প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদরাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে, যাঁর নাম সানি বেপারী (১৭)। এই সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, আর অন্যরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবি সদরদী এলাকায়। নিহত সানি বেপারী এলাকার মুদি দোকানি আতিয়ার রহমান বেপারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র এবং ভাঙ্গা থানা-পুলিশ জানায় যে, দুপুরের দিকে কৈডুবি সদরদী এলাকায় হযরত ফাতেমাতুজ যাহরা মহিলা মাদরাসার সামনে জিসান মাতুব্বর নামক এক কিশোর মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। যখন মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান প্রতিবাদ করেন, তখন জিসানের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়।
পরবর্তীতে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে জিসানের বাবা বাশার মাতুব্বরসহ কয়েকজন লোক মাদরাসার সামনে গিয়ে শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে গালিগালাজ করেন। একসময় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সংঘর্ষের ফলে সাতজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন এবং ভর্তি ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে—মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান, সানি বেপারী, সবুজ বেপারী (৫০), আরাফাত (৬), রাতুল (১৬), জোবেদা বেগম (২৫) এবং উজ্জ্বল মাতুব্বর (৫৫)।
গুরুতর আহত সানি বেপারী ও মাওলানা মনিরুজ্জামানকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর পর, সানি বেপারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুপুর আড়াইটার দিকে মারা যান।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সানির মরদেহ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোবাশ্বেরা ইয়াসমিন জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সানি বেপারী নামের এক কিশোরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এই বিষয়টি ভাঙ্গা থানাকে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কৈডুবি সদরদী এলাকায় সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন