ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠাবে পর্তুগাল?


রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠাবে পর্তুগাল?

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সম্ভবত পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির পর, প্রশ্ন উঠছে, পর্তুগাল কি তার ৭ নম্বর জার্সিটি অবসরে পাঠাতে সক্ষম হবে?

রোনালদোর পরবর্তী ম্যাচ ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর, যেখানে তিনি ওয়েলসের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। মোট ২৩৪টি ম্যাচে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। ২০০৩ সালে অভিষেকের সময় তিনি ১৬ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তিনি ৭ নম্বর জার্সিটি পান। এই জার্সি পরে তিনি ইউরো ২০১৬ এবং দুটি নেশনস লিগ জিতেছেন। ১৪৬ গোল নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের মধ্যে গোলের রেকর্ডধারী এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার দখলে রয়েছে।

রোনালদোর বিদায়ের ফলে জার্সি নম্বর অবসরে পাঠানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। ফুটবলে এ বিষয়ে ফিফার একটি কম পরিচিত নিয়ম বিদ্যমান। সেই নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো জার্সি নম্বর অবসরে পাঠানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এশিয়া কাপ

তবে ক্লাব ফুটবলে বিষয়টি ভিন্ন। কিছু ক্লাব তাদের কিছু জার্সি নম্বরকে অবসরে পাঠিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে দিয়োগো জোতার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর লিভারপুল তার ২০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠিয়েছে। ইয়োহান ক্রুইফের ১৪ (আয়াক্স), পাওলো মালদিনির ৩ (মিলান), ফ্রাঙ্কো বারেসির ৬ (মিলান) এবং জুড বেলিংহামের ২২ (বার্মিংহাম সিটি) জার্সিও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দল কোনো খেলোয়াড়ের জার্সি অবসরে পাঠাতে পারে না। ফিফা এবং ফিফার কনফেডারেশনগুলোর টুর্নামেন্টে প্রতিটি জাতীয় দলকে স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়ের জন্য পরপর নম্বর নির্ধারণ করতে হয়।

পর্তুগাল উয়েফার অধীনে খেলে। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি দলে ২৬ জন খেলোয়াড় ছিল। তাই নম্বর নিতে হয়েছে ১ থেকে ২৬ পর্যন্ত।

আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা (এএফএ) একবার চেষ্টা করেছিল। বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার সম্মানে ১০ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠানোর জন্য তারা আবেদন করেছিল। ২০০২ বিশ্বকাপের আগে ফিফা সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। ফলে জার্সিটি পরে আরিয়েল ওর্তেগা। ইতালির ক্লাব নাপোলি অবশ্য ম্যারাডোনার ১০ নম্বর অবসরে পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুন: সিলেটে হৃদয়ের রেকর্ডময় দিন

পর্তুগাল এ ধরনের কোনো চেষ্টা করেনি। রোনালদোর আগে ৭ নম্বর জার্সি পরতেন আরেক ব্যালন ডি’অর জয়ী লুইস ফিগো। তিনি ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন। ফিগোর সঙ্গে খেলার সময় রোনালদো ১৭ নম্বর পরতেন। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে নানি ও রিকার্দো কারেজমাও ৭ নম্বর জার্সি ব্যবহার করেছেন।

সেপ্টেম্বরে রোনালদো পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর, রাফায়েল লেয়াও ফাঁকা ৭ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছেন। ওই আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশনস লিগের বাকি দুটি ম্যাচ ছিল ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিরুদ্ধে। এই কারণে, পর্তুগাল রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সিটিকে অবসরে পাঠানোর সম্ভাবনাকে আপাতত ক্ষীণ মনে করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজী নজরুল ও আমির হামজার ঘটনায় জামায়াত গুম হয়ে গেছে: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


গাজী নজরুল ও আমির হামজার ঘটনায় জামায়াত গুম হয়ে গেছে: রাশেদ খান

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার নারীঘটিত ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী গুম হয়ে গেছে, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

তিনি শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই মন্তব্যটি করেন।

পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ‘কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার সঙ্গে কোনো সাংবাদিক যোগাযোগ করতে পারছে না। তিনি শুরুতে কারো কল রিসিভ করছিলেন না। বর্তমানে তিনি নাম্বার বন্ধ করে রেখেছেন। এরপর সাংবাদিকরা যখন তার বক্তব্য নিতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে যান, তখন সেখান থেকে জানানো হয়েছে আমির হামজা বাড়িতে নেই!’

তিনি আরও বলেন, ‘কুষ্টিয়া জামায়াতের আমির কে এম আলী মহসীনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না। তিনিও স্থানীয় সাংবাদিকদের ফোন ধরছেন না বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে গাজী নজরুলের পর আমির হামজার ঘটনায় দল হিসেবে জামায়াত গুম হয়ে গেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। চলমান সংঘাতের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া এই দাবি করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ২২৮টিরও বেশি স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসবের মধ্যে কিছু স্থাপনা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আকরামনিয়া আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিই কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে না। এ কারণে মার্কিন বাহিনীকে তাদের যুদ্ধজাহাজের জ্বালানি এবং সেনাসদস্যদের প্রয়োজনীয় রসদ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা কখনোই এই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণ করতে দেব না।’

তবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সেগুলোর বর্তমান কার্যক্ষমতা নিয়ে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বাবা-মায়ের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বাবা-মায়ের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টার পর, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জিয়াউর রহমানের সমাধি জিয়ারত করেন। এরপর তাঁরা ফাতিহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি রাজধানীতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। এ শোভাযাত্রাটি বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হবে, যেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হেঁটে অংশ নেবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয়াপল্টন থেকে শুরু করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‍্যালিটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, ‘নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।’

র‍্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের কারণে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। শোভাযাত্রা সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ভরাডুবিতে ২০২৮ সালের নির্বাচনের হিসাব–নিকাশ বদলেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


ট্রাম্পের ভরাডুবিতে ২০২৮ সালের নির্বাচনের হিসাব–নিকাশ বদলেছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনা এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের ফলে ডেমোক্র্যাটরা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আত্মবিশ্বাস ও গতি পাবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের বিপর্যয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভালো ফলাফল করলেই যে দুই বছর পর হোয়াইট হাউসে জয় নিশ্চিত, তা নয়। অতীতে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। ২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় সাফল্য পেয়েছিলেন, কিন্তু ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন।

এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেননি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা পর্দার আড়ালে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ নিয়ে বক্তব্যকেও অনেকে ২০২৮ সালের নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার পথ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক সাফল্য আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চারটি দিক।

১. মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী নেতাদের সামনে বাড়তি সুযোগ

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিককে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে তাদের কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করেছেন।

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটি রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেখানে জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অসফ আগে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে তার সফল প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি মুহূর্ত তাকে জাতীয় পর্যায়ে আরো পরিচিত করেছে।

২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো। তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে সহজেই পরাজিত করেছেন। শাপিরো এখনও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পেনসিলভানিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা জাতীয় পর্যায়েও তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ করে দিতে পারে।

ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেবি প্রিটজকারও জয় পেয়েছেন। অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তার এবারের নির্বাচনি প্রচারকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতির মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হতে পারেননি। তবে অঙ্গরাজ্যের ধনীদের ওপর কর আরোপের একটি প্রস্তাব নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এ বিষয়ে গণভোটের ফলাফল তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছেন।

রিপাবলিকান শিবিরেও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিনেটর টম কটন ও গভর্নর সারা হাকাবি স্যান্ডার্স দুজনই নিজেদের পদ ধরে রাখতে পেরেছেন। স্যান্ডার্স ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ছিলেন। তবে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যটিতে তাদের দুজনেরই জয়ের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। দুজনই মাত্র অর্ধেকের কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন।

২. চাপের মুখে জেডি ভ্যান্স ও ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠরা

নির্বাচনের পর বিভিন্ন জরিপের ফলাফল বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এর ফলে বর্তমান প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকা সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কারেন বেকউইথ বলেছেন, এবারের নির্বাচনি প্রচারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভ্যান্স।

নির্বাচনে পরাজয়ের দায় থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন ভ্যান্স। একই সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। ওই অভিযান রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকানদের জন্য বড় বিপর্যয় হয়ে উঠেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স লিখেছেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।’

অন্যদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ার কথা ভাবছেন—এমন খবর অস্বীকার করেছেন মার্কো রুবিও।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বাইরে থাকা সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থীরা এবারের ফলাফলে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেন। তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে দলের পরাজয়ের কারণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।

সিনেটর টেড ক্রুজ এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি বলেছেন, রিপাবলিকান রাজনীতিকদের অনেকের আচরণ দেখে মনে হয়েছে, ভোটারদের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে তারা যেন ‘চিন্তিতই নন’।

তিনি লিখেছেন, ‘এখন পরিস্থিতি অন্ধকার। তবে ভোর হওয়ার ঠিক আগেই অন্ধকার সবচেয়ে গভীর হয়। সকাল আসছে।’ এরপর তিনি বলেন, এটাই তার আন্তরিক প্রার্থনা এবং জনগণের প্রতি তার অঙ্গীকার।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও রিপাবলিকানদের পরাজয়ের সমালোচনা করেছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে বড় ব্যবধানে হেরে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের জয়কে সামনে এনে তিনি বলেছেন, কীভাবে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, তার উদাহরণ এই ফলাফল।

৩. ডেমোক্র্যাটদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে মধ্যপন্থি ও বামপন্থিদের লড়াই

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যপন্থি ও বামপন্থি—দুই অংশই। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ।

বারাক ওবামার সাবেক উপদেষ্টা জিম মেসিনা বিবিসিকে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের অসংখ্য নেতা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।

মিশিগানে আল-সাইয়েদের জয় বামপন্থি ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি অঙ্গরাজ্যে তার জয় বামপন্থি প্রার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তার সমর্থকেরা মনে করছেন, এই সাফল্য ২০২৮ সালের নির্বাচনে বামপন্থি প্রার্থীদের অবস্থান আরো শক্ত করবে।

প্রগ্রেসিভ চেঞ্জ ক্যাম্পেইন কমিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম গ্রিন বলেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো এখন আর আগের মতো কার্যকর নয়। অর্থনৈতিক বিষয়ে জোর দেওয়া সাহসী জনতুষ্টিবাদী ও প্রচলিত রাজনীতির বাইরের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয়ী হতে পারেন, তা প্রমাণিত হয়েছে।

গ্রিনের মতে, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের মতো নেতাদের জন্য এখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা এখন বিশ্বাস করতে পারেন, তাদের পক্ষেও জয় পাওয়া সম্ভব।

তবে মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাটরাও এবারের নির্বাচনে দেশজুড়ে সাফল্য পেয়েছেন। মধ্যপন্থি ও রক্ষণশীল ডেমোক্র্যাটদের সংগঠন ‘ব্লু ডগ ককাস’ কংগ্রেসে অন্তত ১৪টি আসন পেয়েছে। এর ফলে সংগঠনটির বর্তমান আকার প্রায় দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে।

এই সাফল্যের পর দলের মধ্যপন্থিরা মনে করছেন, বাস্তববাদী এবং রক্ষণশীলদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী প্রার্থীরা রিপাবলিকান ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে পারবেন।

এবারের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকটকে গুরুত্ব দেওয়া ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ভালো করেছেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচনেও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টির ফেডারেল অ্যাফেয়ার্সবিষয়ক পরিচালক আমিরাহ সিকুয়েরাহ বলেন, ২০২৮ সালে সফল প্রার্থীদের অর্থনৈতিক জনতুষ্টিবাদের পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয়ের মধ্যে তথ্যকেন্দ্র বা ডেটা সেন্টার নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

৪. হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থন পেতে নতুন করে চেষ্টা করতে হবে

২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে দুই দলকেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত রাজনৈতিক মানচিত্র এবং ভোটারদের সমর্থনের নতুন সমীকরণের মুখোমুখি হতে হবে। একসময় রিপাবলিকানদের নিশ্চিত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত অনেক এলাকাতেও এখন আর দলটির জয় নিশ্চিত নয়।

টেক্সাসে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে রিপাবলিকানদের হাতে এখন মাত্র একটি পদ রয়েছে। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটির ৪০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক সিনেট প্রার্থী ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্রিস্টিনা পাসকুচ্চি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। কোনো দলই এখন নিজেদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটিকে নিশ্চিত ধরে নিতে পারে না।

বর্তমানে বৈশ্বিক যোগাযোগ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী পাসকুচ্চির মতে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলকেই দোদুল্যমান ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে হবে। এসব ভোটারের সমর্থন কোনো দলের একচেটিয়া নয়।

এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের শ্রমজীবী ও হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনে ভাটা পড়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এসব ভোটারের মধ্যে যে অগ্রগতি অর্জন করেছিলেন তিনি, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার অনেকটাই উল্টে গেছে।

কনজারভেটিভ রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং একসময় টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করা ড্রিয়েনা সিক্সটো বলেন, ২০২৮ সালের নির্বাচনে হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থন ফিরে পেতে রিপাবলিকানদের প্রচারের ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, ‘গতবার নির্বাচনি প্রচারে নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা এবং মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল।’

সিক্সটোর মতে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসের প্রচারে অভিবাসীদের বহিষ্কারের বিষয়টি অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়েছে। আর এখানেই বিভাজন তৈরি হয়েছে।

তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা বা পুনরুদ্ধার করা রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দোদুল্যমান ভোটারদের মনোভাব এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%