ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফল ব্যবসায়ীর মোবাইল ‘চুরি’ করলেন এসআই, ঘটনার নেপথ্যে কী


ফল ব্যবসায়ীর মোবাইল ‘চুরি’ করলেন এসআই, ঘটনার নেপথ্যে কী

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে অভিযোগ উঠেছে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়া সম্পর্কে, যে তিনি একজন ফল ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন নিয়ে গেছেন। প্রথমদিকে তিনি ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু পরে সিসিটিভি ফুটেজের উল্লেখ আসলে তিনি ওই ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেন।

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি এসআই রাসেলকে থানায় থেকে প্রত্যাহার করার জন্য পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব আহমেদের ফলের দোকানে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে এসআই রাসেল ফলের দোকানে প্রবেশ করেন। তিনি সেখান থেকে পেয়ারা ও লটকন ক্রয় করেন। দোকানের টেবিলের ওপর ব্যবসায়ীর কালো রঙের স্মার্টফোন ছিল।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

ফুটেজ অনুসারে দোকানে তেমন ভিড় ছিল না। অল্প ফল কেনার পরও প্রায় পাঁচ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন এসআই রাসেল। তিনি দোকানি রাজিবের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মোবাইল ফোনটি টেবিলের ওপর দোকানির ফোনের ওপর রাখেন। এরপর এক পর্যায়ে তিনি দুটি ফোনই নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নিয়েছেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।

ফল ক্রয়ের পর তিনি আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে দোকান থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ব্যবসায়ী রাজিব নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। সেখানে দেখেন এসআই রাসেল ফোনটি নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, তিনি এসআই রাসেলের কাছে ফোনটি ফেরত চান।

তবে প্রথমে এসআই রাসেল ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজের দিকে ইঙ্গিত করলে গভীর রাতে ফোনটি ফিরিয়ে না দিয়ে রাজিবকে ১৫ হাজার টাকা দেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এসআই রাসেল সচেতনভাবেই মোবাইল ফোনটি নিয়েছেন। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এসআই রাসেল দাবি করেন যে তিনি ভুলবশত ফোনটি নিয়ে গেছেন। ব্যবসায়ী রাজিব বলেছেন, ‘রাতেই বিষয়টির সমাধান হয়েছে। এসআই রাসেল ফোনটি নিয়ে হারিয়ে ফেলেছেন জানিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।’

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেলের গতিবিধি দেখে তাদের মনে হয়েছে তিনি পরিকল্পনা করে দোকানে সময় কাটিয়েছেন এবং ফোনটি নিয়েছেন। প্রথমে অস্বীকার করার পর পরে তিনি ভুুল করে ফোনটি নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন। এসআই রাসেল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন: নলছিটি ফেরিঘাটের রাস্তা মেরামত, যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে

আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি আকবর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন। এ ঘটনায় রাসেলকে থানায় রাখা হবে না। যদিও ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ নেই এবং রাসেল ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তাকে প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও জানান ওসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উড়ো চিঠিতে ‘খুনের হুমকি’ পাচ্ছেন গাঙ্গুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


উড়ো চিঠিতে ‘খুনের হুমকি’ পাচ্ছেন গাঙ্গুলি

গাঙ্গুলিকে ‘খুন’ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে উড়ো চিঠির মাধ্যমে। বেশ কয়েক মাস ধরে এই ‘হত্যার হুমকি’ পাচ্ছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি।

যদি বলা যায়, এই ক্ষেত্রে শুধু সৌরভ গাঙ্গুলিই নন, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদেরও একই ধরনের হুমকি দিয়ে চিঠি লেখা হচ্ছে।

প্রারম্ভিকভাবে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও একের পর এক চিঠি আসতে থাকায় সৌরভ পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য গেছেন। বেহালার বেলপুকুর থানায় তিনি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাস ধরে রহস্যময় এই চিঠিগুলি আসছে। সৌরভ প্রথমে সাধারণ ভক্তদের চিঠি মনে করে শুরুতে সেভাবে খুলে দেখা হয়নি। তবে সোমবার একটি নতুন চিঠি এসে সৌরভ তা খুলে পড়লে ভয়াবহ তথ্য ধরা পড়ে।

চিঠিটি সম্পূর্ণ ইংরেজিতে লেখা হয়েছিল, কিন্তু অক্ষরগুলি এত ক্ষুদ্র ছিল যে তা পড়ে উঠানো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু চিঠিতে লেখা কড়া ভাষায় সৌরভ ও তার স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলির ক্ষতি করার কথা বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, বাড়িতে ঢুকে ‘খুন’ করা হবে। এমনকি সৌরভের ঘনিষ্ঠদেরও রক্ষা করা হবে না!

চিঠিটি পাওয়ার পরেই সৌরভ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেলঘরিয়া থেকে এক ব্যক্তি কুরিয়ার করে এই চিঠিগুলো পাঠাতেন। পুলিশ কুরিয়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু এখনো জানা যায়নি কেন এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ মন্ত্রীর দায়িত্ব বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


৪ মন্ত্রীর দায়িত্ব বাড়ল

বর্তমানে ৪ মন্ত্রীর দায়িত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসা এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে সহজ করতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২২ জন সদস্য।

অর্থ, বাণিজ্য, আইন ও পরিবেশমন্ত্রীসহ এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। রবিবার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধিশাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এ সম্পর্কিত।

জাতীয় এই টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে আরো সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অতিরিক্ত সচিব, অর্থ বিভাগের (সামষ্টিক ও টিডিএম) টাস্কফোর্সের সদস্যসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

এছাড়াও আরো সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সচিব, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরের (আরজেএসসি) রেজিস্ট্রার, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কর্মার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি এবং বাংলাদেশ নিটওয়ার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি।

টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই জাতীয় টাস্কফোর্স বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণ সংক্রান্ত খাতভিত্তিক সংস্কারের রূপরেখা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে লাইসেন্স, অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, নির্মাণ, পরিবেশ ও স্থানীয় সেবায় অপ্রয়োজনীয় ধাপ চিহ্নিত করে সহজীকরণের নির্দেশনা প্রদান করবে। পাশাপাশি 'সিঙ্গেল উইন্ডো', সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ), চাহিদা বা স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন এবং অনলাইন ট্রাকিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থাগত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন, বিধি, নীতিমালা, সার্কুলার ও প্রশাসনিক আদেশ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কিশোর নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কিশোর নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদরাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে, যাঁর নাম সানি বেপারী (১৭)। এই সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, আর অন্যরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবি সদরদী এলাকায়। নিহত সানি বেপারী এলাকার মুদি দোকানি আতিয়ার রহমান বেপারীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র এবং ভাঙ্গা থানা-পুলিশ জানায় যে, দুপুরের দিকে কৈডুবি সদরদী এলাকায় হযরত ফাতেমাতুজ যাহরা মহিলা মাদরাসার সামনে জিসান মাতুব্বর নামক এক কিশোর মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। যখন মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান প্রতিবাদ করেন, তখন জিসানের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়।

পরবর্তীতে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে জিসানের বাবা বাশার মাতুব্বরসহ কয়েকজন লোক মাদরাসার সামনে গিয়ে শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে গালিগালাজ করেন। একসময় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সংঘর্ষের ফলে সাতজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন এবং ভর্তি ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে—মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান, সানি বেপারী, সবুজ বেপারী (৫০), আরাফাত (৬), রাতুল (১৬), জোবেদা বেগম (২৫) এবং উজ্জ্বল মাতুব্বর (৫৫)।

গুরুতর আহত সানি বেপারী ও মাওলানা মনিরুজ্জামানকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর পর, সানি বেপারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুপুর আড়াইটার দিকে মারা যান।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সানির মরদেহ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোবাশ্বেরা ইয়াসমিন জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সানি বেপারী নামের এক কিশোরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এই বিষয়টি ভাঙ্গা থানাকে জানানো হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কৈডুবি সদরদী এলাকায় সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখিরাতে যেসব ১৩ শ্রেণির মানুষের ঠিকানা হবে জাহান্নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


আখিরাতে যেসব ১৩ শ্রেণির মানুষের ঠিকানা হবে জাহান্নাম

জাহান্নাম বা দোজখ, যা আরবি শব্দ, গুনাহগারদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির আবাসস্থল। কিয়ামতের দিন যাদের আমলনামার ওপর মহান আল্লাহ তা’আলা অসন্তুষ্ট থাকবেন, তাদের শাস্তির ঠিকানা হবে জাহান্নাম।

জাহান্নামের সাতটি স্তর রয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির কথাও এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাবও (শাস্তি) অত্যন্ত ভয়ংকর। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব ওই ব্যক্তির হবে, যাকে এমন দু’টি জুতা পরিয়ে দেয়া হবে, যার তলা ও ফিতা হবে আগুনের। ফলে এর দহনে (চুলার ওপরে রাখা) পাতিলের মতো মগজ উতলাতে থাকবে। আর তার মনে হবে যে, সে-ই বুঝি সবচেয়ে বেশি শান্তি ভোগ করছে। অথচ, এটি হচ্ছে সবচেয়ে হালকা আযাব। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪১০)

দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সফর শেষে পরকালে সফল হতে তাই বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) যেমন উম্মতদের উত্তম আমল করার পাশাপাশি নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। নিচে ১৩ শ্রেণির মানুষের কথা তুলে ধরা হলো, আখিরাতে যাদের ঠিকানা হবে চিরশাস্তির জাহান্নাম।

কাফির ও মুশরিক। কাফির ও মুশরিকরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আখিরাতে তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে ও মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে থাকবে স্থায়ীভাবে। তাদের জন্যেই তো বলা হয়েছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি। (সুরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৬)

অন্যদিকে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রয়েছে, ওমর ইবনু খাত্তাব (রা.) বলেছেন- খায়বারের যুদ্ধ শেষে রাসুল (সা.) এর একদল সাহাবী এসে বলতে লাগল, অমুক শহিদ, অমুক শহিদ। কথাবার্তা চলছিল, অবশেষে এক ব্যক্তির প্রসঙ্গে তারা বললেন, সেও শহিদ হয়েছে। রাসুল (সা.) তখন বললেন, কখনই না। আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি, চাদর বা জোব্বার কারণে (যা সেই ব্যক্তি গণিমতের মাল থেকে আত্মসাৎ করেছিল)। এরপর নবীজি (সা.) বলেন, হে খাত্তাবের পুত্র! যাও লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও যে, জান্নাতে কেবলমাত্র প্রকৃত মুমিন ব্যক্তিরাই প্রবেশ করবে। তারপর ওমর ইবনু খাত্তাব (রা.) বলেন, তারপর আমি বের হলাম এবং ঘোষণা করে দিলাম- ‘সাবধান! শুধু প্রকৃত মুমিনরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১০)

শিরককারী ও অহংকারী ব্যক্তি। শিরক কবিরা গুনাহের (বড় গুনাহ) মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ। মহান আল্লাহ শিরক করাকে ক্ষমা করেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এছাড়া অন্যান্য পাপ, যা তিনি চান। আর যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে। (সুরা নিসা, আয়াত: ৪৮)

অন্যদিকে আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর যে ব্যক্তির অন্তরে এক সরিষার দানা পরিমাণ অহমিকা (অহংকার) থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৮)

আমানতের খিয়ানতকারী ও প্রতারণাকারী। রাসুল (সা.) বলেছেন- পাঁচ প্রকার মানুষ জাহান্নামী হবে। ১) এমন দুর্বল মানুষ, যাদের মধ্যে (ভাল-মন্দ) পার্থক্য করার বুদ্ধি নেই, যারা তোমাদের এমন তাবেদার যে, না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য। ২) এমন খিয়নতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানত করে, যার লোভ কারও কাছেই লুকায়িত নেই। ৩) ওই লোক, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের ব্যাপারে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। ৪) কৃপণতা ও ৫) নবীজি (সা.) মিথ্যা বলার কথাও উল্লেখ করেছেন। আর বলেছেন- ‘শিনজীর’। শিনজীর হলো চরম অশ্লীলতাবাদী। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৯৪৩)

মিথ্যা কসমকারী। প্রয়োজনে আল্লাহর নামে কসম কাটা জায়েজ থাকলেও মিথ্যা কসম কাটায় কঠোর নিষেধ রয়েছে। আখিরাতে মিথ্যা কসমকারীর জন্য রয়েছে ভয়ংকর শাস্তি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুত তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৭৭)

অন্যদিকে মিথ্যা কসম কাটা কবিরা গুনাহের (বড় পাপ) মধ্যে অন্যতম। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) সূত্রে মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহ.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- কবিরা গুনাহসমূহের অন্যতম হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে শরিক করা, পিতা-মাতার নাফরমানী করা, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২১৯)

এছাড়াও মিথ্যা কসমকারীর জন্য পরকালে জাহান্নাম অবধারিত। ইমরান ইবন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো হাকিমের (বিচারক) আদালতে বন্দি থাকা অবস্থায় মিথ্যা কসম খায়, সে যেন তার আবাসস্থল জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২৭)

সর্বদা মদ্যপায়ী ও পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান। ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আরও ৩ শ্রেণির জাহান্নামীদের কথা এসেছে। হাদিসটি হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ৩ শ্রেণির লোকের জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। সর্বদা মদ্যপায়ী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ূস (পাপাচারের মতো কাজে যে পরিবারকে বাধা দেয় না)। (মেশকাত, হাদিস: ৩৬৫৫)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%