মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৮ পি.এম
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন স্থানে জয় (২৩) নামের এক যুবককে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে জয় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত যুবক জয় টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তির সিরাজুল ইসলামের পুত্র।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে জয় বাসায় ফিরছিলেন। টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছানোর পর আগে থেকেই ওৎপেতে থাকা কয়েকজন যুবক তার ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জয়কে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় জয় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জয়কে উদ্ধার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূর আলম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিব নদীতে মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মাছের অভাবের কারণে স্থানীয় মৎস্য জীবিরা জীবিকার তাগিদে শামুক তুলে বিক্রি করছেন। এর ফলে, প্রকৃত মৎস্য জীবি পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীতে সারা দিন শামুক তুলে একেক জন মৎস্য জীবি ২ শ' টাকা থেকে আড়াই শ' টাকা উপার্জন করছেন। এই অর্থ দিয়ে সংসার চালাতে তারা হিমসিম খাচ্ছেন।
এলাকাবাসী ও মৎস্য জীবিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তানোর উপজেলার শিব নদী পাড়ের মালশিরা, মাদারীপুর, রঘুনাথপুর ও বাতাসপুর গ্রামের প্রায় ৪ শতাধিক জেলে পরিবার রয়েছে। তারা সাধারণত এই নদীতে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যান্য বছর এ নদীতে মাছের দেখা মিললেও, এ বছর একদম মাছ নেই। ফলে, জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে তারা শামুক তুলছেন।
তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির বাতাসপুর মৎস্য জীবি পাড়ার প্রকৃত মৎস্য জীবি হাবিল আলী বলেন, "এক সময় এই নদী মাছে ভরপুর ছিল। গত বছরও কিছুটা মাছ পাওয়া গেছে। কিন্তু এবছর একদম মাছ নেই। জীবিকার তাগিদে ৪ জন থেকে ৫ জন জেলে দলবদ্ধভাবে সারা দিনে ৫ থেকে ৬ বস্তা শামুক তুলছেন। প্রতি বস্তা শামুক ১৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। একজন মৎস্য জীবি দিনে ২শ' টাকা থেকে আড়াইশ' টাকা উপার্জন করছেন।"
পারিশো বাতাসপুর গ্রামের মিরাজ নামের আরেক মৎস্য জীবি জানান, বর্তমানে পানি কমে যাওয়া, অবৈধভাবে দখল ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে নদীতে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। ফলে, জেলেরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাল ফেলেও মাছ পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তারা নদী ও বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, "এক সময় এই বিলের প্রচুর মাছ পাওয়া যেত এবং মাছের মেলাও করা হতো। কিন্তু সেই দিন এখন আর নেই।"
এলাকার মৎস্য জীবিরা জানান, এই শামুকগুলো হাঁসের খাদ্য এবং চুন তৈরির কাজে ব্যবহারের জন্য বাজারে বিক্রি করা হয়। শামুক বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চলছে তাদের। বাতাসপুর গ্রামের ওবাইদুর রহমান সুজন বলেন, "প্রকৃত মৎস্য জীবিদের একমাত্র ভরসা এই শিব নদী। এবছর নদীতে মাছ নেই। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিকল্প কোনো কাজও নেই। দুরবিসহ জীবন যাপন করছেন মৎস্য জীবীরা।" শিতলী পাড়ার মৎস্য জীবি বিশু বলেন, "শিব নদীর কোথাও মাছ নেই। এমনকি বিল কুমারী বিলেও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গত বছর ডিসেম্বর মাসের দিকে বিল কুমারী বিরে মাছ না পেয়ে শামুক তুলে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। বিল কুমারী বিলে অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া গেছে, তার ৪ ভাগের ১ ভাগও মাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে না। বিলে পানি আছে কিন্তু তেমন মাছ নেই। সারা দিনে ৫শ' টাকারও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।"
সচেতন মহল বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এবং অবৈধ চাইনা দুয়ারী জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে দেশীয় প্রজাতির ছোট ছোট বাচ্চা মাছ অবাধে স্বীকার করার ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। দীর্ঘদিন আগে বিল কুমারী বিলে তৈরি অভয়াশ্রম সংস্কার না করায় বিলে পানি থাকে না। অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে শিব নদী ও বিল কুমারী বিলের মাছে ভরপুর থাকতো, কিন্তু এখন আর তা দেখা মিলছে না।
তবে, তানোর উপজেলার খাস পুকুরগুলো মৎস্য জীবি সমবায় সমিতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে লীজ দেয়ার নীতি মালা তৈরি করা হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না প্রকৃত মৎস্য জীবিরা। সমিতির সভাপতিরা ওই সমিতিগুলো প্রভাবশালীদের কাছে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে নিজেদের লাভবান করছেন। আর প্রকৃত মৎস্য জীবিরা হচ্ছেন বঞ্চিত। একাধিক মৎস্য জীবি সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। তারা কেউ কোনো পুকুর চাষের সঙ্গে জড়িত হতে পারছেন না। এব্যাপারে তানোর উপজেলা মৎস্য অফিসার সাজু চৌধুরী বলেন, "শিব নদীর পানি কমে যাওয়ায় মাছও কমে যাচ্ছে। বিল কুমারী বিলের অভয়াশ্রম সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত মৎস্য জীবিদের তালিকা তৈরি করে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য অনেককেই গরু দেয়া হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি মৌসুমে পাবনার সুজানগর পৌর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো সবরিকলা বিক্রির ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, এই সব কলা খাওয়ার ফলে অনেকেই পেটের পীড়া এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
সুজানগর পৌর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক মন্তব্য করেন, "এক শ্রেণির অসাধু কলা ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার জন্য কাঁচা কলা কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে গাছপাকা হিসেবে বিক্রি করছেন।" স্থানীয় ভোক্তারা জানাচ্ছেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ওই কলা প্রতি হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে, তা খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কলা ব্যবসায়ীরা বাজারের আশপাশের গুদামে কাঁচাকলা রেখে রাতের অন্ধকারে তাতে কেমিক্যাল প্রয়োগ করেন। এর ফলে কলা দ্রুত পেকে যায়। কেমিক্যাল মিশিয়ে পাকানো ওই কলা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সকালে এবং বিকালে অবাধে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডাঃ ওয়াসিম খান সতর্ক করে বলেন, কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা শিশু-কিশোরদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি উল্লেখ করেন, শিশু-কিশোররা এই কলা খেয়ে পেটের পীড়া, কিডনি সমস্যা, লিভার সমস্যা এবং ব্লাড ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান জানিয়েছেন, শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কলা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে চোরাই অটোরিকশাসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬জন সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. দুপুরে সদর থানার ভবানীপুর এলাকার পাকা রাস্তার ওপর থেকে তাদের গ্রেপ্তার ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুলসীঘাট বাজারের একটি কনফেকশনারি দোকানের সামনে থেকে এক চালকের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ অভিযানে নামে।
আজ দুপুর ২টার দিকে ভবানীপুর সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর চোরাই অটোরিকশাটি সহ মূল অভিযুক্ত মো: রাকিব হাসান (৩০) এবং তার পেছনে বসা সহযোগী আরও ৪ আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুপুর ২:২০ মিনিটে চুরির গাড়িটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং চুরির ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় চুরির মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজই তাদের বিজ্ঞ আমলী আদালতে (সদর) সোপর্দ করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলহাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ জেলার পোরশায় শারদীয় দূর্গাপুজা উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভাটি সভাপতিত্ব করেন ইউএনও রাকিবুল ইসলাম। সভায় প্রধান অতিথি সনাতন ধর্মালম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপুজা যথাযথভাবে উদযাপন করার জন্য এবং যে কোন বিশৃংখলা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় থানা অফিসার ইনচার্জ জিয়াউর রহমান এবং বিভিন্ন পূজামন্ডব পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এবারে উপজেলায় ১৯টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসব উদযাপন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ