০৯:২৬ পি.এম
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ঘটে যাওয়া মারাত্মক একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে, সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুজন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারিক আদালত থেকে এই নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
গত রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
রায়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে। একইসঙ্গে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
এছাড়া, আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা রামিসার আইনি উত্তরাধিকারকে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরিমানার জন্য যদি অনাদায় ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে ওই আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির আদেশ দেওয়া হয়েছে, এবং ওই অর্থ রামিসার আইনি উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।
রায়ে আরও বলা হয়, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে সক্ষম হবেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায়, এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে, ২৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন এবং একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন, এবং একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়, এবং ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়, এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলার দায়ের করেন, এবং ২১ মে আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ভিকটিম রামিসার বাবা জানান, তিনি পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন এবং বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। রামিসা ছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন