০২:৪৮ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি বসতবাড়ি সহ ৩টি ঘর ও ১টি গাভী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় গবাদিপশু আগুনের থেকে বাঁচতে গিয়ে একজন পথচারী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার বেগতিক দেখে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেজাউল হাওলাদারের বসতবাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, মূল্যবান সামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে যায়। পরে কালকিনি ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের একটি দল এসে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩টি গবাদি পশু দগ্ধ হয় এবং একটি ঘটনাস্থলাই পুড়ে মারা যায়। এতে করে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হয়। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ অবস্থায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি দিশেহারা।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আশা ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের লিডার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ট্রিপল নাইনের সংবদে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। ঘটনাটি তদন্ত করে আগুনের সূত্রপাত সহ ক্ষতির পরিমাণ জানানো হবে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাউল শিল্পী বিথী দেওয়ানের রহস্যজনক অসুস্থতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর গ্রামের সেলিম মিয়াকে নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ফুলেরঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিল্পী বিথী দেওয়ান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের কারণে তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, বিথী দেওয়ানকে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অসুস্থ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে আসে ভৈরবের আগানগর গ্রামের সেলিম মিয়ার নাম।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সেলিম মিয়া বলেন, “বিথী দেওয়ান বিভিন্ন স্থানে গান গাইতে গেলে আমি প্রায়ই সঙ্গে যাই। তাকে বিভিন্ন সময়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকশিস দিয়ে থাকি। ঘটনার দিনও আমরা একসঙ্গে সিএনজিযোগে যাতায়াত করছিলাম। হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পরে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিথী দেওয়ানের মা নিজেই তাকে মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গে থাকার অনুরোধ করেছিলেন।
ঘটনার দিন হাসপাতালে গিয়ে বিথী দেওয়ানের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি সেলিমকে চিনি না। আমার মেয়ে অসুস্থ, তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না।”
ঘটনার কয়েকদিন পর বিথী দেওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি মানসিকভাবে চাপে ছিলাম। তাই নিজের ইচ্ছায় ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলাম। কটিয়াদীর পারভেজ ভাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”
অন্যদিকে পারভেজ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।”
হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন ইউটিউবার জানান, বিথীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তার মা হাসপাতালে এসে প্রথমে সেলিম মিয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মতে, পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আগানগর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “সেলিম মিয়া বিভিন্ন বাউল অনুষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ অর্থ বকশিস দেন। তার আয়ের উৎস নিয়ে এলাকায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত।”
এদিকে ভৈরবের বাউল গানের গীতিকার রেজাউল বলেন, কিছু মেয়ে বাউল শিল্পীদের কারণে বর্তমানে বাউল গান বিলুপ্ত হওয়ার পথে। আমি বাউল সংঘটনের প্রতি অনুরোধ করছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, বাউল গানের শ্রোতা ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিথী দেওয়ানের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এ ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর বেলাব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর দিকনির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত আসামি, মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্তসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন— মরিচাকান্দি গ্রামের মোঃ হোসেন, ধুকুন্দি (নয়াবাগ) গ্রামের মোঃ আশরাফুল রহমান শুভ এবং দিঘলদী কান্দাচরভাগবের এলাকার মোঃ মোরশেদ আলম রিপন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— ভাটেরচর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মকবুল হোসেন (৪২), মরিচাকান্দি (মধ্যপাড়া) গ্রামের টুটুল (২২), সররাবাদ (উত্তরপাড়া) গ্রামের মোঃ মোশারফ হোসেন (৪০) এবং সররাবাদ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আকরাম হোসেন (২৪)।
এছাড়া ৮ জুন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ইয়াবা সেবনের অপরাধে মোঃ সাব্বির (২২), এবাদত মিয়া (২২), অনিক লাল (২০), মোঃ রমিম (২০), মোঃ মেহেদী (২২), খোরশেদ (৩৬), উবায়দুল্লাহ (৩৩) এবং কাউছার (২০)-কে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজনকে ১২ মাস, ১৮ মাস ও ২০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুইজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় যথাক্রমে ২ মাস ও ৪০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে নরসিংদী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বেলাব থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বন্ধুদের সঙ্গে নিজের জন্মদিন পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতের বিভীষিকাময় ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরশহরের মাজার রোড মোড় এলাকায়। নিহত রবিন স্থানীয় সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পেশায় রাজমিস্ত্রী মোফাজ্জল হোসেনের ছেলেরূপে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে রবিন স্থানীয় ডাকবাংলো চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিনের উদযাপনের জন্য কেক কাটেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বন্ধু শাকিবুল হাসান মাসুমের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাজার রোড মোড়ে পৌঁছানোর পর পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মুখোশধারী ৬/৭ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল তাদের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে দেয়।
কিছু বুঝে ওঠার আগে সন্ত্রাসীরা নাহিয়ান ও তার বন্ধুর মুখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। এতে তারা পুরোপুরি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাহিয়ানকে এলোমেলোভাবে কোপাতে শুরু করে। এ সময়ে মাসুম কোনোভাবে দৌড়ে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও রবিন রেহাই পাননি। সন্ত্রাসীরা তাকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেও অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।
মাসুম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "আমরা কেক কেটে আনন্দে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলাম। মাজার রোড মোড়ে এসে হঠাৎ ৬-৭ জন মুখ বাঁধা অস্ত্রধারী সামনে দাঁড়িয়ে যায়। চোখের পলকে তারা আমাদের চোখে মরিচের গুঁড়ো মারে। তখন আমরা কিছু দেখতে পারছিলাম না। ওই অবস্থায় তারা হামলা চালায়। আমি কোনোভাবে দৌড়ে বাঁচলেও তারা রবিনকে শেষ করে দেয়।"
রবিনের অকাল মৃত্যুতে এলাকার মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা মোফাজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "এই ছেলেকে নিয়েই আমি বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন দেখেছিলাম। আজ সন্ত্রাসীরা আমার সেই বুক খালি করে দিয়েছে, আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।"
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ