বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৫ পি.এম
চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকা অনন্য। এই দেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস এবং অন্যান্য যে কোনো দুর্যোগে তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে। শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নয়, স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ বিতরণ এবং সচেতনতা কার্যক্রমসহ যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্যাডেটদের প্রশংসনীয় সক্ষমতা রয়েছে’।
গদকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। কর্ণফুলী রেজিমেন্টের অধীনে ১১ বিএনসিসি ব্যাটালিয়ানের তত্ত্বাবধানে হাটহাজারী সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের আয়োজনের মাধ্যমে উক্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোর্স-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ১১ বিএনসিসি ব্যাটালিয়ানের কোম্পানি কমান্ডার ও হাটহাজারী সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগের প্রভাষক ২/লে. মো. আবু তালেব।
ক্যাডেট ল্যা. কর্পোরাল সৈয়দ মো. আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী প্রেস ক্লাব সভাপতি কেশব কুমার বড়ুয়া, নাজিরহাট কলেজ বিএনসিসি প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার ড. দোলন কান্তি ভট্টাচার্য, হাটহাজারী সরকারি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মনজুর আলী তালুকদার, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবু মুছা মো. মামুন, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দীন চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জয়নুল আবেদীন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবদুল্লাহ আল আহসান চৌধুরী এবং অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মায়মুন আলী।
এ সময় হাটহাজারী সরকারি কলেজ প্লাটুনের সামরিক প্রশিক্ষক কর্পোরাল মো. আতিকুর রহমান, সদ্য বিদায়ী সিইউও ইমতিয়াজুল হক, ক্যাডেট সার্জেন্ট ফাতেমা আক্তার মিম এবং শ্রাবন্তি বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোর্সে বিশেষ ক্লাস পরিচালনা করেন হাটহাজারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, হাটহাজারী সরকারি কলেজ, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ, নাজিরহাট কলেজ এবং ফতেয়াবাদ আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক ক্যাডেট স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আমেনা খাতুন (২৮) দীর্ঘ নয় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহত আমেনার পরিবার, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের শতাধিক নারী-পুরুষ প্রধান আসামির গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত আমেনার মা জাহানারা বেগম, নানা লোকমান হাকিম, ভাই জাকির হোসেন, এলাকাবাসী মহুবার রহমান, আওয়াল ইমন, স্বপ্না রানী রায়, লালমনিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি স্বপ্না আক্তার এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিমা ইয়াসমিন প্রমুখ।
বক্তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আদিতমারী উপজেলার খাতাপাড়া এলাকার মৃত আমিনুর ইসলামের মেয়ে আমেনা খাতুনকে বিয়ের পর থেকেই শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেওয়া হয়। এসিডের কারণে ওই স্থানে পরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। বক্তারা বলেন, আমেনার ওপর চালানো এই অমানবিক নির্যাতন কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। বক্তারা দ্রুত প্রধান আসামি আফজাল হোসেন আপনসহ সব আসামিকে গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবি জানান। নিহতের ভাই জাকির হোসেন জানান, নয় বছর আগে আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার আফজাল হোসেন আপনের সঙ্গে আমেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে আমেনার শয়নকক্ষে তাঁর গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেয় স্বামী আফজাল। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও দীর্ঘ নয় বছরেও বিচার শেষ হয়নি। মামলার প্রধান আসামির মা আছিয়া বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর বিচার চেয়ে নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। নিহতের মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার মেয়েকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। এসিডের কারণে গোপন অঙ্গে ঘা হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সে কষ্ট পেয়েছে।" অবস্থার অবনতি হলে গত ১২ আগস্ট তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই আমার মেয়ে মারা যায়। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরে জেলা বস্ত্র দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও শ্রমিক সদস্যরা ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের নয়আনী বাজার সড়কে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শেরপুর জেলা বস্ত্র দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাজন দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোরাদ হোসেনের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি দিদারুজ্জামান সিদ্দিকী।
কর্মবিরতি ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী দোকান কর্মচারীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, মুসলমান সম্প্রদায়ের দোকান কর্মচারীদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১০০% অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ বোনাস প্রদান করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মের ধর্ম উৎসব উপলক্ষে অনুরূপ বোনাস প্রদান করারও দাবি জানানো হয়। শ্রম আইন অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ৮ ঘণ্টা ডিউটি নিশ্চিত করা এবং বার্ষিক ছুটি প্রদান করতে হবে।
তারা আরও দাবি করেন, সংগঠনের কার্ডধারী কর্মচারী ও শ্রমিকদের ছাড়া কোনো কর্মচারী নিয়োগ প্রদান না করার জন্য বস্ত্র দোকান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও বস্ত্র দোকান কর্মচারীদের মৃত্যুকালীন ভাতা প্রদানের দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর পৌরসভা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশের মধ্যে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে পৌরসভার উদ্যোগে এই বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের আওতায় পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, ড্রেন, নালা এবং আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় পৌরসভার পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়। কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।
পৌরবাসীর উদ্দেশে সচেতনতামূলক বার্তায় জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধুমাত্র পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নগরবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণও অপরিহার্য। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে শেরপুর পৌর শহরকে ডেঙ্গু ও আবর্জনামুক্ত রাখতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের কারণে আফাজ উদ্দিন (৪৬) নামক এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার দায়ে মো. হবিবর রহমান, যিনি গোদা নামেও পরিচিত (৪০), মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন।
আদালত একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হবিবর রহমান পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা (প্রধানপাড়া) গ্রামের মো.
আছির উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ মার্চ রাতে পাটগ্রাম উপজেলার রহমানপুর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত আফাজ উদ্দিন স্থানীয় বাজার থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কাঁচা রাস্তার ওপর আসামি হবিবর রহমানের হাতে ধারালো ছোরা বা ছুরি দিয়ে আকস্মিকভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম হন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফাজ উদ্দিন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রমজান আলী বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, "এই ন্যায়বিচার সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।" ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ