প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় রোববার উভয় দেশেই অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় অন্তত নয়জন নিহত এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। যুদ্ধের প্রায় সাড়ে চার বছরের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভ উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার পরিধি এবং তীব্রতা বাড়ানোর যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তা চিন্তার বিষয়।
এ ধরণের তথ্য কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়া এ বছর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বসার চাপ দিতে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা এবং খুচরা পণ্যের গুদাম সহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। রোববার দিনের শুরুতে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় চারজন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে একটি খেলার মাঠের কাছে থাকা ১৩ বছর বয়সী একটি কিশোরীও রয়েছে, যিনি গুরুতর আহত হন। অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ বলেন, ‘১৩ বছর বয়সী মেয়েটি গুরুতর আহত হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার আঘাত জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুতর ছিল।’
অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ওলগা আব্রামোভা জানান, কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী রাশিয়ার রাতে অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় দুই জন নিহত হন। এ ছাড়াও, রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি গাড়িতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আরও তিনজন নিহত হন, যদিও অঞ্চলটি যুদ্ধের সম্মুখসার থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা অর্থহীনতার দিক থেকে ভয়াবহ। নিহতরা কোনোভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।’
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুইজন নিহত হন। দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া এবং খেরসন অঞ্চলে অন্তত একজন করে নিহত হওয়ার খবরও এসেছে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ থেকে। ডাকসেবা প্রতিষ্ঠান নোভা পোশতা জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক হামলায় একটি ডাক পরিবহন টার্মিনাল ধ্বংস হয়ে একজন ডাককর্মী নিহত হয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা আলোচনা কার্যত স্থগিত হয়ে আছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পরে এই আলোচনা আর এগোয়নি। তবে মস্কো এবং কিয়েভ— উভয় পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন