারকারীর দেওয়া বয়স বা তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
নতুন নীতিমালায় শিশুদের অনলাইন কার্যকলাপ বা আগ্রহ অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য নিয়মবহির্ভূত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা এবং বয়সসীমা এড়ানোর চেষ্টা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়ন ও এর তদারকির বিস্তারিত নির্দেশনা আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। সরকারি গেজেটে এ আইনটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা কার্যকর হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাসের সময় দেওয়া হবে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুদের জন্য নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ ও বয়সোপযোগী ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ হচ্ছে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে অভিভাবকদের নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহার, স্ক্রিন টাইম ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হবে।
এছাড়াও, স্কুলগুলোতে ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিরাপদ অনলাইন আচরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম নতুন নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয় তবে প্রশাসনিক জরিমানা, আংশিক নিষেধাজ্ঞা অথবা গুরুতর ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।
ইউএই সরকারের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য সারা বিশ্বে স্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। শিশুদের বিভিন্ন পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার পার্থক্যকে বিবেচনায় নিয়ে ১৫ বছর বয়সের সীমাকে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির দাবি, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার জন্য বিশ্বজুড়ে যে উদ্যোগ চলছে, তাদের নতুন কাঠামোও তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন