রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ পি.এম
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে এক দিনে এক হাজারের বেশি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, রবিবার ইহুদিদের সুক্কোট উৎসবের দ্বিতীয় দিনে এক হাজার ১৪৩ জন ইসরায়েলি মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তায় তারা ধারাবাহিকভাবে মাগরিবি গেট দিয়ে আল-আকসায় প্রবেশ করেন। এ সময় কিছু ইহুদি ধর্মীয় প্রার্থনা ও বিভিন্ন আচার পালন করেন। প্রাঙ্গণে উদ্ভিদজাত উৎসর্গ সামগ্রীও নিয়ে আসা হয় বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গভর্নরেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগত স্থিতাবস্থা লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতার অংশ। চলতি মাসে মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পূর্বে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খালেদ মেশাল শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলের বিভিন্ন পদক্ষেপ ওই স্থানের ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করছে বলেও তিনি মনে করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১০ মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তির এক মাস ১০ দিনের মাথায় মারা গেলেন সাংবাদিক আজহার আলী সরকার। তার বয়স ছিল ৫৭ বছর।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আজহার আলী। তার অবস্থার অবনতি হলে, তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রোকসানা পারভীন।
রোকসানা পারভীন বলেন, ‘শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। পরে বেশি অসুস্থ হওয়ায় বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে আমরা সেখান থেকে বের করি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার জন্য। তখনই রাস্তায় মারা গেছে।’
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজহার আলী দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। তার দুই ছেলে রয়েছে।
রবিবার আসরের নামাজের পর রাজধানীর বনশ্রীর আইডিয়াল মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আজহার আলী সরকারকে গত বছরের ১০ অক্টোবর ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরিবারের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যায় ডিবির একটি দল বনশ্রীর বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন তাকে রমনা থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কাশিনগরের একটি মাদরাসার দুই ছাত্রী মাহিমা আক্তার মাহি (১২) ও মরিয়ম আক্তার তানিশা (১৩) গত চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীর মায়েরা থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেছেন, যা তাদের উৎকণ্ঠার মাত্রা বাড়িয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মো. আরিফ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ মাহিমা আক্তার মাহি ওই ইউনিয়নের জুগীরকান্দি গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মহি উদ্দিনের কন্যা। অপরদিকে, মরিয়ম আক্তার তানিশা দুবাই প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের কন্যা।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করে জানা যায়, মাহিমা আক্তার মাহি (১২) ও মরিয়ম আক্তার তানিশা কাশিনগর বাজারের ভুশ্চি রোডে অবস্থিত আল-আমিন মহিলা মাদরাসার ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় তারা বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করার পর শুক্রবার তানিশার মা সালমা বেগম ও মাহিমার মা তাসলিমা বেগম চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডাইরি করেন। রবিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ তাদের কোনো সন্ধান পায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ ছাত্রীরা মানবপাচারকারী চক্রের হাতে পড়তে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত তাদের উদ্ধার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তানিসার মা সালমা বেগম ও মাহিমার মা তাসলিমা আক্তার জানান, তাদের মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাগলা থেকে পটুয়াখালী হাইওয়ে সড়কে দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল হাইওয়ে পুলিশ।
আজ বরিশাল হাইওয়ে পুলিশের এসআই জয়ন্ত কুমার দাসের নেতৃত্বে এ বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়।
অভিযানে সড়ক পরিবহন আইন ও ট্রাফিক নিয়ম না মানা চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা রোধে এ ধরনের চেকপোস্ট ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টসের (বিআরআইসিএম) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খানকে ‘ভুয়া পিএইচডি’ ও ‘অপর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা’ নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আট বছর ধরে আদালতে তার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও সম্প্রতি অডিট অধিদপ্তর এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যোগ্যতা না থাকার কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়ায় সরকারের ১ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন খাতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকাসহ মোট ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান, তথ্য এবং প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তরের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কমপ্লায়েন্স অডিটে এ আপত্তি উত্থাপন করা হয়। ২৮ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বিআরআইসিএমের কার্যক্রমের ওপর করা অডিটে মোট ১৩টি আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি গুরুতর আর্থিক অনিয়ম (এসএফআই) এবং ৭টি সাধারণ আর্থিক অনিয়ম (নন-এসএফআই) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগের শর্ত ছিল বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ১৪ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা ও বিশেষ অবদান। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাছাই কমিটির সভায় মালা খানের প্রয়োজনীয় গবেষণা অভিজ্ঞতা ও অবদানের প্রমাণ না থাকায় তার আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল।
পরে জানা যায়, যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি পিএইচডি করেছেন, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত নয়। এরপরও তার আবেদন পুনর্বহাল করা হলে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট বিসিএসআইআরের ডিপিসি-১ তাকে তৎকালীন ডিআরআইসিএমের (বর্তমান বিআরআইসিএম) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে সুপারিশ করে। তবে বিসিএসআইআর বোর্ডের ২৮৬তম সভায় এই সুপারিশ নাকচ করে দেওয়া হয়।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন মালা খান এবং পক্ষে রায় পান। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে সরকার। ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন। কিন্তু আট বছর পার হলেও আপিল বিভাগে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি না হলেও মালা খান ২০১৭ সাল থেকে আজও (প্রায় ৯ বছর) অবৈধভাবে চাকরি করে যাচ্ছেন। নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি মালা খানের নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ পেলে ২০২৫ সালের ২৫ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। কিন্তু তিনি চতুরতার সঙ্গে ২০১৭ সালের অমীমাংসিত মামলাকে সামনে রেখে সাময়িক বরখাস্তের বিপরীতে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন।
বিআরআইসিএম সূত্র জানায়, ২০২২ সালে একটি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে মালা খানকে দ্বিতীয়বার বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু রিট পিটিশনের মাধ্যমে সেই আদেশের ওপরও স্থগিতাদেশ বাগিয়ে নেন তিনি।
বিআরআইসিএমে ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার অনিয়ম : অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু নিয়োগই নয়, প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক লুটপাট ও বিধি লঙ্ঘনের চিত্র পাওয়া গেছে। যার মধ্যে রয়েছে পারসোনাল লেজার (পিএল) খাত থেকে ব্যয় না দেখিয়েই ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা উত্তোলন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ফেলোশিপ ভাতা দিয়ে ৬২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা অনিয়মিত ব্যয়। বিল থেকে বিধি অনুযায়ী আয়কর ও ভ্যাট কর্তন না করায় প্রায় ২১ লাখ টাকার ক্ষতি। বাজেট বরাদ্দের শর্ত লঙ্ঘন করে বিল পরিশোধের মাধ্যমে ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অনিয়মিত ব্যয় হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন খাতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ও অনিয়মিত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৩১ টাকা। এসব আপত্তির জবাব চেয়ে গত ১০ আগস্ট বিআরআইসিএমকে চিঠি দিয়েছে অডিট অধিদপ্তর।
এদিকে, মালা খানের অভিযোগের বিষয়ে গত ২১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও বিআরআইসিএমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু আজও বিআরআইসিএম এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এসব বিষয়ে বিআরআইসিএম-এর মহাপরিচালক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘অডিট আপত্তিগুলো মূলত অডিট দপ্তরের। যেসব বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে জবাব দেওয়ার পর অডিট দপ্তর আবার যাচাই-বাছাই করে। এরপর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তা ছাড়া ওই সময় আমি প্রশিক্ষণে থাকায় অন্য একজন দায়িত্বে ছিলেন। ফলে এখনই বলতে পারছি না।
মালা খানের মামলার বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘এটি আদালতের বিষয়। আদালতে চলমান বিষয়ে এ মুহূর্তে বলার কিছু নেই।’ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো দেওয়া হয়নি। জবাব তৈরির কাজ চলছে।’
মালা খানের বক্তব্য জানতে চাইলে তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। কিন্তু বিআরআইসিএমে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করা হলে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে জানান তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয়। তার স্বপক্ষে তথ্যপ্রমাণ দেবেন বলে প্রতিবেদকের সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর বসার কথা জানালেও পরে সাড়া দেননি।
এসব বিষয়ে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মহাপরিচালক মো. নূরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও সাড়া দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ