বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ পি.এম
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের কারণে আফাজ উদ্দিন (৪৬) নামক এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার দায়ে মো. হবিবর রহমান, যিনি গোদা নামেও পরিচিত (৪০), মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন।
আদালত একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হবিবর রহমান পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা (প্রধানপাড়া) গ্রামের মো.
আছির উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ মার্চ রাতে পাটগ্রাম উপজেলার রহমানপুর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত আফাজ উদ্দিন স্থানীয় বাজার থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কাঁচা রাস্তার ওপর আসামি হবিবর রহমানের হাতে ধারালো ছোরা বা ছুরি দিয়ে আকস্মিকভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম হন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফাজ উদ্দিন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রমজান আলী বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, "এই ন্যায়বিচার সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।" ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ছাদের প্লাস্টার বিকট শব্দে ভেঙ্গে পড়ার কারণে ৫ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়ার কক্ষটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্রাদার রফিকুল ইসলাম (৪৫), মেটসের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী অনিক (২৪), পৌর এলাকার সুজপুর প্রফেসরপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে ফেরদৌস (২০), মিরপুরের আব্বাস আলী (২৬) এবং পাকাপানের নরেন চন্দ্র (৩৮)। ব্রাদার রফিকুল ইসলাম কিছুটা বেশি আহত হয়েছেন। ফেরদৌসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্য দুইজন সামান্য আহত হওয়ায় তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি।
ঘটনার পর জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করেন। কিছু সময়ের জন্য জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে পার্শ্বের কক্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। ঘটনার সময় চিকিৎসা নিতে আসা লক্ষ্ণপুর গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, "তিনি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পেসেন্ট বেডে শুয়ে থাকার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে ছাদের প্লাস্টার ভেঙ্গে পড়ে। এতে তিনি আহত না হলেও অনেকে হয়েছেন।"
ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. শামীমা আক্তার সুইটি জানান, "ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে রোগী ও রোগীর লোকজনে কক্ষটি ভরপুর ছিল। আকস্মিকভাবে বিকট শব্দে ছাদের প্লাস্টার ভেঙ্গে পড়ে এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "আহতদের মধ্যে ব্রাদার রফিকুল ইসলাম একটু বেশি আহত হলেও তেমন গুরুতর নন। অন্যরাও গুরুতর আহত নন।"
দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এজেএস মোস্তাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, "ভবনটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা জরুরি।" ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, "ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে অনেক রোগী ও তাদের লোকজন ছিলেন। তবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এটাই বড় কথা।" তিনি আরও জানান, "বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রকৌশলী এসেছেন সরেজমিনে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় সম্পত্তি বিরোধের কারণে ঘটে যাওয়া ডাবল মার্ডারের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু (৫৮), তার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) এবং মেয়ে ইতি (১৮)। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদনগর থানার ধরানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলম তিতু (৩৫) ও খালেদা আক্তার বেবিকে (৭০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল দ্রুত তদন্ত ও অভিযানে নামেন।
পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২০ ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার মূল আসামি ট্রেনযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে মঞ্জুরুল আলম তিতু ও খালেদা আক্তার বেবিকে হত্যার ঘটনায় নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেখানো তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে তাদের কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ধামইরহাটে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের ঝরে পড়া রোধে একটি অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়েছে। শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার আলো থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয়, সেই উদ্দেশ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শপথগ্রহণের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সহযোগিতায় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অঙ্গীকার ও গ্রপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তাহমিনা সারমিন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফ হাসান, ওয়ার্ল্ড ভিশনের নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টার ডেপুটি ডিরেক্টর রাজু ইউলিয়াম রোজারিও, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. হানজালা, পৌর বিএনপির সভাপতি সহিদুর রহমান সরকার, এপি ম্যানেজার লাবলু খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের পথে একটি বড় বাধা। এসব সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একত্রে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ এবং শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, শিশুশ্রম শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দারিদ্র্য, অসচেতনতা এবং পারিবারিক নানা সংকটের কারণে অনেক শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। এসব সমস্যা সমাধানে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী শ্রীশ্রী দুর্গা পূজা ও শারদোৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে বরিশাল বিভাগের সর্বাধিক পূজা মন্ডবের সভাপতি ও সম্পাদকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি আগৈলঝাড়া উপজেলার সকল পূজামন্ডপের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার সকাল দশটায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এম জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি। সভায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।
একই দিনে, দুপুরে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনের সাথে শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
সভাটি সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপম মজুমদার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ