ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপালে সহিংসতায় জড়িত পাকিস্তানি ধর্মীয় নেতা বাংলাদেশ সফরে আসছেন


নেপালে সহিংসতায় জড়িত পাকিস্তানি ধর্মীয় নেতা বাংলাদেশ সফরে আসছেন

কয়েক মাস আগে নেপালে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর যে পাকিস্তানি ধর্মীয় বক্তার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করা হয়েছিল, সেই বক্তাকে এবার বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে কিছু ধর্মীয় সভায় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় প্রচারমূলক সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদরাসা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ওয়্যারইস্ট ডটকম-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমান আগামী ৬ নভেম্বর রাজশাহীর কাছে মিয়ানপুরে এবং ৭ নভেম্বর নওগাঁর পোরশায় দুই দিনব্যাপী একটি ইসলামী সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে তিনি আবারও উত্তরাঞ্চলে আসছেন। গত আগস্টে তার ঘোষিত বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনাতেও এসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ভারত ও নেপালের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত জুলাই মাসে নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আগে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমানের সফর ও বিভিন্ন বৈঠকের ওপর নজরদারি চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: খারাপ লোক চেয়ারম্যান হলে উন্নয়ন বরাদ্দ পকেটে যাবে: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা

প্রাণঘাতী সেই সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই তদন্তে ঘুমানের গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কয়েক মাস আগে। তবুও, এখন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে নতুন করে ধর্মীয় জমায়েতে তিনি অংশগ্রহণ করবেন বলে প্রচার চলছে।

মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমানের সম্ভাব্য সফর ঘিরে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। ওয়্যারইস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে কী ধরনের যাচাই-বাছাই করেছে, নেপালের কাছ থেকে কোনো তথ্য চাওয়া হয়েছে কি না এবং তার সফরের আয়োজন কারা করছে, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানতে চাচ্ছেন। বিষয়টি শুধুমাত্র একটি বিতর্কিত সফরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বারবার ধর্মীয় প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবিতে ঢাকায় আয়োজিত একটি সমাবেশে তার উপস্থিতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। এসব অতীত কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে ঘুমানের প্রভাব ও ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

বাংলাদেশে নিয়মিত সফর

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা ‘খ্যাপা’ শেয়ালের আক্রমণে আহত ১০

বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালকে ঘিরে বিতর্কের অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত করছেন মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমান। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর ধর্মীয় সংবাদমাধ্যম ‘আওয়ার ইসলাম’ জানায়, আগের বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ সফরের পর তিনি আবারও দেশে ফিরেছেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আল-মারকাজুল ইসলামী’ নামের একটি সংস্থা তার এই সফরের আয়োজন ও তত্ত্বাবধান করছে। এতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান হামজা শহীদুল ইসলামের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ঘুমানের সফরের আয়োজন নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সফরে ঘুমানের প্রথম কর্মসূচি চট্টগ্রামের জিরি মাদ্রাসায় ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

একই সংবাদমাধ্যমে ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত তার আরেকটি সফরসূচিতে আরো বিস্তৃত কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়। এতে ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, পাবনাসহ কয়েকটি জেলায় ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

সফরসূচি অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট রাজশাহীর কাটাখালীতে জামিয়া উসমানিয়ায় এবং ২৭ আগস্ট নওগাঁর পোরশায় জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হিদায়াতে তার কর্মসূচি ছিল। এ ছাড়া ‘আল-মারকাজুল ইসলামী’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও ওই সূচিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে কিশোর গ্যাং বন্ধের ঘোষণা, সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের হুমকি : ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ

নভেম্বরের কর্মসূচিটি ‘অষ্টম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল’ নামে প্রচার করা হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় মিয়াপুরে একটি মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আয়োজক ‘জামিয়া ইসলামিয়া জামিরিয়া দারুল কুরআন’। এ ছাড়া ৭ নভেম্বর নওগাঁর পোরশায় আয়োজিত আরেকটি সম্মেলনেও মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমানের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মেলনটি ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

আগে প্রকাশিত এই সফরসূচিটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে নওগাঁর পোরশা উপজেলাকে এতে নতুন কোনো গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমানের নিয়মিত সফরের একটি জায়গা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

একজন সাবেক আফগান জিহাদি

মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমান পাকিস্তানের সারগোদায় অবস্থিত ‘মারকাজ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’-এর সঙ্গে যুক্ত। তার পৃষ্ঠপোষকতায় ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ধর্মীয় শিক্ষা, বিশেষায়িত পাঠক্রম, অনলাইন কোর্স এবং আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: মারামারির ঘটনায় যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন মোল্লা হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন আসামি

‘আহনাফ মিডিয়া’ প্রকাশিত উর্দু ভাষার একটি পুরনো জীবনীতে ঘুমানের অতীত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। প্রশংসাসূচক ভাষায় লেখা ওই জীবনীতে বলা হয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি আফগান জিহাদেও অংশ নিয়েছিলেন। এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৬ ও ১৯৯৯ সালে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে জীবনীটিতে দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে উভয় মামলাতেই তিনি খালাস পান।

নেপালের অভিযোগ

আগস্টে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২৬ জুলাই সুনসারি জেলায় অস্থিরতার ঘটনার পর নেপালের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমানের গতিবিধি খতিয়ে দেখছিল। প্রাথমিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে স্পর্শকাতর সীমান্তবর্তী ওই জেলায় মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমান এবং কাঠমান্ডুর একটি মসজিদের ইমাম মুফতি আবু বকর কাসমির উপস্থিতির বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়।

পরে নেপালের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমানের সঙ্গে হরকাত-উল-মুজাহিদীন, হরকাত-উল-আনসার ও হিজবুল মুজাহিদীনের যোগাযোগ থাকার অভিযোগে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এসব প্রতিবেদনে নেপালের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কথিত বৈঠক এবং বাংলাদেশি ধর্মীয় ব্যক্তিদের সফরের বিষয়েও উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: লিফট ব্যবহারের অনুমতি নেই, মাথায় ব্লক নিয়ে ২১ তলা উঠলেন শ্রমিক

সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য

বাংলাদেশে একটি নির্দিষ্ট উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করা। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত একটি সমাবেশে অংশ নেওয়া বিদেশি ধর্মীয় ব্যক্তিদের মধ্যে মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমানও ছিলেন। ওই সমাবেশ থেকে আয়োজকরা সরকারের কাছে আহমদিয়া সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান।

আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এ ধরনের প্রচারণায় অংশ নেওয়া ধর্মীয় নেতারা তাদের বিশ্বাসকে ইসলামের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে স্বীকার করেন না। ওই সমাবেশের মধ্য দিয়ে বছরজুড়ে একটি প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়। এর মধ্যে ছিল স্বাক্ষর সংগ্রহ, স্মারকলিপি জমা দেওয়া এবং আরো কয়েকটি সম্মেলনের আয়োজন।

সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাবেশের আগেই ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়ে তাদের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন: বিএসএফের গুলিতে তিন মাসে ৪ বাংলাদেশি নিহত

এ থেকে দেখা যায়, মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুমান এমন একটি সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের স্বীকৃত পরিচয়ের ওপর রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ আরোপের দাবি তোলা। ঘুমানের জনসম্পৃক্ত ভূমিকা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রশ্নটি শুধু একজন বিদেশি ধর্মপ্রচারক কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এর সঙ্গে আরো বড় একটি প্রশ্ন জড়িত, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ কি এমন প্রচারণাকে গ্রহণযোগ্যতা দিচ্ছে, যা একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও ভীতির মুখে ঠেলে দিতে পারে?

স্থানীয়ভাবে প্রচারিত পোস্টারগুলোতে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টারে রাজশাহীর ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম শাহকে প্রধান অতিথি, ধর্মীয় নেতা শহীদুল ইসলামকে সভাপতি এবং ‘ইতিদাল ফাউন্ডেশন রাজশাহী’কে আয়োজক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য একটি পোস্টারে নওগাঁর পোরশার প্রধান মাঠে ৭ ও ৮ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী ইসলামি সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আসরের নামাজের পর শুরু হয়ে সম্মেলনটি ভোর পর্যন্ত চলার কথা।

‘ইসলামী সম্মেলন সংস্থা, পোরশা’র আয়োজনে এই সম্মেলনের প্রথম দিনের প্রধান বক্তা হিসেবে ঘুমানের নাম রয়েছে। দ্বিতীয় দিনের প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে। দুই দিনের কর্মসূচিতেই স্থানীয় ও বাইরের আরও কয়েকজন ধর্মীয় নেতার অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবের জাজান প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


সৌদি আরবের জাজান প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে সম্ভাব্য জরুরি বিপদসংকেত জারি করা হয়েছে। তবে কিছু সময় পরেই বিপদ কেটে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

শনিবার দুপুরে, দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছিল, এমনটি জানায় আলজাজিরা।

সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, ঘটনাস্থলে ভিড় না করতে এবং ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মতলব উত্তরে এইচএসসিতে পাশের হার ৩১.৯১% ও আলিমে ২৮.৯৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


মতলব উত্তরে এইচএসসিতে পাশের হার ৩১.৯১% ও আলিমে ২৮.৯৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল এবারও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। যদিও এইচএসসিতে পাশের হার ৮.৮৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু আলিম পরীক্ষার ক্ষেত্রে এটি ২১.৬৬% কমেছে।

২০২৬ সালের পরীক্ষায় এইচএসসিতে ১হাজার ১৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৩৮১ জন পাশ করেছে। ফলে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৩১.৯১%, এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। আলিম পরীক্ষায় ১৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, পাশ করেছে ৪২ জন, এবং পাশের হার ২৮.৯৭%।

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ছেংগারচর সরকারি কলেজে ৩১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ১১৪ জন পাশ করেছে। এখানে পাশের হার ৩৬.৩২%। নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ৫০ জন পাশ করেছে এবং পাশের হার ২৪.৮৮%। সুজাতপুর কলেজে ৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ২৪ জন পাশ করেছে, ফলে পাশের হার ২৪.৭৪%। মুন্সী আজিম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে ৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ১৬ জন পাশ করেছে, এবং পাশের হার ২৬.২৩%। নাউরী কলেজে ১৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ৫৭ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৩৩.৭৩% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। আলী আহম্মদ মিয়া বহুমুখী মহাবিদ্যালয়ে ৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ১৯ জন পাশ করেছে, পাশের হার ২০.৮৮%। দি কার্টার একাডেমিতে ২১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ১২ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৫৭.১৪% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। লুধুয়া হাই স্কুল এন্ড কলেজে ৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ৩৮ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৪৩.১৮%। কালিপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজে ১০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ২৯ জন পাশ করেছে, পাশের হার ২৮.১৬%। ধনাগোদা তালতলি স্কুল এন্ড কলেজে ২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ১০ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৩৮.৪৬%। শরীফ উল্যাহ হাই স্কুল এন্ড কলেজে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ১০ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৬৬.৬৭%। জীবগাওঁ জে.হক ইচ্চ বিদ্যালয় কলেজে ০৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ০২ জন পাশ করেছে, পাশের হার ২৫%।

আলিম পরীক্ষায় ফরাজীকান্দি আল ওয়াসিয়ে কামিল মাদ্রাসা থেকে ৩২ জন অংশগ্রহণ করে, ১৩ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৪০.৬২%। নেদায়ে ইসলাম মহিলা মাদ্রাসা থেকে ৩১ জন অংশগ্রহণ করে, ৪ জন পাশ করেছে, পাশের হার ১২.৯০%। হাশিমপুর আলীম মাদ্রাসা থেকে ২২ জন অংশগ্রহণ করে, ২ জন পাশ করেছে, পাশের হার ০৯.১০%। সাড়ে পাঁচআনী হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৬ জন অংশগ্রহণ করে, ১০ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৩৮.৪৬%। বদরপুর আদমিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৩ জন অংশগ্রহণ করে, ১১ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৪৭.৮২%। লবাইরকান্দি আলআমিন আলীম মাদ্রাসা থেকে ১১ জন অংশগ্রহণ করে, ২ জন পাশ করেছে, পাশের হার ১৮.১৮%।

২০২৫ সালে এই উপজেলায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় এইচএসসিতে ১হাজার ৮শত ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, ৪শত ১৯ জন পাশ করেছে, পাশের হার ২৩.০২%, এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। আলিম পরীক্ষায় ১৫৮ জন অংশগ্রহণ করে, ৮০ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৫০.৬৩%।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবদান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রস্তুত করছে সরকার: ড. মামুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবদান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রস্তুত করছে সরকার: ড. মামুন

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে জিডিপিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)-এর প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘একাডেমিয়া-ইন্ড্রাস্ট্রি কোলাবরেশন’ শীর্ষক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউএফটিবি এবং ‘গোপ্ল্যান লিমিটেড’-এর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে পরিণত করা। তিনি জানান, জাতীয় জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিকস, অটোমেশন, ডেটা সায়েন্স ও ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক বিভাগ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ইউজিসি সদস্য বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরিপ্রার্থী না বানিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’-এর প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি জানান, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে মোট ৮০০ কোটি টাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ জন্য পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং একাডেমিয়া-ইন্ড্রাস্ট্রি সহযোগিতার বিকল্প নেই।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্মার্ট নগর ব্যবস্থাপনায় ‘স্মার্ট এআই সিটি’র গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মামুন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি ও বিগ ডেটার সমন্বয়ে সেবা খাত আধুনিক করা হবে। তিনি জানান, গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সুবিধার আওতায় আনতে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ এলাকায় ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিপণ্যের ওপর কর ছাড় দিয়ে গবেষক ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরিবেশ সুগম করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলীর সভাপতিত্বে গোপ্ল্যান লিমিটেডের পরিচালক মো. রইসুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আসিফ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের প্রতিশ্রুতি, দাবি আদায়ে আমরা অনড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


মুজিব-হাসিনার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমিরের প্রতিশ্রুতি, দাবি আদায়ে আমরা অনড়

শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জে ‘ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ’-এর পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লংমার্চের বহর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া মোড়ে পৌঁছালে সেখানে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ বহরটিকে স্বাগত জানান। এই সময় জামায়াতের আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জনতার উদ্দেশে বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি জনতার উচ্ছ্বাসকে সম্মান জানিয়ে ১১ দলের সাত দফা দাবি আদায়ে অনড় ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।

কাশিয়ানীর পথসভা শেষে লংমার্চের বহর খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে। খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর এবং ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরের পথসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এই লংমার্চের। এরপর যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালের পথসভায় অংশ নিয়ে সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া লংমার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত গণজমায়েতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে ১১ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেওয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লংমার্চের বহর।

এর আগে সকাল ১০টায় শরীয়তপুরের নাওডোবায় এক পথসভায় লংমার্চের বহর যোগ দেয়। তারও আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দল গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ পরিচালনা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%