০৮:৫৯ পি.এম
পদ্মার চরে দূর্বৃত্তদের গুলিতে ৮ মাসের ব্যবধানে ৬ জন খুন হয়েছেন। জানা গেছে, ৬ খুনের কোনো আসামীকে পুলিশ চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে পারেনি। এই খুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের পদ্মার চরে। পুলিশের তালিকায় পদ্মার চরে গড়ে ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব রয়েছে। তারা দিনরাত চরের মানুষকে জিম্মি করে অত্যাচার, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করছে।স্থানীয়রা জানান, পদ্মার চর এলাকা ভারতের সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় অবৈধভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী ভারত থেকে সহজেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে সেখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের নীচ খানপুরের হবিরচরের দক্ষিণে চৌদ্দহাজার মাঠে খড় কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুরের মিনহাজ মন্ডলের ছেলে আমান মন্ডল এবং একই গ্রামের শুকুর মন্ডলের ছেলে নাজমুল হোসেন নিহত হন। পরদিন, ২৮ অক্টোবর হবিরচর থেকে কুষ্টিয়ার লিটন হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার দুই মাস পরে, ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে সোহেল রানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সোহেল রানা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চর অঞ্চলের কালু মন্ডলের ছেলে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় তৈরি ২টি বন্দুক, ৭টি পিস্তল, ২৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৫টি মোটরসাইকেল, বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্পিডবোট, অস্ত্র রাখার সিলিন্ডার, ছয়টি বড় ডেগার, ২২টি হাঁসুয়া, চারটি ছোরা, দুটি চাপাতি, একটি দা, একটি লোহার পাইপ, একটি টিউবওয়েল এবং একটি চকি উদ্ধার করে। এদিকে, ১৮ মে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল গভীর রাতে হামলা চালিয়ে স্বপন বেপারী (৪০) নামের একজন ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে এবং তার মরদেহ ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্বপন বেপারীর ২৩ দিনেও পরিবারের সন্ধান মেলেনি। সর্বশেষ ৯ জুন পদ্মার চরের নীচ খানপুরের হবিরচরের দক্ষিণে চৌদ্দহাজার মাঠের পাশে রায়টা এলাকার চর জাজিরা নামক স্থান থেকে নৌপুলিশ আজিজুল হাকিম ঝড়ু নামের একজন যুবকের স্পিডবোডের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজিজুল হাকিম ঝড়ু বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলি পাবনা পাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে। এই বিষয়ে বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, "প্রশাসনের তালিকায় পদ্মার চরের ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম রয়েছে।" সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের মধ্যে রয়েছে- কাঁকন বাহিনী, মন্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী এবং সুখচাঁদ-নাহারুল বাহিনী। এসব গোষ্ঠী একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে মানুষের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে। তবে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে কয়েক দফায় ২০৩ জনকে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন