১২:৩৪ পি.এম
এক পাশে অবস্থিত মসজিদ, অন্য পাশে রয়েছে মন্দির। তাদের মাঝে দূরত্ব মাত্র ১০ ফুট, এবং দরজাগুলো প্রায় মুখোমুখি। একদিকে শোনা যায় আজানের সুর ও নামাজের তাকবির, অন্যদিকে চলছে পূজার্চনা। তবে এ নিয়ে কোনো বিরোধ নেই; বরং দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম চলছে পাশাপাশি।
পূজা উপলক্ষে মসজিদের সীমানা প্রাচীর রং করা হয়, আবার ঈদ এলে মন্দিরের সীমানা প্রাচীরও রং করা হয়। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া বাজার এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এমন চমৎকার চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদ ও দুর্গামন্দির।
ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের পাশে অবস্থিত দুর্গামন্দিরটি ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রায় ১৯ বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা পায় কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই দুই উপাসনালয় পাশাপাশি অবস্থান করছে। স্থানীয় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সময়ের সাথে সাথে গড়ে উঠেছে একটি অনন্য ও অটুট সহযোগিতার সম্পর্ক।
আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সময় যাতে একে অপরের উপাসনায় বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সমঝোতা। দুর্গাপূজার সময় নামাজ ও আজানের সময় হলে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা তাদের সকল বাদ্যযন্ত্র ও অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজা।
কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, "আমাদের মসজিদ ও দুর্গামন্দির একেবারে পাশাপাশি অবস্থিত। প্রায় ৫০ বছর ধরে আমরা পূজা কমিটির সাথে মতবিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের মধ্যে কোনো দিন কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি।"
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল গোয়ালা বলেন, "আমরা হিন্দু-মুসলিম সব সময় মিলেমিশে থাকি। পূজার সময় আমরা মসজিদের সীমানাপ্রাচীর রং করে দিই, আবার ঈদের সময় তারা মন্দিরের সীমানাপ্রাচীর রং করে দেয়। আশা করি, আমাদের এই সৌহার্দ্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় জানান, কামাইছড়ায় দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এটি আবহমান কাল ধরে চলে আসা সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, "এখানকার মানুষের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছেন।"
১০ ফুটের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই উপাসনালয় কেবল ধর্মীয় ক্ষেত্র নয়, বরং মানবতা, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সহনশীলতার এক আলোকবর্তিকা হয়ে বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে পুরো বাংলাদেশে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন