০৬:১৭ পি.এম
‘শহরে থাকাকালীন আকাশে মেঘ দেখলে এখন মনে ভয় কাজ করে। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলো ডুবতে শুরু করে, আর ঘরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
আমার ফার্নিচার, ইলেকট্রিক জিনিসপত্র সকলই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আবার ডুবতে হলো।’ এইভাবে নিজের কষ্টের কথা ব্যক্ত করছিলেন খুলনার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার প্রদর্শনী
শুধু মোস্তাফিজুর রহমানই নন, খুলনায় যখনই মেঘ দেখা দেয়, আতঙ্কে ভুগছেন রূপসা, মুজগুন্নি, টুটপাড়া, বানিয়াখামার, নিরালা আবাসিক এলাকা, সোনাডাঙা আবাসিক, শিপইয়ার্ড, নতুন বাজারসহ খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার নিচু এলাকার বাসিন্দারা।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে তিনঘন্টার ব্যবধানে মহানগরী খুলনা ফের ডুবেছে। বৃষ্টিতে রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, পিটিআই মোড়, পিকচার প্যালেস, সিমেট্রি রোড, স্যার ইকবাল রোড, টিবি বাউন্ডারি রোড, দোলখোলাসহ প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে ইজিবাইক, রিকশা, মাহেন্দ্র, সিএনজি, মোটরসাইকেল বিকল হয়ে গেছে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এই জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষও।
আকস্মিকভাবে রিকশা, ইজিবাইক ও যানবাহনের ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় হতাশা ও বিপাকে পড়েছেন।
বেসরকারি খুলনা ওয়েদার ফোরকাস্ট টিম (কেডব্লিউএফটি)’র প্রদান করা তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় দুই ঘন্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। টিম জানিয়েছে, রেইন গেজেট অনুযায়ী খুলনায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে নগরীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
খুলনা সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়নে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মেগা প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে রয়েছে।
এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে এবং ময়ূর নদসহ গুরুত্বপূর্ণ ১২টি খালের পুনঃখনন ও সংস্কার করার কাজ হবে। চলতি বছরেই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার দিন নির্ধারিত রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কোন পরিবর্তন এখনও ঘটেনি।
খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার মন্তব্য করেছেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, সমন্বয়হীনতা, নদী-খাল দখলের কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তাই মেঘ দেখলে মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, ‘করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে নিরলস কাজ করছে। বিগত সময়ে ড্রেনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাম্প হাউজ, স্লুইজগেটগুলো কার্যকর নয়। এর জন্য নগরীর পানি নামতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিনই রেডিমাটি অপসারণ ও বর্জ্য নিষ্কাশনে কাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নগরীর ১৭, ১৮ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করে এসব কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র্যালি ও সমাবেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন