১০:৪৫ পি.এম
স্বামীর অনুপ্রেরণায় দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও পড়াশোনা শুরু করে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গৃহবধূ রীতি খাতুন (৩০) এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখা থেকে তিনি এই সাফল্য লাভ করেন।
রীতি খাতুন নসিরপুর গ্রামের আব্দুল আলিম মন্ডল বাবুর স্ত্রী। তিনি ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিএম শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরের ২৪ শিক্ষকের ৭ পরীক্ষার্থী, পাশ করেনি কেউ
২০১০ সালে মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর, পরবর্তী বছর বিয়ের পর সংসারজীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে তার ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তবে সংসারের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বজায় রেখেছেন।
২০২৪ সালে স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় এসএসসি পাসের প্রায় ১৪ বছর পর আবারও কলেজে ভর্তি হন তিনি।
সংসারের কাজ সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে রীতিকে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ সময় প্রতিবেশীদের উপহাসও শুনতে হয়েছে তাকে। তবে তিনি কোনো কিছুতেই দমে যাননি। স্বামী ও শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।
রীতি খাতুন বলেন, "স্বামীর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা না পেলে এই বয়সে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না। সংসারের কাজ সামলে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয়েছে। এ সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।"
আরও পড়ুন: শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা
তার স্বামী আব্দুল আলিম মন্ডল বাবু বলেন, "স্ত্রীর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে তাকে কলেজে ভর্তি করিয়েছিলাম। তার এই ফলাফলে পরিবারের সবাই খুব খুশি।"
ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলাম বলেন, "সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রীতির এমন ফলাফল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার অধ্যবসায় ও সাফল্য অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন