১০:৩৪ পি.এম
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে অভিযোগ উঠেছে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়া সম্পর্কে, যে তিনি একজন ফল ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন নিয়ে গেছেন। প্রথমদিকে তিনি ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু পরে সিসিটিভি ফুটেজের উল্লেখ আসলে তিনি ওই ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি এসআই রাসেলকে থানায় থেকে প্রত্যাহার করার জন্য পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব আহমেদের ফলের দোকানে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে এসআই রাসেল ফলের দোকানে প্রবেশ করেন। তিনি সেখান থেকে পেয়ারা ও লটকন ক্রয় করেন। দোকানের টেবিলের ওপর ব্যবসায়ীর কালো রঙের স্মার্টফোন ছিল।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
ফুটেজ অনুসারে দোকানে তেমন ভিড় ছিল না। অল্প ফল কেনার পরও প্রায় পাঁচ মিনিট সেখানে অবস্থান করেন এসআই রাসেল। তিনি দোকানি রাজিবের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মোবাইল ফোনটি টেবিলের ওপর দোকানির ফোনের ওপর রাখেন। এরপর এক পর্যায়ে তিনি দুটি ফোনই নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নিয়েছেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।
ফল ক্রয়ের পর তিনি আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে দোকান থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ব্যবসায়ী রাজিব নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। সেখানে দেখেন এসআই রাসেল ফোনটি নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, তিনি এসআই রাসেলের কাছে ফোনটি ফেরত চান।
তবে প্রথমে এসআই রাসেল ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজের দিকে ইঙ্গিত করলে গভীর রাতে ফোনটি ফিরিয়ে না দিয়ে রাজিবকে ১৫ হাজার টাকা দেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এসআই রাসেল সচেতনভাবেই মোবাইল ফোনটি নিয়েছেন। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এসআই রাসেল দাবি করেন যে তিনি ভুলবশত ফোনটি নিয়ে গেছেন। ব্যবসায়ী রাজিব বলেছেন, ‘রাতেই বিষয়টির সমাধান হয়েছে। এসআই রাসেল ফোনটি নিয়ে হারিয়ে ফেলেছেন জানিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।’
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে এসআই রাসেলের গতিবিধি দেখে তাদের মনে হয়েছে তিনি পরিকল্পনা করে দোকানে সময় কাটিয়েছেন এবং ফোনটি নিয়েছেন। প্রথমে অস্বীকার করার পর পরে তিনি ভুুল করে ফোনটি নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন। এসআই রাসেল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আরও পড়ুন: নলছিটি ফেরিঘাটের রাস্তা মেরামত, যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে
আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি আকবর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন। এ ঘটনায় রাসেলকে থানায় রাখা হবে না। যদিও ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ নেই এবং রাসেল ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তাকে প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও জানান ওসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন