০৬:০০ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্যের সমীকরণ এখন পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা ভাগ হয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় থেকে বেরিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলো এখন চীনের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে চিরবৈরী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও তৈরি হচ্ছে সরাসরি যোগাযোগের নতুন একটি আঞ্চলিক কূটনীতি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল প্রধান। মার্কিন সামরিক শক্তি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি বাণিজ্যের মূল গ্যারান্টার ছিল। কিন্তু এখন সেই পুরনো সমীকরণ ভাঙতে শুরু করেছে।
ওয়াশিংটন বর্তমানে কেবল সামরিক শক্তির মাধ্যমে প্রভাব ধরে রাখতে পারছে, অন্যদিকে এশিয়ার পরাশক্তি চীন বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত কূটনীতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিশিগানে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই দশকে চীন ও আরব দেশের মধ্যে বাণিজ্য ৩৬ বিলিয়ন ডলারের কাছ থেকে বেড়ে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বেইজিং এখন মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ১৯টি ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েন রেখে এবং বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে নিরাপত্তা দিলেও, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পূর্বের অবস্থান হারিয়েছে।
ইরানের যুদ্ধ এই বিপরীতমুখী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালীতে যখন সংঘাত চরম আকার ধারণ করে, তখন চীনের জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়ে। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে চীনের সামরিক সক্ষমতা অভাব ছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন দাবি করে যে তাদের নৌবাহিনী পথ সচল রাখছে দামি নিরাপত্তার কথা বলে, কিন্তু মূলত এই অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই পক্ষে চলে যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিপাকে পড়েছে। ওয়াশিংটনের উপর থেকে পূর্ণ ভরসা তুলে নিতে না পারলেও, তার নীতি ও প্রতিশ্রুতিতে আর শতভাগ নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে না তারা। এতে সৌদি আরব, ইরান এবং তুরস্ক মার্কিন মধ্যস্থতা ছাড়া সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: ১০ বছর পর মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বের হতে পারবে সদস্য দেশগুলো
এই নতুন অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে শীতল যুদ্ধকালীন ‘হেলসিঙ্কি চুক্তির’ আদলে একটি আঞ্চলিক নন-অ্যাগ্রেশন প্যাকের প্রস্তাব আলোচনা হচ্ছে। তবে দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং প্রক্সি যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা না থাকায় এই উদ্যোগ সার্থক হবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, অর্ধশতাব্দী পরে মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এখন নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই নির্ধারণের এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন