০৮:০০ পি.এম
সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি-পদায়নে অনিয়ম, কর্মচারীদের হয়রানি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং সরকারি অর্থ অর্থাৎ সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে উপ-পরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান ও তার স্ত্রী, সিলেট সদর উপজেলার মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. সুবর্ণা রায় তুলির বিরুদ্ধে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যে, কাগজে-কলমে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মো. নিয়াজুর রহমান দায়িত্ব পালন করলেও দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার স্ত্রী ডা. সুবর্ণা রায় তুলি বিশেষভাবে প্রভাবিত করেন। বদলি-পদায়ন, অধীনস্থদের শোকজ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়গুলোতে তার ওপর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ। তবে, এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত দুজন দাবি করেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে উঠানো অভিযোগগুলো অবশ্যই মিথ্যা। ছয় মাসের মধ্যে তারা অফিসে ৩৩ দিন উপস্থিত ছিলেন, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ডা. সুবর্ণা রায় তুলি মাত্র ৩৩ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরেও তিনদিন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে এবং ছয়দিন মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে অংশ নেন। মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) হিসেবে তার দায়িত্ব হলো পরিবার পরিকল্পনার জন্য গ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির সেবা তদারকির কাজ করা। কিন্তু নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি কিংবা দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতেই অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোকজ করা হয় এমন অভিযোগও রয়েছে। এজন্য সহকর্মীদের কেউ কেউ তাকে ‘শোকজ তুলি’ নামেও ডাকেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, এর মধ্যে শুধু বদলি বা পদায়নই নয়, বরং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও ডা. তুলির প্রভাব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি-পদায়ন, শোকজ এবং কর্মস্থলে হয়রানির বিষয়গুলোতে অভিযোগ উঠিয়েছে। সিলেটে এর আগেও ডা. সুবর্ণা রায় তুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার তথ্য রয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে যখন তিনি ফেঞ্চুগঞ্জে কর্মরত ছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তদন্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। প্রতিবেদনের বিষয়ে অদক্ষতা, মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং অপারেশন থিয়েটারে অশোভন আচরণের মতো বেশ কিছু বিষয় তদন্তের আওতায় এসেছিল। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কর্মচারীর বেতন-বোনাসের জটিলতা এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযুক্তরা যখন অভিযোগের বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়, তখন তারা ক্যামেরার সামনে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে আরও সময় লাগবে। অর্থাৎ তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়গুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। বর্তমানে প্রতিবেদনের সত্যতা নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন