০৪:৩৬ পি.এম
ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার কর্মসংস্থান কমার তথ্য প্রকাশের পর দেশটিতে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কমে গেছে। এর ফলস্বরূপ, সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দ্রুত সমাধানের আশা কমে যাওয়ায় তেলের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় ডিএমপি’তে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২১১১টি মামলা
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে বেশ অস্থিরতার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে আবারও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে ছিল সবচেয়ে বেশি চাহিদা।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটিতে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। একই সঙ্গে মে ও জুন মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও সংশোধন করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীরা এটিকে আপাতত ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকার সম্ভাবনা হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগে ৬৪ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলি সেনাদের নৃশংসতা নিয়ে ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের আলোচনা
চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিতব্য মূল্যস্ফীতির তথ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হবে।
কর্মসংস্থানের এই তথ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। কম সুদের হারে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাওয়া প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের চাহিদায় নাসডাক সূচকও ১ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।
এর প্রভাব এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। জাপানের টোকিও শেয়ারবাজার ২ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। কিওক্সিয়া, টোকিও ইলেকট্রন ও অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারগুলোতে উল্লেখযোগ্য দরপতনের বদলে শক্তিশালী দর বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল; দেশটির চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে।
হংকং, তাইপে, সাংহাই, ওয়েলিংটন ও জাকার্তার শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
আরও পড়ুন: ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ রদ্রিগো ক্যাট্রিল জানিয়েছেন, ‘বাজারগুলো এই প্রতিবেদনকে স্বল্পমেয়াদে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। এই কারণে কার্যত মনে করা হচ্ছে, ফেডের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও সময় রয়েছে।’
তবে তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিবেদন শ্রমবাজারের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার সম্ভাবনা কমিয়েছে, কিন্তু এর মাধ্যমে ফেডের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি সবুজ সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি পর্যবেক্ষণ করেন, ‘শুধু এই প্রতিবেদন সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট নয়। মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে জুলাই ও আগস্টের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্যই সবচেয়ে নজর রাখার মতো বিষয়।’
শুক্রবার কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর যে দরপতন হয়েছিল, সোমবার মার্কিন ডলার তার কিছুটা পুষিয়ে নেয়। জাপানি ইয়েনের বিপরীতেও ডলারের দর বাড়তে থাকে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের কর্তৃপক্ষ জাপানি মুদ্রাকে শক্তিশালী করতে নজিরবিহীন যৌথ হস্তক্ষেপ শুরু করলে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছিল।
আরও পড়ুন: এবি পার্টি: সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন