ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রিটার্ন দাখিলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কর প্রণোদনা


রিটার্ন দাখিলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কর প্রণোদনা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৩ সালের আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী ঘোষণা করেছে যে, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কর প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে, এই সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ (রোববার) তা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতাগণ আয়কর রিটার্নের সাথে পরিশোধযোগ্য কর (আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭৩ অনুযায়ী) এর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা) কর প্রণোদনা বা কর ছাড় পাবেন। তবে, ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোন প্রকার কর প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

অন্যদিকে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে আয়কর রিটার্নের সাথে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭৩(২) অনুসারে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, এই দুইয়ের মধ্যে যা বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

এছাড়া, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সময় আয়কর রিটার্নের সাথে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭৩(২) অনুসারে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি সে পরিমাণ অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে।

এতে আরো বলা হয়েছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশ্বাস করে যে, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই রিটার্ন দাখিলে কর প্রণোদনা প্রদানের ফলে অধিক সংখ্যক করদাতা সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি, কর পরিপালনের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর প্রশাসনের কার্যক্রম অধিকতর দক্ষ ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠবে।

ই-রিটার্ন সেবার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাগণের জন্য ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে।

করদাতাগণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন এবং ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পারবেন। সঠিক তথ্য প্রদান করে নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিলের পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকার পত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত অফিস চলাকালীন কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।

এনবিআর জানাচ্ছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর দাখিল করা রিটার্নের ক্ষেত্রে কর প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। তাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মানিত করদাতাগণকে উক্ত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে কর প্রণোদনার সুবিধা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


জুলাইয়ে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ শতাংশের বেশি। রবিবার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এবার একই মাসে প্রায় ৩৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বেশি এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ ও ৩১ জুলাই-মাসের শেষ দুই দিনে দেশে এসেছে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। ফলে পুরো জুলাই মাসে মোট প্রবাস আয় দাঁড়িয়েছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারে।

আমাদের অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার এবং ব্যাংকিংসেবার উন্নয়নের কারণে রেমিট্যান্সপ্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

তারা মনে করেন, রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়ে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, আমদানি ব্যয় মেটানো সহজ হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাস আয়।

তাহলে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে এই প্রবৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখতে পারেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি জোটে যোগ দিলেও ইরানকে আঘাতের উদ্দেশ্য নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


সৌদি জোটে যোগ দিলেও ইরানকে আঘাতের উদ্দেশ্য নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে হুতিদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি।

এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।’

রবিবার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

‘আমরা সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিলাম’—এর পেছনের প্রেক্ষাপটটি জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মূল বিষয়টা হলো সৌদির সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদির সঙ্গে সম্পর্কটি শুধু তীর্থযাত্রা, ওমরাহ বা হজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

এটিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে। সৌদি আরব দুটি পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার রক্ষক।

তাহলে এখানে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি কোনো সহযোগিতা চায়, এই দৃঢ় আত্মিক সম্পর্ক থেকে এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ, সবসময় সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।’

অন্যদিকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এটা প্রক্রিয়াধীন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। আলাপ-আলোচনা চলছে, অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অবহিত করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল, বাড়ছে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল, বাড়ছে আতঙ্ক

ঢাকা, ২ আগস্ট, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরের কাছে একটি দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ শনিবার হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য করেছে।

এদিকে, মৌসুমের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল রেকর্ড হওয়ায় অঙ্গরাজ্য জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

টানা চতুর্থ বছরের মতো রেকর্ড খরার মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঙ্গরাজ্যে ২ লাখ একরেরও বেশি এলাকা আগুনে পুড়ছে।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গভর্নর বব ফার্গুসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রেকর্ড খরা এবং তীব্র বাতাস পুরো অঙ্গরাজ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’

তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ উন্মুক্ত স্থানে এবং কৃষিকাজে আগুন জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ বলেন, ‘এ বছর ইতোমধ্যেই আমাদের রেকর্ডের অন্যতম ব্যস্ত দাবানল মৌসুম চলছে। অথচ আগস্ট মাস মাত্র শুরু হয়েছে।’

স্থানীয় স্পোকসম্যান-রিভিউ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ‘ওল্ড ট্রেইলস’ নামে পরিচিত দাবানলটি শনিবার বিকেলে স্পোকেন নদী অতিক্রম করে শহরের ভেতরে প্রবেশ করে।

সরকারের সরিয়ে নেওয়ার মানচিত্র অনুযায়ী, শহরের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘গো নাউ’ জারি করা হয়েছে। এতে শহরের সীমানার ভেতরে থাকা হাজারো মানুষকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।

স্পোকসম্যান-রিভিউ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আগুনের বিস্তার ৩ হাজার ৫০০ একরের বেশি এলাকায় পৌঁছেছে।

শহর কর্তৃপক্ষ কোনো হতাহতের খবর জানায়নি।

মেজর জেনারেল জেন্ট ওয়েলশ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ সূর্য অস্ত যাওয়ার পর এবং আগামীকাল সূর্য ওঠার সময় আমরা হতবাক হয়ে যাব।’

জরুরি কর্তৃপক্ষ স্পোকেন কনভেনশন সেন্টারে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে।

এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস পূর্ব ওয়াশিংটনের জন্য ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে ‘রেড ফ্ল্যাগ অ্যালার্ট’ জারি করে। এতে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিকে ‘চরম’ বলে উল্লেখ করা হয়।

ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ড এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, স্পোকেন অঞ্চলে সহায়তার জন্য তারা ‘দ্রুতগতিতে ইউনিট মোতায়েন’ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে যুদ্ধজাহাজ চাইলেন মার্কিন জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে যুদ্ধজাহাজ চাইলেন মার্কিন জেনারেল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে দেশটিকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো যথেষ্ট নৌ-শক্তি নেই, এমন অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন ইউরোপে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ জেনারেল। চলমান সপ্তাহে ওই শীর্ষ জেনারেল গোপনে পেন্টাগনকে এই অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের(ডব্লিউপি) প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ডের(ইউকম) প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, নৌবাহিনীর আরেকটি ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ) না পেলে তিনি ইসরায়েলের সুরক্ষার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ডের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হলে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, গ্রিনকেউইচের এই বার্তা ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডারদের অতীতের সতর্কবার্তার মতো, যেখানে তারা ওয়াশিংটনের মনোযোগ প্রয়োজন এমন ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন। ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, সীমিত সম্পদ ও অস্ত্রের জন্য কমান্ডারদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এখন বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ? ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতের এক নাজুক পরিস্থিতিতে এই সতর্কবার্তাটি প্রকাশিত হল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই হামলা শুরু হয়েছে এবং এই অভিযানের তীব্রতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুদ কমে আসছে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে যে, নৌবাহিনীর ওপর বিশেষ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বন্দরের ওপর অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। এই অচলাবস্থার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও অন্যান্য পণ্যের চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-ডেস্ট্রয়ারগুলো(যুদ্ধজাহাজ) বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলের সুরক্ষায় ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরান এবং তেহরানের সহায়তাপ্রাপ্ত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলগুলোকে মাঝপথেই ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করে।

ইউরোপিয়ান কমান্ড ভূমধ্যসাগরের এই কার্যক্রমগুলোর সমন্বয় করে থাকে। একইসঙ্গে, ন্যাটোর আওতাধীন অঞ্চলে রাশিয়ার যেকোনো অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুত থাকতে হয়। বিশেষ করে রাশিয়ার নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।

নৌবহর সংক্রান্ত যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা নিয়ে পেন্টাগন কর্মকর্তাদের মত, মার্কিন নৌবাহিনী স্পেনের রোটা থেকে পাঁচটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন রেখেছে। চলতি বছরের শেষে ষষ্ঠ একটি জাহাজ সেখানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ‘দ্য পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট কর্মব্যস্ততার ফলে রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা আপাতত জমে উঠেছে, যা গ্রিনকেউইচের জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।

পত্রিকাটি এও জানায় যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সামরিক কর্মকর্তাদের অনুরোধে তারা জাহাজের প্রাপ্যতা বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘দ্য পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে পেন্টাগনের করা এক মূল্যায়নে দেখা যায়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ইসরায়েলকে রক্ষার মূল দায়িত্ব মার্কিন বাহিনী পালন করেছে।

ইসরায়েলের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় মার্কিন অস্ত্র যার মধ্যে রয়েছে ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ ব্যবস্থা এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে উৎক্ষেপিত নৌ-ভিত্তিক ইন্টারসেপ্টরের ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বেশি।

‘দ্য পোস্ট'-এর উদ্ধৃত একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, শুক্রবার(১ আগস্ট) পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে দুটি ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস পল ইগনাটিয়াস’ এবং ‘ইউএসএস রুজভেল্ট’ অবস্থান করছিল। এছাড়া আরও তিনটি ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস আর্লি বার্ক’, ‘ইউএসএস বাল্কলি’ এবং ‘ইউএসএস অস্কার অস্টিন’ রোটা-তে মোতায়েন ছিল।

ইরানের আরও কাছাকাছি আরব সাগরে একটি নৌবহর মোতায়েন রয়েছে বলে সূত্রটি ‘দ্য পোস্ট’-কে জানিয়েছেন। এই বাহিনীতে দুটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ড-ব্লিউ বুশ এবং ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং অন্তত ১৫টি অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ১১টি হলো ডেস্ট্রয়ার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের অবরোধ আরোপ এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক একটি উদ্যোগের বাস্তবায়নে এই নৌবহরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর লক্ষ্য হচ্ছে বিতর্কিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর সুরক্ষায় সহায়তা করা।

‘দ্য পোস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরে ‘ইউএসএস গঞ্জালেজ’ নামে আরেকটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন রয়েছে। ওই এলাকায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের ওপর নিজেরা অবরোধ আরোপের চেষ্টা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি আরব সেখানে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সামরিক জোট গঠন করেছে।

মার্কিন জনগণের কাছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ক্রমশই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে; একইসঙ্গে কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যরা হতাশা প্রকাশ করছেন। কারণ প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে সংঘাত অবসানের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সামনে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

‘দ্য পোস্ট’ জানিয়েছে, বিশেষ করে অনেক রিপাবলিকানের মধ্যে জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম যুদ্ধের কারণে বাড়ানোর প্রভাবের উদ্বেগ সৃষ্টি করছে যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের জন্য ক্ষতির কারণ ঘটাতে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পরিচালক টম কারাকো বলেছেন, এই সতর্কবার্তাটি পেন্টাগনের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর ব্যাপকতাকেই তুলে ধরে।

কারাকো আরও বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে থাকার কারণে সামরিক প্রস্তুতি ও গোলাবারুদ মজুদ উভয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। তিনি আরো যোগ করেন, এখন প্রশ্ন হলো, এক্ষেত্রে কৌশলটা কী?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%