১০:২২ পি.এম
কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, "১৯৭১ সালে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এখন তাদের কাছ থেকে যুদ্ধের দীক্ষা নিতে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখের।" তিনি মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "দেশ গড়ার প্রশ্নে বলতে চাই আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যুগের মানুষ নয়, তিনি তোমাদেরই যুগের। তোমাদের ব্যথা তিনি বুঝেন। তিনি নিজেই নির্যাতিত, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁর মা নির্যাতিত ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা ততোটাই বিশ্বাস করি যতোটা বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যেবাকে। তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখো। তারেক রহমানের হাতে এদেশ পথ হারাবে না। দলে যুগ দিতে হবে না, দেশের প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে তোমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে থেকো।"
তিনি আরও বলেন, "দেশ যেখানে, মানুষ যেখানে মুক্তি যেখানে আমি সেখানে। তোমরা মেধাবী, সুবক্তা, আমরা অতোটা মেধাবী ও সুবক্তা না। তোমরা নেতৃত্বে থাকলে এদেশ সঠিক নেতৃত্বে থাকবে।"
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, "দেশ বাঁচানোর পাশাপাশি আসো সবাই কুমিল্লাকে বাঁচাই। কুমিল্লা পচে গেছে। আমি যাত্রা শুরু করেছি। কিছুটা সফলতার পথে আছি। তার কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সব্যসাচী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সবার আগে বাংলাদেশ, আমার কাছে সবার কাছে সবার আগে বাংলাদেশের পাশাপাশি সবার আগে কুমিল্লা।"
'জুলাই ৩৫শ কুমিল্লার' আয়োজনে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান।
বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে তিনি বলেন, "যারা শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিতে জীবন দিয়েছে, চোখ হারিয়েছে, যারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের আজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।"
"গণতান্ত্রিক কোন দেশে এমন কোন নজির নাই যেখানে ১ মাসে কোন শাসক হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে, হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গুত্ব পরণ করিয়েছিলো। খুনি হাসিনা তাই করেছে। এক বর্বর বাংলাদেশ থেকে আপনাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ নতুন বাংলাদেশ।"
আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
তিনি আরও বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান সবার আগে বাংলাদেশ। আমি বলি সবার আগে বাংলাদেশের পাশাপাশি, সবার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সবার আগে মুক্তিযুদ্ধ, সবার আগে জুলাই শহীদদের স্মরণ করতে হবে।"
তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লার শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। ১১ জুলাই সর্বপ্রথম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর নির্মমভাবে হামলা করেছে। কুমিল্লা যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে লড়াই করে।"
"আমাদের নানা মত, নানা আদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্ন, আওয়ামীলীগের প্রশ্নে আমরা এক ও অভিন্ন।"
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক সাকিব হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদ চৌধুরী, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আখতার হোসাইন, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব নাসির উদ্দীন, শহীদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের পিতা শাহীন মিয়া। ছাত্রশক্তি কুমিল্লা মহানগের আহ্বায়ক মোস্তাফা জিহান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়র আহ্বায়ক নাঈম ভুঁইয়া, সমন্বয়ক ত্বোহা আলমসহ নেতা-কর্মী।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ, প্রতিবাদে বাবা-চাচার সংবাদ সম্মেলন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
