রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী প্রতিনিধি
০৭:৫৩ পি.এম
জরুরি মুহূর্তে অসুস্থ রোগীদের অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পিরোজপুরের কাউখালীতে সামাজিক সংগঠন ‘ইউনিটি ফর হিউম্যানিটি’র উদ্যোগে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
উপজেলার সামাজিক সংগঠন ‘ইউনিটি ফর হিউম্যানিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এস. কে. শহীদ, আইরন জয়কুল এম. এম. মোদাচ্ছের মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নান্না মিয়া, কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি ইনচার্জ মোঃ মাসুম হাওলাদার এবং স্থানীয় যুবসমাজ ও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাউখালী উপজেলায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে। নদীমাতৃক এলাকা হওয়ার কারণে কয়েকবার সংকটজনক রোগীদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এর ফলে রোগীরা সময়মতো অক্সিজেন না পেলে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আপাতত কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার সহ বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিন্ডারের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেবা পেতে রোগীদের অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের একটি ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দেখাতে হবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের জানালেই রোগীর বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে জরুরি রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।
কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রবীণ ও সংকটাপন্ন রোগীরা সঠিক সময়ে অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হন। তিনি বলেন, সময়মতো অক্সিজেনের অভাবে কোনো রোগীর প্রাণহানি ঘটলে সেটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে ‘ইউনিটি ফর হিউম্যানিটি’র এই উদ্যোগ মানবতার সেবায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্রোহপ্রবণ থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে একসঙ্গে অর্ধশতাধিক অগ্নিসংযোগ ও অগ্নিবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশের সামরিক বাহিনীর বক্তব্য হলো, এসব হামলা একমাত্র অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্যই চালানো হয়েছে। ফলে অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থাইল্যান্ডের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এসব হামলার ঘটনা ঘটার খবর মিলেছে, যেখানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি দুর্ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছে। সামরিক বাহিনীর ইন্টারনাল সিকিউরিটি অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছে, নারাথিওয়াত প্রদেশে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পাশের ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার খবর রয়েছে।
হামলাকারীরা স্থানীয় সরকারি কার্যালয়, দোকান এবং গাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ চালিয়েছে। এ ছাড়া, কিছু এলাকায় টেলিযোগাযোগ টাওয়ারগুলোতেও আগুন দেওয়া হয়েছে।
এই অবস্থায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের কাছে সন্দেহজনক কোনো বস্তু স্পর্শ না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ব্যাংকক পোস্টের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নারাথিওয়াতের মুয়াং জেলায় একটি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত দুই নারী আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শনিবার রাতে নারাথিওয়াত প্রদেশে কারফিউ জারি করা হয়, তবে স্থানীয় সময় রবিবার সকালে সেটি প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি।
২০০৪ সাল থেকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত চলছে। সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাতে এ পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এই বিদ্রোহের মূল নেতৃত্বে রয়েছে বারিসান রেভলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হলেও ব্যাংককের সরকার পরিবর্তন এবং উভয় পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে বারবার সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।
গত জুলাইয়ে নারাথিওয়াতের একটি নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকিতে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার পর প্রশাসন পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা স্থগিত করে।
এদিকে, আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের দক্ষিণাঞ্চলীয় সোংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বিনিয়োগ, বন্যা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা মৌজায় একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রিকৃত ১০.৭৫ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসার জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ‘পশ্চিম ও দক্ষিণ তেতলা নূরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা’র নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমিটির বৈধ মালিকানা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত হুমায়ুন গাজী জমিটি জোরপূর্বক দখলে রেখে ভোগদখল করছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্র দলিল (নং-৮১৮, তারিখ: ৩১ মে ২০১০) পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমিটির গ্রহীতা হিসেবে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া থানাধীন তেতলা গ্রামের পশ্চিম ও দক্ষিণ তেতলা নূরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা, পক্ষে সভাপতি উল্লেখ রয়েছে। দলিলটি চাখার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত।
দলিলের তফসিল অনুযায়ী জমিটি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ৮নং উদয়কাঠী ইউনিয়নের ৭নং তেতলা মৌজায় অবস্থিত। জমির এস.এ খতিয়ান নং-২৫৭ এবং আর.এস/নাল দাগ নং-৯৫৮। জমির পরিমাণ ১০.৭৫ শতাংশ এবং শ্রেণি নাল জমি।
দলিল সূত্রে আরও জানা যায়, উক্ত জমির মূল মালিক নবাব আলীর ওয়ারিশ ফাতেমা বেগমের সন্তান মো. নুরুজ্জামান, ইব্রাহিম, সেফালী, ডলী ও শামসুন্নাহার ধর্মীয় শিক্ষা ও মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ২০১০ সালের ৩১ মে বিনামূল্যে ১০.৭৫ শতাংশ জমি ‘পশ্চিম ও দক্ষিণ তেতলা নূরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা’র নামে দানপত্র দলিল করে দেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমিটির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নামে থাকা সত্ত্বেও তেতলা গ্রামের হুমায়ুন গাজী দীর্ঘদিন ধরে জমিটি অবৈধভাবে দখলে রেখে ভোগদখল করছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার জমিটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
মাদ্রাসার জমি উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলের অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত জমিটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। মাদ্রাসার জমি উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে তারা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ভূমি অফিস এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি-পদায়নে অনিয়ম, কর্মচারীদের হয়রানি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং সরকারি অর্থ অর্থাৎ সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে উপ-পরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান ও তার স্ত্রী, সিলেট সদর উপজেলার মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. সুবর্ণা রায় তুলির বিরুদ্ধে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যে, কাগজে-কলমে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মো. নিয়াজুর রহমান দায়িত্ব পালন করলেও দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার স্ত্রী ডা. সুবর্ণা রায় তুলি বিশেষভাবে প্রভাবিত করেন। বদলি-পদায়ন, অধীনস্থদের শোকজ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়গুলোতে তার ওপর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ। তবে, এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত দুজন দাবি করেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে উঠানো অভিযোগগুলো অবশ্যই মিথ্যা। ছয় মাসের মধ্যে তারা অফিসে ৩৩ দিন উপস্থিত ছিলেন, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ডা. সুবর্ণা রায় তুলি মাত্র ৩৩ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরেও তিনদিন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে এবং ছয়দিন মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে অংশ নেন। মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) হিসেবে তার দায়িত্ব হলো পরিবার পরিকল্পনার জন্য গ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির সেবা তদারকির কাজ করা। কিন্তু নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি কিংবা দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতেই অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোকজ করা হয় এমন অভিযোগও রয়েছে। এজন্য সহকর্মীদের কেউ কেউ তাকে ‘শোকজ তুলি’ নামেও ডাকেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, এর মধ্যে শুধু বদলি বা পদায়নই নয়, বরং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও ডা. তুলির প্রভাব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি-পদায়ন, শোকজ এবং কর্মস্থলে হয়রানির বিষয়গুলোতে অভিযোগ উঠিয়েছে। সিলেটে এর আগেও ডা. সুবর্ণা রায় তুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার তথ্য রয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে যখন তিনি ফেঞ্চুগঞ্জে কর্মরত ছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তদন্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। প্রতিবেদনের বিষয়ে অদক্ষতা, মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং অপারেশন থিয়েটারে অশোভন আচরণের মতো বেশ কিছু বিষয় তদন্তের আওতায় এসেছিল। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কর্মচারীর বেতন-বোনাসের জটিলতা এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযুক্তরা যখন অভিযোগের বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়, তখন তারা ক্যামেরার সামনে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে আরও সময় লাগবে। অর্থাৎ তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়গুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। বর্তমানে প্রতিবেদনের সত্যতা নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে কখনো কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না। এই প্রতিষ্ঠানে গায়ের জোরে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৫২, ১৯৭০, ১৯৭১ কিংবা ১৯৯০ সালে সবসময়ই ঢাবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে।
রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
অধ্যাপক ইসলাম বলেন, “আমরা ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩শে আগস্ট দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছি।” ২০০৭ ও ২০০৮ সাল আমাদের কাছে অত্যন্ত বিভীষিকাময় ছিল। তৎকালীন মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমল হিসেবে পরিচিত সেই সময়ে, ২০০৭ সালের ২০শে আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল।
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সেই সময়ের ভয়াবহ দিনগুলো এখনো ভুলিনি।” তিনি তখন শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে একজন মেজর লেভেলের অফিসার তার অফিসে এসে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং এক প্রকার জোর করেই ধরে নিয়ে যান। শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত অপমানজনক।
উপাচার্য আরও বলেন, “তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া,” যা ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা চেয়েছিল খালেদা জিয়া ও তার সন্তানদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে।
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, “আমরা ২০২৪ সালেও দেখেছি কীভাবে অগণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” খালেদা জিয়াকে যখন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি আপসহীনভাবে বলেছেন “এই দেশ ছাড়া আমার আর কোনো জায়গা নেই, মরতে হলে এই দেশেই মরব।” তার এই দৃঢ়তার কারণে তিনি ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ উপাধি পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে তিনি জানান, “তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে, এমনকি তার কোমড় পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।” এছাড়া, আরাফাত রহমান কোকোকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। এত নির্যাতনের পরেও তারা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। “সত্যের জয় সবসময়ই হয়।” মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সেই কালো এজেন্ডা সফল হয়নি।
তিনি বলেন, “আজকের একটি পত্রিকার রিপোর্টে দেখলাম বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা যেখানে ৫৪%, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ৬৬%।” এতেই বোঝা যায় দেশের মানুষ কাকে ভালোবাসে। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও কেউ সফল হবে না।
এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ