প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফরে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি রুপি। একই সঙ্গে ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তার বিদেশ সফরে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫৭ কোটি রুপি।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে। আম আদমি পার্টির (এএপি) সাংসদ সঞ্জয় সিং এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) সাংসদ ভি শিবদাসনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এই তথ্য দেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরে ব্যয় হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৭ রুপি (প্রায় ৭৪ দশমিক ৫৯ কোটি)। এই সময়কালে তিনি মালয়েশিয়া, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ইতালি, ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, সিশেলস, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড, মোট ১৩টি দেশের সফর করেছেন।
চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে সফরে, যেখানে খরচ হয়েছে ১৭ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯০ রুপি। এর পর রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইল সফর, যেখানে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৮ রুপি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ৫৫৭ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮ রুপি ৫৬ পয়সা (প্রায় ৫৫৭ দশমিক ৫১ কোটি)। গত বছর সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছিল ফেব্রুয়ারির ফ্রান্স সফরের জন্য, যার খরচ ছিল ২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার ৯০২ রুপি।
রাজ্যসভায় দেওয়া জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন আগের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি বিদেশ সফরের ব্যয়ের তথ্যও প্রকাশ করেছে। এই অনুযায়ী, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে ব্যয় হয়েছিল ১০ কোটি ৭৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৩ রুপি, একই বছরে ফ্রান্স সফরে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৩ রুপি। ২০১৩ সালে রাশিয়া সফরে ব্যয় হয়েছিল ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ রুপি এবং জার্মানি সফরে ব্যয় হয়েছিল ৬ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮৪ রুপি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ব্যয়ের হিসাব প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এবং এতে মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
মোদির বিদেশ সফরের কর্মসূচিতে সাধারণত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ, স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তিনি বিদেশ সফরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ স্কোয়াড্রন পরিচালিত ‘এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান’ উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেন। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) নিরাপত্তা সদস্যরা তার সঙ্গে থাকেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন