০২:১৯ পি.এম
বিদুষী বর্ণিতা প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছেন। এবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁর অভিষেক হতে চলেছে, তবে অভিনয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন নয়। তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে অনেক বিজ্ঞাপন, নাটক ও সিনেমায় কাজ করেছেন। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার পর এবারের যাত্রাকে তিনি সম্পূর্ণ নতুন শুরু হিসেবেই দেখছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের লাক্স সুপারস্টার চ্যাম্পিয়ন বিদুষী বর্ণিতার কথা। এই নতুন শুরু নিয়ে কথা বলতে ইমরুল নূর তাঁর স্বপ্ন নিয়ে আসেন।
ওয়েব ফিল্মে অভিনয়ের নতুন অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে বর্ণিতা বলেন, ‘প্রথমবার ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করছি, আবার শিহাব শাহীন স্যারের অধীনে। সত্যি বলতে আমি অনেক উচ্ছ্বসিত এবং আনন্দিত। প্রায় দুই মাস রিহার্সেল করেছি এবং তারপর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। এটি আমার জন্য অনেক। কারণ, হয়তো লাক্সের প্ল্যাটফর্ম ছাড়া এমন সুযোগ পেতাম না। রিহার্সেল থেকে শুরু করে শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি। নানা কিছু শিখছি। এটি আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। আমার প্রায় নব্বই ভাগ অংশের শুটিং শেষ, আর একদিন শুট করলেই শেষ হয়ে যাবে।’
তিনি তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে অভিনয়ের কথা উল্লেখ করে জানান, ‘প্রথম ওয়েব ফিল্মেই সহশিল্পী হিসেবে তৌসিফ মাহবুবকে পাওয়াটা আমার জন্য বাড়তি আনন্দের। এছাড়াও সামনে আরও নাটকেও দেখা যেতে পারে।’ বর্ণিতা বলেন, ‘আমি খুব ভাগ্যবতী। প্রথম কাজেই উনার মতো একজনকে পেয়েছি। শুটিং করতে গিয়ে প্রতিটি সময়ই তাঁর সহযোগিতা পেয়েছি। আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিচ্ছেন। উনি দারুণ আন্তরিক এবং সাহায্যকারী। এই ওয়েব ফিল্মের পাশাপাশি সামনে উনার সঙ্গে আরও কাজের কথাও চলছে। আমি খুব খুশি।’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিনিয়োগ আলোচনা করতে
বর্ণিতার অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল তিন বছর বয়সে। ২০০৯ সালে প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাঁকে। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত অসংখ্য বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন এবং নাটকেও অভিনয় করেছেন। নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমাতেও তাঁর চরিত্র ছিল শাওন।
৩ বছরের বয়স থেকে শুরু করে তাঁর পথচলা হয়ে উঠেছে বিভিন্ন অডিশনের মাধ্যমে। তবে তিনি বহুবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। নিজের প্রতি আস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন সুযোগ পাচ্ছেন না—এটি ভেবে বেশ হতাশা অনুভব করেছিলেন। যেহেতু পরিচিত মুখরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাগিয়ে উঠেছেন, তাই তিনি আসন্ন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সিদ্ধান্ত নেন। সফলতার পর তিনি জানান, ‘আমি নিজেকে নিয়ে কনফিডেন্ট ছিলাম। অডিশন দেয়ার পরও রিজেক্ট হচ্ছিলাম। তখন আমার খারাপ লাগা শুরু হলো। আমার জায়গায় ইনফ্লুয়েন্সাররা সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু এখন যারা আমাকে রিজেক্ট করেছেন, তাঁরাই আমার সঙ্গে কাজের জন্য যোগাযোগ করেন।’
তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শেষে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৈশোরের এই সময়ে সেভাবে কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু তৈরি হয়নি। একমাত্র মা তাঁর সেরা বন্ধু হিসেবে রয়েছেন। কিন্তু প্রতিযোগিতার পরে ফারিশতা মৌ ও নাযাহ নাওয়ারের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
বর্ণিতা বই পড়া এবং সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বই পড়া এবং মুভি দেখতে ভালোবাসি। ফ্রাঞ্জ কাফকা আমার প্রিয় লেখক। বিদেশি সিনেমাগুলো দেখতে বসে যাই। তবে এবার দেশের কাজগুলো দেখার চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: মিজানুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড
প্রিয় শিল্পী হিসেবে বর্ণিতার তালিকায় আছেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী। সিনিয়রদের মধ্যে বিপাশা হায়াত, অপি করিম ও আফসানা মিমির কাজের প্রশংসা করেন তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করা।’ তিনি চান, ছোট পর্দায় নিজেকে গড়ে তুলতে এবং বড় পর্দায় কাজ করতে। তিনি জানান, ‘সিনেমা তো সবারই লক্ষ্য থাকে। আমি রায়হান রাফী স্যারের সঙ্গে একটি সিনেমা নিয়ে কথা বলছি। কাজটা শুরু হতে পারে বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের প্রথম দিকে। এর চেয়ে বেশি কিছু আপাতত বলতে পারছি না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন