১১:৫৯ এম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার (৩০ আগস্ট) মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা করা হতে পারে। যদি মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়, তবে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। এরপর প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: এখন আর দিনের ভোট রাতে হয় না: ত্রাণমন্ত্রী
পে স্কেল বাস্তাবায়ন হবে যেভাবে
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থসংস্থান।
নবম বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগের হিসাবেও বেতন, ভাতা ও পেনশনসহ অতিরিক্ত ব্যয়ের বড় অঙ্ক উঠে এসেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন ১৪ হাজার ৪ কোটি, কর্মচারীদের বেতন ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি এবং বিভিন্ন ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলকে দেওয়া সাহসী সংবর্ধনার ঐতিহাসিক মানপত্রের সন্ধান
পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন দুই ধাপে হবে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করা হবে। এর আগে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছিল।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার উর্মি আবার গ্রেফতার
কিন্তু তাতে অনেক কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে বিদ্যমান কাঠামোর কারণে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ফলে কারও কারও বর্তমান মূল বেতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে নতুন বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হলে প্রকৃত সুবিধা খুব কম হতে পারে। পরে সরকার পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা করেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর থেকেই চাকরিজীবীরা গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে এটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক অর্থনীতিও জড়িত।
সরকারের বর্তমান লক্ষ্য হচ্ছে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: সংঘর্ষে প্রাণহানি: সুনামগঞ্জে পুরুষশূন্য ৪০ বাড়িতে টানা তিন দিন লুটপাটের অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন