ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লেবানন থেকে ইসরায়েল না সরলে আলোচনা নয়: ইরানের অবস্থান


লেবানন থেকে ইসরায়েল না সরলে আলোচনা নয়: ইরানের অবস্থান

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েল সেনা না সরলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত ধরনের আলোচনা বন্ধ করা হবে। এই তথ্যটি দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদ যদি পূরণ না করা হয়, তাহলে আলোচনা কার্যকর হবে না। ওই অনুচ্ছেদ অনুসারে, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার পাশাপাশি লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। তাসনিম জানায়, "চুক্তির ১ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়িত না হলে আলোচনা একেবারেই নিরর্থক।"

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত বৃহস্পতিবার এক সমঝোতা চুক্তি সই করার পরের ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করার জন্য রবিবার সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনা শুরু করেছে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এবং কাতারও যুক্ত হয়েছে। বৈঠক শুরু হওয়ার আগে ইরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেবানন নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরনা বার্তা সংস্থার একটি ভিডিওতে প্রকাশ বলেছেন, ইহুদি রাষ্ট্র (ইসরায়েল) লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। রবিবারের বৈঠকে এটি হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইসরায়েল এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তারপরেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উল্টো দাবি করেছেন, লেবাননের হুমকি মোকাবেলায় তারা স্বাধীনভাবে কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। তবে ইরান লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে অটল রয়েছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

ইরান পূর্বে বলেছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে এবং জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে না পাওয়া পর্যন্ত তারা পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে যেসব আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১০ এম


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে যেসব আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে যখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক সম্পন্ন হয়, তখন একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও তিনি এই তথ্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে মালয়েশিয়ার সুসম্পর্কের গুরুত্ব স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মন্তব্য করেন যে, তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমবাজার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে, পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক জনমত গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যহ্নভোজে অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সহ সফরসঙ্গীরা। এই মধ্যহ্নভোজে মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত শিল্পীরা মালয় এবং বাংলা ভাষায় গান পরিবেশনসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমজ ভাইদের সঙ্গে যমজ বোনদের বিয়ে, একটি ব্যতিক্রমী প্রেমের কাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১২ এম


যমজ ভাইদের সঙ্গে যমজ বোনদের বিয়ে, একটি ব্যতিক্রমী প্রেমের কাহিনী

ভালোবাসার গল্প অনেক রকম হয়ে থাকে। তবে এরকম বিশেষ একটি গল্প খুব কমই শোনা যায়, যেখানে যমজ দুটি ভাই বিয়ে করেন যমজ দুটি বোনকে, এবং কাকতালীয়ভাবে দুই জোড়া নবদম্পতির নামও এক!

নাইজেরিয়ার ইবাদান শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন একটি ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন। যমজ ভাই তাইও ওগুনতোয়ে এবং কেহিন্দে ওগুনতোয়ে বিয়ে করেছেন যমজ বোন তাইও আদেদিরান ও কেহিন্দে আদেদিরানকে। এর আরও মজার বিষয় হলো, ভাই তাইওর জীবনসঙ্গী হয়েছেন বোন তাইও, আর ভাই কেহিন্দে বিয়ে করেছেন বোন কেহিন্দেকে।

গত শনিবার (২০ জুন) রঙিন আয়োজনের এই দ্বৈত বিয়েতে চারজনই পরেছিলেন একইভাবে তৈরি পোশাক। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে ইবাদানের বিশপ আকিনইয়েলে মেমোরিয়াল অ্যাংলিকান চার্চে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

কিন্তু এই প্রেমের গল্পের শুরুটা এতটা সহজ ছিল না। বর তাইও জানান, ‘আমরা সবসময়ই একসঙ্গে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, আর আমাদের ইচ্ছা ছিল যমজ মেয়েদেরই বিয়ে করার।’

কিন্তু শুরুতে, দুই বোন মোটেও এই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। হাসতে হাসতে কনে কেহিন্দে বলেন, ‘আমরা প্রথমে বলেছিলাম, না, আমরা যমজদের সঙ্গে প্রেম করতে চাই না।’

সময়ের সঙ্গে বদলে যায় তাদের সিদ্ধান্ত। বন্ধুত্ব থেকে শুরু হয় সম্পর্ক, আর সেই সম্পর্কই শেষে গড়ায় বিয়েতে। বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করে চারজনই একসাথে নতুন জীবনে পা রাখেন।

বিয়ের আগে ঐতিহ্যবাহী বাগদান অনুষ্ঠান এবং পরে জমকালো ‘হোয়াইট ওয়েডিং’ অনুষ্ঠিত হয়। গত রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে যমজ ভাইরা যৌথ পোস্টে লেখেন, ‘যমজরা বিয়ে করল যমজদের! গতকালের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল অসাধারণ। আমাদের আনন্দের দিনে যারা পাশে ছিলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ আরেকটি পোস্টে তারা লেখেন, ‘চিরদিনের জন্য একসঙ্গে।’

ইয়োরুবা সংস্কৃতিতে ‘তাইও’ নামের অর্থ হচ্ছে ‘যমজদের মধ্যে যে প্রথম পৃথিবীর স্বাদ নেয়’। অন্যদিকে ‘কেহিন্দে’ অর্থ হলো ‘যমজদের মধ্যে পরে জন্ম নেওয়া সন্তান’।

এই অনন্য বিয়ের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে ‘দ্বিগুণ ভালোবাসা’ এবং ‘নিখুঁত কাকতালীয়তা’ বলে অভিহিত করেছেন। একই শহরে, একই সময়ে, একই রকম নামের দুই জোড়া যমজের এই মিলন যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে কবরস্থানে মিলল ককটেল মজুতের গোপন আস্তানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৩ এম


শরীয়তপুরে কবরস্থানে মিলল ককটেল মজুতের গোপন আস্তানা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ একটি পারিবারিক কবরস্থান থেকে এক বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে জাজিরা পৌরসভার কবিরাজকান্দি এলাকায় বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পোঁছে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলামত সংগ্রহের সময় জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেমায়েত বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে স্থানীয় শাহজাহান বেপারীর পারিবারিক কবরস্থানের একটি সন্দেহজনক স্থানে নজর দেন।

পরে কবরস্থানের এক কোণে ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে পরিচালিত তল্লাশি চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের বালতি উদ্ধার করা হয়। যখন বালতিটি খুলে দেখা হয়, তখন সেখানে বিপুল পরিমাণ ককটেল পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ককটেলগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের মতামত হলো, নির্জন এবং লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় কবরস্থানটিকে ককটেল মজুদের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে, কাদের দ্বারা এই ককটেল সেখানে রাখা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, তা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, বিকেলে ঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলোর সম্পর্ক রয়েছে কি না সে বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ককটেলের উৎস, মজুদের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।

জাজিরা থানার ওসি মো. সালেহ্ আহাম্মদ বলেছেন, "ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে একটি কবরস্থান থেকে এক বালতি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে। কারা এসব ককটেল সেখানে মজুত করেছিল এবং কী উদ্দেশ্যে রেখেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৫ এম


প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা নিয়ে। এই সফরটি সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলে নতুন আশাবাদের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা এ সফরের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন।

বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ক ইতোমধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদন খাতে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নসহ নানা বড় প্রকল্পে চীনা অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়ন কাঠামোতে গতি এনেছে। বর্তমানে চীন বাংলাদেশে একটি অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রধান আমদানিকারক দেশ হিসেবেও পরিচিত। যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, শিল্প কাঁচামাল এবং টেক্সটাইল ইনপুটের বড় অংশই চীন থেকে আসে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল (রোববার) মালয়েশিয়ায় দু'দিনের সফরে গেছেন। এটি তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষ করে আজ (সোমবার) রাতে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গত শনিবার গণমাধ্যমে জানান, সফরের সময় চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। সেই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেছেন, চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়গুলো আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবার বিষয়।

আসাদ আলম জানান, সফরের সময়ে বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা এবং প্রটোকল স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের শুরুতে দালিয়ানে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে তিনি 'ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ' শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বেইজিংয়ে গিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, এক্সিম ব্যাংকসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।

আগামী ২৫ জুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ প্রধান অতিথি হিসেবে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে এই বাণিজ্যের কাঠামো মূলত আমদানিনির্ভর হওয়ার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি অংশ তুলনামূলকভাবে কম।

তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও জিডিআই এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিভিত্তিক কাঠামো নয়, এটা মূলত একটি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, প্রযুক্তি স্থানান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতায় যথেষ্ট পরিবর্তন আসতে পারে।

তারা দেখছেন, চীনের বিনিয়োগ যদি অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ না থেকে উৎপাদন শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, হালকা প্রকৌশল এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পেও সম্প্রসারিত হয়, তাহলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন একটি মাত্রা প্রদান করতে পারে।

তাঁর মতে, চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শিল্প, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষিখাতে আগ্রহ দেখালেও সেই কাক্সিক্ষত মাত্রার বিনিয়োগ এখনো আসেনি।

মোহা. খোরশেদ আলম আরও বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগ সক্ষমতা বাংলাদেশে কাজে লাগানো গেলে পুঁজিবাজার আরও গভীর এবং স্থিতিশীল হতে পারে। একই সাথে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ালে উৎপাদন সক্ষমতা বহু গুণ বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ টানার জন্য নিশ্চিত নীতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদি চীনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় না রাখা হয়, তবে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকা ও চীনা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এতে মার্কিন ডলার নির্ভরতা কমবে এবং লেনদেন ব্যয় হ্রাস ঘটবে।

চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি সিসিইসিসির দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ শু বাসসকে জানান, চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, এই উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ চীনা ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবেন।

ব্যবসায়ীদের মতামত, আগামী দিনে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি তিনটি মূল বিষয়ের উপর নির্ভর করবেÑবিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর। এই তিন ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%