০২:৫৪ পি.এম
শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী গিরিজা খালে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের লক্ষ্যে বিজিবির উদ্যোগে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
গতকাল বৃহসপতিবার রাতে দিনাজপুর ৪২ বডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি মিডিয়া সেল থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাসসকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্রটি জানাচ্ছে, শহরের মিশন রোড, ষষ্ঠীতলা ও দক্ষিণ বালুয়াডাঙ্গা এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করতে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টর ও সদর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবির উদ্যোগে গিরিজা খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘসময় ধরে শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গিরিজা খালটি স্থানীয় গৃহস্থালী বর্জ্য, পরিত্যক্ত আবর্জনা, ময়লা ও নোংরা পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে খালটিতে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য, পলি, কচুরিপানা ও আগাছা জমে পানি প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে খালের বিস্তীর্ণ অংশ জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়ে। জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে ফেলেছে।
এ অবস্থায় খাল-সম্পর্কিত এলাকায় সপরিবারে বসবাসরত বিজিবি সদস্য, তাদের পরিবারবর্গ, স্থানীয় বেসামরিক ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ দীর্ঘ সময় ধরে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্য-ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
পানি জমে থাকায় মশা, মাছি, সাপসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।
বিশেষ করে উল্লেখ করা হচ্ছে, খালটির পাশে শহীদ কর্ণেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুল ও কুঠিবাড়ী বিজিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এই দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, দুর্গন্ধ দূরীকরণ, মশা-বাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের উদ্যোগে এবং সদর ৪২ বিজিবির তত্ত্বাবধানে এই খালটির পরিষ্কার ও খনন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে ২২ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত বিজিবির নিজস্ব জনবল ও শ্রমিকদের সহায়তায় খালের ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা ও আগাছা অপসারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে
পরবর্তীতে ৪ আগস্ট থেকে দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের একটি এক্সকাভেটরের সহযোগিতায় খালে ড্রেজিং ব্যবহারের মাধ্যমে পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়, যা বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, পিএসসি বলেছেন, গিরিজা খাল সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার ও পুনঃখনন শেষ হলে, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং মশা, মাছি, সাপ ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে শিক্ষার্থী, বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশগত ভোগান্তি থেকে মুক্তি লাভ করবেন।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি ভবিষ্যতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বস্ত করেন।
আরও পড়ুন: আলীকদমে পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত ৩
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন