০৯:১৪ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে এক ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডটি গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং মুহূর্তের মধ্যে একটি বসতঘর সম্পূর্ণরূপেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রাণ রক্ষার্থে দরজা খুলে বাইরে ঝাঁপ দিয়ে রক্ষা পেয়েছে একই পরিবারের চার সদস্য। তবে, তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ঘর, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সবকিছুই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে স্বজনের বাড়িতে অত্যন্ত কষ্টকর জীবন যাপন করছে। রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলার বদরপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দাবি, আগুনে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মালামাল এবং প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত যুবক মুরাদ হোসেন রাঢ়ী জানিয়েছেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হতে দেখার পর তার মা সুমি বেগম চাচা নাসির উদ্দিনকে বিষয়টি জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে নাসির উদ্দিন এসে সিলিন্ডারটি পরীক্ষা করতে শুরু করেন। কিন্তু, ঠিক সে সময় লিক হওয়া গ্যাসে পুরো ঘর ভরে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পারার আগেই সিলিন্ডার চালু করে আগুন জ্বালানোর পর বিকট শব্দে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরো জানিয়েছেন, ওই সময় ঘরে থাকা তিনি, তার মা সুমি বেগম, ভাগ্নি ওজিহা এবং চাচা নাসির উদ্দিন প্রাণভয়ে দরজা খুলে বাইরে ঝাঁপ দেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আগুন পুরো ঘরকে গ্রাস করে। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের চোখের সামনে পুড়ে যায় তাদের সমস্ত সম্বল। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করল ঠিকই কিন্তু তারা সফল হননি। খবর পেয়ে কাউখালী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, বাড়ির সঙ্গে সংযোগকারী প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা এমন অবস্থায় ছিল যে, যান চলাচলের জন্য অনুপযোগী ছিল, ফলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে নি। কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সাজিবুল ইসলাম বলেন, "সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার এক কিলোমিটার রাস্তা যানবাহনের চলাচলের জন্য অনুপযোগী হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। পরে হাতে এবং ভ্যানগাড়িতে করে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পুরো বাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়।" ক্ষতিগ্রস্ত মুরাদ হোসেন জানান, কয়েক মাস আগে তার বাবা ফারুক হোসেন মারা গেছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে পরিবারটির দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়েছে। বর্তমানে নিজের কোনো বসতঘর না থাকায় তিনি চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সেখানে একসঙ্গে এতজনের বসবাস করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। পরিবারের দাবি, পরনের কাপড় ছাড়া প্রায় সবকিছুই আগুনে পুড়ে গেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান তৎক্ষণাৎ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য শুকনো খাবার, চাল এবং কম্বল পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, চাল এবং কম্বল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে থাকবে। সরকারি বিধি অনুযায়ী তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে পরিবারটি দ্রুত সরকারি সহায়তা পায়। সব হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি সরকারের কাছে জরুরি পুনর্বাসন, একটি নতুন বসতঘর নির্মাণে সহায়তা এবং আর্থিক অনুদানের আবেদন জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন