০৬:১১ পি.এম
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মিনি কক্সবাজার খ্যাত আলেকজান্ডার মেঘনা তীরে গড়ে উঠেছে বহু অবৈধ স্থাপনা। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ
উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে ২০০ গজ হেঁটে গেলেই রয়েছে মেঘনা নদী। নদীর তীর ব্লক দিয়ে বাঁধাই করে সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে জায়গাটি তখন বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়।
সমুদ্র সৈকতের রূপ পাওয়ায় এটি একসময় পরিচিতি পায় মিনি কক্সবাজার হিসেবে।
আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ
মিনি কক্সবাজারের জায়গাটি মূলত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার মেঘনাতীর। বেড়াতে আসা হাজারো দর্শনার্থীদের মুখরিত এ জায়গাটিতে একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। এতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ঘরতে আসা মানুষদের।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত বেড়িবাঁধ ঘিরে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব দোকানের কারণে দর্শনার্থীদের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ঢালু অংশ ঘেঁষে অবাধে গড়ে তোলা হয়েছে চটপটি, ফুসকা, চা ও খেলনার অসংখ্য স্থায়ী দোকান।
নদীতীরে চোখে পড়ে বাগানবাড়ী ফুড কর্নার, বিসমিল্লাহ চটপটি অ্যান্ড ফুচকা হাউজ, হিমেল হাওয়া চটপটি অ্যান্ড ফুচকা হাউজ, আলাউদ্দিন চটপটিসহ বিভিন্ন দোকানপাট।
এখানে রয়েছেন চায়ের দোকান, খাবারের হোটেল ও খেলনার দোকানসহ দুই শতাধিক দোকানপাট।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
দর্শনার্থীরা জানান, তীরে হাঁটাচলার জায়গায় এসব দোকানপাট নির্মাণ করায় তাদের চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। চলাচলের জায়গা না থাকায়, নদীর তীর ঘেঁষে ব্লকের ওপর চলাচল করতে হয় তাদের। এর ফলে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুদের নিয়ে তারা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীরবর্তী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখানে তা মানা হয়নি। এর পাশাপাশি প্রশাসনের তদারকিও নেই। ফলে দখলবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, বিনোদন কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ডাস্টবিনের অভাবে দোকানগুলোর বর্জ্য সরাসরি মেঘনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে ওই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
দর্শনার্থী ও এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, কক্সবাজার বা নারায়ণগঞ্জের মেঘনাপারের মতো আলেকজান্ডার ‘মিনি কক্সবাজার’ অবৈধ দখলমুক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো প্রয়োজন। স্থানীয়রা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন স্পটটির সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন: কবি রাধারমণ দত্তের গ্রামে গানবাজনা বন্ধের আবেদন জমা
নাজমুন নাহার নামের এক দর্শনার্থী বলেন, চলাচলের জায়গায় দোকান বসেছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখানে আসা পর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। ব্লকের ওপর বাচ্চারা ছিটকে পড়লে সোজা মেঘনা নদীতে পড়ে যাবে।
আইরিন সুলতানা নামের আরেক পর্যটক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তদারকি নেই। নইলে এই জায়গায় এত দোকান কীভাবে বসবে।’
দর্শনার্থী শরীফ হোসেন বলেন, ‘মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দোকান বসানো হয়েছে। এগুলো দেখতে খুব খারাপ লাগছে, পরিবেশ অসুন্দর হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের উচিত এখনি এসব দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া।’
দোকানদার আলাউদ্দিন ও জুয়েল হোসেন দুধা বলেন, ‘এখানে একটি চক্র রয়েছে। তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই সবাই দোকান নির্মাণ করেছেন। এখন প্রশাসন সরিয়ে দিলে কিছুই করার নেই।’
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নদীতীরে রাখা যাবে না। চলাচলের জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন