বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৬ পি.এম
শেরপুরে জেলা বস্ত্র দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও শ্রমিক সদস্যরা ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের নয়আনী বাজার সড়কে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শেরপুর জেলা বস্ত্র দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাজন দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোরাদ হোসেনের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি দিদারুজ্জামান সিদ্দিকী।
কর্মবিরতি ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী দোকান কর্মচারীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, মুসলমান সম্প্রদায়ের দোকান কর্মচারীদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১০০% অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ বোনাস প্রদান করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মের ধর্ম উৎসব উপলক্ষে অনুরূপ বোনাস প্রদান করারও দাবি জানানো হয়। শ্রম আইন অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ৮ ঘণ্টা ডিউটি নিশ্চিত করা এবং বার্ষিক ছুটি প্রদান করতে হবে।
তারা আরও দাবি করেন, সংগঠনের কার্ডধারী কর্মচারী ও শ্রমিকদের ছাড়া কোনো কর্মচারী নিয়োগ প্রদান না করার জন্য বস্ত্র দোকান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও বস্ত্র দোকান কর্মচারীদের মৃত্যুকালীন ভাতা প্রদানের দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর পৌরসভা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশের মধ্যে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে পৌরসভার উদ্যোগে এই বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের আওতায় পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, ড্রেন, নালা এবং আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় পৌরসভার পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়। কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।
পৌরবাসীর উদ্দেশে সচেতনতামূলক বার্তায় জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধুমাত্র পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নগরবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণও অপরিহার্য। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে শেরপুর পৌর শহরকে ডেঙ্গু ও আবর্জনামুক্ত রাখতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের কারণে আফাজ উদ্দিন (৪৬) নামক এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার দায়ে মো. হবিবর রহমান, যিনি গোদা নামেও পরিচিত (৪০), মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন।
আদালত একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হবিবর রহমান পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা (প্রধানপাড়া) গ্রামের মো.
আছির উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ মার্চ রাতে পাটগ্রাম উপজেলার রহমানপুর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত আফাজ উদ্দিন স্থানীয় বাজার থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কাঁচা রাস্তার ওপর আসামি হবিবর রহমানের হাতে ধারালো ছোরা বা ছুরি দিয়ে আকস্মিকভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম হন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফাজ উদ্দিন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রমজান আলী বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, "এই ন্যায়বিচার সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।" ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ছাদের প্লাস্টার বিকট শব্দে ভেঙ্গে পড়ার কারণে ৫ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়ার কক্ষটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্রাদার রফিকুল ইসলাম (৪৫), মেটসের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী অনিক (২৪), পৌর এলাকার সুজপুর প্রফেসরপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে ফেরদৌস (২০), মিরপুরের আব্বাস আলী (২৬) এবং পাকাপানের নরেন চন্দ্র (৩৮)। ব্রাদার রফিকুল ইসলাম কিছুটা বেশি আহত হয়েছেন। ফেরদৌসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্য দুইজন সামান্য আহত হওয়ায় তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি।
ঘটনার পর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করেন। কিছু সময়ের জন্য জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে পার্শ্বের কক্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। ঘটনার সময় চিকিৎসা নিতে আসা লক্ষ্ণপুর গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, "তিনি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পেসেন্ট বেডে শুয়ে থাকার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে ছাদের প্লাস্টার ভেঙ্গে পড়ে। এতে তিনি আহত না হলেও অনেকে হয়েছেন।"
ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. শামীমা আক্তার সুইটি জানান, "ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে রোগী ও রোগীর লোকজনে কক্ষটি ভরপুর ছিল। আকস্মিকভাবে বিকট শব্দে ছাদের প্লাস্টার ভেঙ্গে পড়ে এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "আহতদের মধ্যে ব্রাদার রফিকুল ইসলাম একটু বেশি আহত হলেও তেমন গুরুতর নন। অন্যরাও গুরুতর আহত নন।"
দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এজেএস মোস্তাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, "ভবনটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা জরুরি।" ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, "ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে অনেক রোগী ও তাদের লোকজন ছিলেন। তবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এটাই বড় কথা।" তিনি আরও জানান, "বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রকৌশলী এসেছেন সরেজমিনে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় সম্পত্তি বিরোধের কারণে ঘটে যাওয়া ডাবল মার্ডারের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু (৫৮), তার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) এবং মেয়ে ইতি (১৮)। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদনগর থানার ধরানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলম তিতু (৩৫) ও খালেদা আক্তার বেবিকে (৭০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল দ্রুত তদন্ত ও অভিযানে নামেন।
পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২০ ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার মূল আসামি ট্রেনযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে মঞ্জুরুল আলম তিতু ও খালেদা আক্তার বেবিকে হত্যার ঘটনায় নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেখানো তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে তাদের কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ