ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ গেল ১৪ জনের


ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ গেল ১৪ জনের

ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় রোববার উভয় দেশেই অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় অন্তত নয়জন নিহত এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। যুদ্ধের প্রায় সাড়ে চার বছরের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভ উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার পরিধি এবং তীব্রতা বাড়ানোর যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তা চিন্তার বিষয়।

এ ধরণের তথ্য কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়া এ বছর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বসার চাপ দিতে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা এবং খুচরা পণ্যের গুদাম সহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। রোববার দিনের শুরুতে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় চারজন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে একটি খেলার মাঠের কাছে থাকা ১৩ বছর বয়সী একটি কিশোরীও রয়েছে, যিনি গুরুতর আহত হন। অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ বলেন, ‘১৩ বছর বয়সী মেয়েটি গুরুতর আহত হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার আঘাত জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুতর ছিল।’

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানাল মিসর ও পাকিস্তান

অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ওলগা আব্রামোভা জানান, কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী রাশিয়ার রাতে অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় দুই জন নিহত হন। এ ছাড়াও, রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি গাড়িতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আরও তিনজন নিহত হন, যদিও অঞ্চলটি যুদ্ধের সম্মুখসার থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা অর্থহীনতার দিক থেকে ভয়াবহ। নিহতরা কোনোভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুইজন নিহত হন। দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া এবং খেরসন অঞ্চলে অন্তত একজন করে নিহত হওয়ার খবরও এসেছে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ থেকে। ডাকসেবা প্রতিষ্ঠান নোভা পোশতা জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক হামলায় একটি ডাক পরিবহন টার্মিনাল ধ্বংস হয়ে একজন ডাককর্মী নিহত হয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা আলোচনা কার্যত স্থগিত হয়ে আছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পরে এই আলোচনা আর এগোয়নি। তবে মস্কো এবং কিয়েভ— উভয় পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে হামলা, মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপ চাইল হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


গাজায় যুদ্ধবিরতিতে হামলা, মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপ চাইল হামাস

যুদ্ধে বিরতি বজায় থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েল যে হামলা চালাচ্ছে, তা বন্ধে দ্রুত চাপ প্রয়োগের জন্য স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল রবিবার সংগঠনটি এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেয়।

এছাড়া, তারা অভিযোগ করেছে যে, যুদ্ধবিরতির সফল বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে।

হামাসের দাবি অনুযায়ী, গতকাল রবিবার সকালে ইসরায়েলি হামলায় ১৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, বেশ কিছু পরিবারের সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মধ্যস্থতাকারী দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতাকে ভেঙে দিতে যুদ্ধবিরতিতে হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে, ‘যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহুর সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই সামরিক অভিযানকে ত্বরান্বিত করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন বিপর্যস্ত করা।’

হামাস মধ্যস্থতাকারী এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে জড়িত দেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে। একইসাথে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত হামলা বন্ধের জন্য এবং চুক্তি মেনে চলার জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, সংগঠনটি জানিয়েছে, এই হামলাগুলো যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন ইসরায়েলি নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় এবং ফিলিস্তিনিরা এখনও গণহত্যা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। তাদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

এদিকে, গত শুক্রবার গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে একটি সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পিস বোর্ড যৌথভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে। পিস বোর্ড জানায়, হামাস একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ইসরায়েল এখনও কিছু জানায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাব এল-মানদেবে আতঙ্ক: এক ধাক্কায় কমলো জাহাজ চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৫ পি.এম


বাব এল-মানদেবে আতঙ্ক: এক ধাক্কায় কমলো জাহাজ চলাচল

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা বাব এল-মানদেব প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল থমকে গেছে। গত শুক্রবার এখানে ২৮টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছিল। কিন্তু গতকাল রবিবার সেই সংখ্যা কমে মাত্র ১৮টিতে নেমে এসেছে।

এর পিছনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের সংঘাত ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি রয়েছে। এই কারণে অনেক নাবিক প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করতে চাইছেন না।

কেপলারের ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য হয়েছে। যার ফলে জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়েছে। গত শনিবারও ২৭টি জাহাজ চলাচল করেছিল। কিন্তু রবিবারের হামলার পর আতঙ্কের মাত্রা বেড়ে গেছে।

সপ্তাহের শুরুতে চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে তাহলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল আরও কমে যেতে পারে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থবিরও হয়ে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের উপলব্ধি অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী ইসরায়েল ও সৌদি আরব-সম্পৃক্ত বা তাদের সমর্থিত জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে যাওযার কারণে পুরো এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ৩

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কেন্দ্রস্থলে একটি জনপ্রিয় ইতালিয়ান রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনা ঘটে ‘কৃদ্রিনস্কায়া স্কয়ারের’ ‘বালজি রসি’ রেস্তোরাঁয়। বিস্ফোরণের পর পুলিশের কর্ডন সরিয়ে নেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। রেস্তোরাঁর গ্রীষ্মকালীন টেরাসের সাথে সংযুক্ত দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জানালার কাচ ভেঙে গেছে।

রাশিয়ার ন্যাশনাল অ্যান্টি টেররিজম কমিটির তথ্য অনুযায়ী, হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস বহনকারী এক নারী রেস্তোরাঁয় প্রবেশের চেষ্টা করলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই নারী সম্ভবত একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পার্সেল পৌঁছাতে এসেছিলেন এবং তিনি ভিতরে কী ছিল, সে বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, রেস্তোরাঁর নিরাপত্তাকর্মী ওই নারীকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় রেস্তোরাঁয়ে রাশিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি উঠলেও অতিথিদের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে ক্রেমলিনও কোনো মন্তব্য করেনি।

ইতালিতে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মস্কোর অন্যতম পরিচিত ইতালিয়ান রেস্তোরাঁকে লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে রাশিয়ায় কর্মরত ইতালীয় নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনার গুরুত্ব পাওয়ার পরেও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ বিস্ফোরণের খবর খুব সীমিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। রবিবার সকালের প্রধান সংবাদ বুলেটিনে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ খবর প্রচারিত হলেও এই বিস্ফোরণের কোনও উল্লেখ ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তেই ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাকে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকটে আবারও অন্ধকারে ডুবল পুরো কিউবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


জ্বালানি সংকটে আবারও অন্ধকারে ডুবল পুরো কিউবা

জ্বালানি এবং খুচরা যন্ত্রাংশের তীব্র সংকটে কিউবার বিদ্যুৎ খাত আগে থেকেই টালমাটাল ছিল। এ অবস্থার মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো দেশ অন্ধকারে তলিয়ে যায়।

রবিবার (২ আগস্ট) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ঘোষণার মাধ্যমে কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানি ‘ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা’ (ইউএনই) এ তথ্য জানায়। তবে বিপর্যয়ের নির্দিষ্ট কারণ, এর বিস্তৃতি এবং কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এর পূর্বে রাজধানী হাভানায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল অস্থির। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ট্রান্সফরমারের ত্রুটি, সার্কিট বিকল হওয়া এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণেই পরিকল্পিত লোডশেডিং চালু রাখতে হচ্ছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর থেকেই গুয়ানাবাকোয়া, হাবানা দেল এস্তে, লা লিসা ও মারিয়ানাওসহ নানা পৌরসভা থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে।

সাধারণত এমন দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউটের ক্ষেত্রে প্রথমে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতের মতো জরুরি খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন ছোট পাওয়ার নেটওয়ার্ক চালু করা হয়। তারপর ধাপে ধাপে বড় পাওয়ার স্টেশনগুলোকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

দেশব্যাপী ঘন ঘন ব্ল্যাকআউট:

রোববারের এই ঘটনা চলতি বছর দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ধারাবাহিক ব্ল্যাকআউটের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে জুলাই মাসে মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে তিনবার জাতীয় গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে, যার মধ্যে একই সপ্তাহে দুবার পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর একটি বিপর্যয়ে প্রায় এক কোটি মানুষ অন্ধকারে যায়। সেবারের পরে নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করার পরও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারায় সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষকে চরম কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছিল।

জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের অভাব এবং পুরোনো থার্মোইলেকট্রিক বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বারবার ত্রুটির কারণে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আজ চরম অবস্থায় রয়েছে। দেশটির কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়স ৩০ বছরেরও বেশি এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও খুবই সামান্য হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে দুষছে কিউবা সরকার:

কিউবা সরকারের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে ওয়াশিংটন দায়ী। যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তেল সরবরাহের পাশাপাশি অর্থায়ন ও সরঞ্জাম পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেন, যার ফলে কিউবা তাদের জ্বালানির প্রধান উৎস হারায়।

দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল ভেনেজুয়েলা। কিন্তু ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মেক্সিকো থেকেও তেল আমদানিতে বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের এক অংশের মতে, দশকের পর দশক ধরে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের অভাব এবং অব্যবস্থাপনাই মূলত এই তীব্র সংকটের জন্য দায়ী।

দীর্ঘস্থায়ী এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশটির পরিবহন ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ, টেলিযোগাযোগ ও চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে খাবার সংরক্ষণ, রান্না করা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%