ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দফতরে স্বামী-স্ত্রীর ‘রামরাজত্ব’


সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দফতরে স্বামী-স্ত্রীর ‘রামরাজত্ব’

সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি-পদায়নে অনিয়ম, কর্মচারীদের হয়রানি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং সরকারি অর্থ অর্থাৎ সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে উপ-পরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান ও তার স্ত্রী, সিলেট সদর উপজেলার মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. সুবর্ণা রায় তুলির বিরুদ্ধে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যে, কাগজে-কলমে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মো. নিয়াজুর রহমান দায়িত্ব পালন করলেও দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার স্ত্রী ডা. সুবর্ণা রায় তুলি বিশেষভাবে প্রভাবিত করেন। বদলি-পদায়ন, অধীনস্থদের শোকজ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়গুলোতে তার ওপর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ। তবে, এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত দুজন দাবি করেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে উঠানো অভিযোগগুলো অবশ্যই মিথ্যা। ছয় মাসের মধ্যে তারা অফিসে ৩৩ দিন উপস্থিত ছিলেন, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ডা. সুবর্ণা রায় তুলি মাত্র ৩৩ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরেও তিনদিন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে এবং ছয়দিন মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে অংশ নেন। মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) হিসেবে তার দায়িত্ব হলো পরিবার পরিকল্পনার জন্য গ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির সেবা তদারকির কাজ করা। কিন্তু নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি কিংবা দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতেই অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোকজ করা হয় এমন অভিযোগও রয়েছে। এজন্য সহকর্মীদের কেউ কেউ তাকে ‘শোকজ তুলি’ নামেও ডাকেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, এর মধ্যে শুধু বদলি বা পদায়নই নয়, বরং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও ডা. তুলির প্রভাব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি-পদায়ন, শোকজ এবং কর্মস্থলে হয়রানির বিষয়গুলোতে অভিযোগ উঠিয়েছে। সিলেটে এর আগেও ডা. সুবর্ণা রায় তুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার তথ্য রয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে যখন তিনি ফেঞ্চুগঞ্জে কর্মরত ছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তদন্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। প্রতিবেদনের বিষয়ে অদক্ষতা, মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং অপারেশন থিয়েটারে অশোভন আচরণের মতো বেশ কিছু বিষয় তদন্তের আওতায় এসেছিল। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কর্মচারীর বেতন-বোনাসের জটিলতা এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযুক্তরা যখন অভিযোগের বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়, তখন তারা ক্যামেরার সামনে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে আরও সময় লাগবে। অর্থাৎ তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়গুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। বর্তমানে প্রতিবেদনের সত্যতা নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় কখনো মেনে নেওয়া হয় না: উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০২ পি.এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় কখনো মেনে নেওয়া হয় না: উপাচার্য

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে কখনো কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না। এই প্রতিষ্ঠানে গায়ের জোরে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৫২, ১৯৭০, ১৯৭১ কিংবা ১৯৯০ সালে সবসময়ই ঢাবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে।

রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।

অধ্যাপক ইসলাম বলেন, “আমরা ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩শে আগস্ট দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছি।” ২০০৭ ও ২০০৮ সাল আমাদের কাছে অত্যন্ত বিভীষিকাময় ছিল। তৎকালীন মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমল হিসেবে পরিচিত সেই সময়ে, ২০০৭ সালের ২০শে আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল।

তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সেই সময়ের ভয়াবহ দিনগুলো এখনো ভুলিনি।” তিনি তখন শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে একজন মেজর লেভেলের অফিসার তার অফিসে এসে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং এক প্রকার জোর করেই ধরে নিয়ে যান। শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত অপমানজনক।

উপাচার্য আরও বলেন, “তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া,” যা ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা চেয়েছিল খালেদা জিয়া ও তার সন্তানদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, “আমরা ২০২৪ সালেও দেখেছি কীভাবে অগণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” খালেদা জিয়াকে যখন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি আপসহীনভাবে বলেছেন “এই দেশ ছাড়া আমার আর কোনো জায়গা নেই, মরতে হলে এই দেশেই মরব।” তার এই দৃঢ়তার কারণে তিনি ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ উপাধি পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে তিনি জানান, “তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে, এমনকি তার কোমড় পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।” এছাড়া, আরাফাত রহমান কোকোকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। এত নির্যাতনের পরেও তারা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। “সত্যের জয় সবসময়ই হয়।” মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সেই কালো এজেন্ডা সফল হয়নি।

তিনি বলেন, “আজকের একটি পত্রিকার রিপোর্টে দেখলাম বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা যেখানে ৫৪%, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ৬৬%।” এতেই বোঝা যায় দেশের মানুষ কাকে ভালোবাসে। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও কেউ সফল হবে না।

এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি পীর সাহেব ফান্দাউক দরবার শরীফের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি পীর সাহেব ফান্দাউক দরবার শরীফের

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা, আদর্শ এবং পীর-মাশায়েখদের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ তুলে নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়ছার লিংকনকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফের বর্তমান পীর ও বাংলাদেশ আঞ্জুমানে খাদিমুল ইসলামের আমীর শাহসুফী মাওলানা মুফতি সৈয়দ ছালেহ আহমাদ মামুন আল-হোসাইনী।

রোববার (২৩ আগস্ট) ফান্দাউক দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের বার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।

পীর সাহেব ফান্দাউক দরবার শরীফের বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি, আকিদা-বিশ্বাস এবং ঐতিহ্য বিবেচনা করা উচিত, যে কারণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মবিষয়ক দায়িত্বে এমন ব্যক্তিকে রাখা উচিত নয়, যার কর্মকাণ্ড নিয়ে হানাফি সুন্নি মুসলিম সমাজে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও আদর্শের বিরোধী কোনো ব্যক্তি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে তা দেশের বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম, মুসলিম ঐতিহ্য, পীর-মাশায়েখ এবং ওলামায়ে কেরামের অবদান ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফান্দাউক দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় জীবন গঠনে কাজ করে আসছে।

মুফতি সৈয়দ ছালেহ আহমাদ মামুন আল-হোসাইনী বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে কথা বলছি না। আমাদের বক্তব্য নীতিগত। ধর্ম মন্ত্রণালয় এমন একটি মন্ত্রণালয়, যার সঙ্গে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মুসলিম জনগণের আবেগ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এমন ব্যক্তিকে দেখতে চাই, যিনি কোরআন-সুন্নাহ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মানশীল।”

তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের প্রতি সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়—এমন সিদ্ধান্ত বা অবস্থান থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

সম্মেলনে তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ এবং ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদান এবং সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পীরজাদা মুফতী সৈয়দ বাকের মোস্তফা আল-হোসাইনীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন পীরজাদা মাওলানা মুফতী সৈয়দ মঈনুদ্দিন আহমাদ আল-হোসাইনী, মাওলানা মুফতী সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব পীর মুফতী গিয়াসউদ্দিন আত-তাহেরীসহ বাংলাদেশ আঞ্জুমানে খাদিমুল ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলন শেষে আগত মুসল্লিরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সম্মিলিতভাবে জসনে জুলুস এবং আনন্দ মিছিল করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়ছার লিংকনের বিরুদ্ধে পীর সাহেব ফান্দাউক দরবার শরীফের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ এবং প্রত্যাহারের দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ তুহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহবুবা ফেরদৌস শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন। 'রুখব দুর্নীতি, গড়ব দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ'—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রোববার (২৩ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্লাব (টাউন ক্লাব) মিলনায়তনে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহী এবং জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর মো. ইব্রাহিম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মো. তানভির আহমেদ সিদ্দিক, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউল করিম বাবু, মাসুদুল হক ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক রোকসানা খাতুন, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. রওশনয়ারা, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুবিনা আনিস এবং নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন এবং হেফজুল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজিজুর রহমান। চ্যাম্পিয়ন নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দলের সদস্য ছিলেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়িশা আনজুম, দশম শ্রেণির সাফিয়া আনজুম ও দশম শ্রেণির মাহবুবা ফেরদৌস। দলের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. শফিউল আজম। একই দলের মাহবুবা ফেরদৌস শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার অর্জন করে।

তারুণ্যের উদ্দীপনায় মুখর এই প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিতার্কিকরা যুক্তি, তথ্য ও উপাত্তের মাধ্যমে দুর্নীতির কুফল এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা তুলে ধরেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কের মতো সৃজনশীল ও যুক্তিনির্ভর আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উক্ত অনুষ্ঠানে দুদকের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপকূলের প্রতিটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


উপকূলের প্রতিটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বাগেরহাট, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুপেয় পানির কষ্ট লাঘবে উপকূলের প্রতিটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে।

আজ রোববার, উপজেলার দিগরাজ এলাকায় বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নবাসীদের মাঝে ট্যাংক বিতরণ কালে তিনি এই সব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, তীব্র লবণাক্ততা অধ্যুষিত উপকূলীয় মোংলাসহ আশপাশ এলাকায় সুপেয় পানির মারাত্মক সংকট বিদ্যমান। এই সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে তার মাধ্যমে চাহিদা পূরণে উপকূলের জনগোষ্ঠীর মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উপকূলের কোন মানুষ যেন সুপেয় পানির জন্য কষ্ট না পায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সুপেয় পানির উৎস উন্নয়নে সরকারী পুকুরগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে চিলা, চাঁদপাই, সোনাইলতলা, মিঠাখালী ও সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে ট্যাংক বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এদিন ৬টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোংলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান জনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%