প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বন্ধুদের সঙ্গে নিজের জন্মদিন পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতের বিভীষিকাময় ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরশহরের মাজার রোড মোড় এলাকায়। নিহত রবিন স্থানীয় সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পেশায় রাজমিস্ত্রী মোফাজ্জল হোসেনের ছেলেরূপে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে রবিন স্থানীয় ডাকবাংলো চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিনের উদযাপনের জন্য কেক কাটেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বন্ধু শাকিবুল হাসান মাসুমের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাজার রোড মোড়ে পৌঁছানোর পর পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মুখোশধারী ৬/৭ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল তাদের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে দেয়।
কিছু বুঝে ওঠার আগে সন্ত্রাসীরা নাহিয়ান ও তার বন্ধুর মুখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। এতে তারা পুরোপুরি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাহিয়ানকে এলোমেলোভাবে কোপাতে শুরু করে। এ সময়ে মাসুম কোনোভাবে দৌড়ে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও রবিন রেহাই পাননি। সন্ত্রাসীরা তাকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেও অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।
মাসুম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "আমরা কেক কেটে আনন্দে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলাম। মাজার রোড মোড়ে এসে হঠাৎ ৬-৭ জন মুখ বাঁধা অস্ত্রধারী সামনে দাঁড়িয়ে যায়। চোখের পলকে তারা আমাদের চোখে মরিচের গুঁড়ো মারে। তখন আমরা কিছু দেখতে পারছিলাম না। ওই অবস্থায় তারা হামলা চালায়। আমি কোনোভাবে দৌড়ে বাঁচলেও তারা রবিনকে শেষ করে দেয়।"
রবিনের অকাল মৃত্যুতে এলাকার মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা মোফাজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "এই ছেলেকে নিয়েই আমি বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন দেখেছিলাম। আজ সন্ত্রাসীরা আমার সেই বুক খালি করে দিয়েছে, আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।"
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন