১০:২৯ পি.এম
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো শুভেচ্ছাবাণীতে মন্তব্য করেন, এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে একটি অনবদ্য, গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে আসেন। একপর্যায়ে ছাত্রদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনটি ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের উদ্দেশ্যে এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ক্ষমতা হারানোর ভয় পেয়ে উন্মত্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনের জন্য ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেন। দেশবাসীর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ জালিম শাসকের রক্ত চক্ষু, গুলি, বোমাকে উপেক্ষা করে স্বৈরশাসনের শৃঙ্খল ভেঙে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশব্যাপী নিরন্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। অবশেষে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতাদের অভূতপূর্ব ও বীরত্বপূর্ণ গণঅভ্যুত্থানের ফলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তাঁর দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ফলে দীর্ঘ ১৬ বছরের একনায়কতন্ত্র, জুলুম-নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। দেশের মানুষ খুনি স্বৈরাচার ও তাদের বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের আধিপত্য থেকে মুক্তি পায়। এসবই জুলাই গণআন্দোলনের গৌরবময় ফসল।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
জামায়াতের আমির আরও জানান, এই আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচারে চালানো গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হন। কয়েক হাজার মানুষ তাদের হাত, পা বা চোখ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
তিনি শহীদ আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম সহ যেসব তরতাজা প্রাণ বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন, তাঁদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে আন্দোলনের সময় আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী, শহীদ পরিবার এবং নির্যাতিত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিলÑএকটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ইনসাফভিত্তিক, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। তারা বুকের তাজা রক্তের মাধ্যমে জাতিকে এক মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। আমাদের তাদের কাছে চিরঋণী।
তিনি আরো বলেন, অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হচ্ছে, কিছু মহলের কারণে আমরা তাদের সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ করতে পারিনি। এবারও আমাদের লড়াই এবং সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। জাতিকে যে কোনো মূল্যে এই রক্তঋণ পরিশোধ করতে হবে। আমাদের শপথ গ্রহণ করতে হবে যে, শহীদদের এই রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যাবে। বীর শহীদদের রক্তের ঋণ আমরা কেবল তখনই আংশিক পরিশোধ করতে পারব, যখন একটি বৈষম্যহীন, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হবো।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
তিনি বলেন, আসুন, আজকের এই বিশেষ দিনটিতে আমরা অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে একটি বৈষম্যহীন, সুখী-সমৃদ্ধ, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নিন। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে রক্ষা করুন এবং দেশের মানুষকে সুখে-শান্তিতে রাখুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন