প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাউল শিল্পী বিথী দেওয়ানের রহস্যজনক অসুস্থতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর গ্রামের সেলিম মিয়াকে নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ফুলেরঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিল্পী বিথী দেওয়ান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের কারণে তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, বিথী দেওয়ানকে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অসুস্থ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে আসে ভৈরবের আগানগর গ্রামের সেলিম মিয়ার নাম।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সেলিম মিয়া বলেন, “বিথী দেওয়ান বিভিন্ন স্থানে গান গাইতে গেলে আমি প্রায়ই সঙ্গে যাই। তাকে বিভিন্ন সময়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকশিস দিয়ে থাকি। ঘটনার দিনও আমরা একসঙ্গে সিএনজিযোগে যাতায়াত করছিলাম। হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পরে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিথী দেওয়ানের মা নিজেই তাকে মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গে থাকার অনুরোধ করেছিলেন।
ঘটনার দিন হাসপাতালে গিয়ে বিথী দেওয়ানের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি সেলিমকে চিনি না। আমার মেয়ে অসুস্থ, তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না।”
ঘটনার কয়েকদিন পর বিথী দেওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি মানসিকভাবে চাপে ছিলাম। তাই নিজের ইচ্ছায় ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলাম। কটিয়াদীর পারভেজ ভাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”
অন্যদিকে পারভেজ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।”
হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন ইউটিউবার জানান, বিথীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তার মা হাসপাতালে এসে প্রথমে সেলিম মিয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মতে, পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আগানগর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “সেলিম মিয়া বিভিন্ন বাউল অনুষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ অর্থ বকশিস দেন। তার আয়ের উৎস নিয়ে এলাকায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত।”
এদিকে ভৈরবের বাউল গানের গীতিকার রেজাউল বলেন, কিছু মেয়ে বাউল শিল্পীদের কারণে বর্তমানে বাউল গান বিলুপ্ত হওয়ার পথে। আমি বাউল সংঘটনের প্রতি অনুরোধ করছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, বাউল গানের শ্রোতা ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিথী দেওয়ানের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এ ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন