প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদ্রোহপ্রবণ থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে একসঙ্গে অর্ধশতাধিক অগ্নিসংযোগ ও অগ্নিবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশের সামরিক বাহিনীর বক্তব্য হলো, এসব হামলা একমাত্র অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্যই চালানো হয়েছে। ফলে অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থাইল্যান্ডের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এসব হামলার ঘটনা ঘটার খবর মিলেছে, যেখানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি দুর্ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছে। সামরিক বাহিনীর ইন্টারনাল সিকিউরিটি অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছে, নারাথিওয়াত প্রদেশে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পাশের ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার খবর রয়েছে।
হামলাকারীরা স্থানীয় সরকারি কার্যালয়, দোকান এবং গাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ চালিয়েছে। এ ছাড়া, কিছু এলাকায় টেলিযোগাযোগ টাওয়ারগুলোতেও আগুন দেওয়া হয়েছে।
এই অবস্থায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের কাছে সন্দেহজনক কোনো বস্তু স্পর্শ না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ব্যাংকক পোস্টের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নারাথিওয়াতের মুয়াং জেলায় একটি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত দুই নারী আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শনিবার রাতে নারাথিওয়াত প্রদেশে কারফিউ জারি করা হয়, তবে স্থানীয় সময় রবিবার সকালে সেটি প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি।
২০০৪ সাল থেকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত চলছে। সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাতে এ পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এই বিদ্রোহের মূল নেতৃত্বে রয়েছে বারিসান রেভলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হলেও ব্যাংককের সরকার পরিবর্তন এবং উভয় পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে বারবার সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।
গত জুলাইয়ে নারাথিওয়াতের একটি নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকিতে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হওয়ার পর প্রশাসন পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা স্থগিত করে।
এদিকে, আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের দক্ষিণাঞ্চলীয় সোংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বিনিয়োগ, বন্যা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন