ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইবির আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে ৫০% ভর্তিতে জটিলতা


ইবির আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে ৫০% ভর্তিতে জটিলতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাদরাসা-কলেজ থেকে ৫০ শতাংশ ভর্তিনীতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত নীতিতে বলা হয়েছিল, ৫০ শতাংশ মাদরাসা এবং ৫০ শতাংশ কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের ভর্তির কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমের মধ্যে সেই শর্ত মানা হয়নি। এ বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটি জানান, পরবর্তী মাইগ্রেশন থেকে সমন্বয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৭ ডিসেম্বর, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগের জন্য ৫০:৫০ অনুপাতে আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চলমান ভর্তি কার্যক্রমে ওই নীতির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ভর্তির জন্য টাকা জমাদানকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ডের বলে জানায় বিভাগটি।

সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের মতে, আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে এ ইউনিট থেকে ৩২ জন, বি ইউনিট থেকে ৪০ জন এবং সি ইউনিট থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে মাদরাসা ও কলেজ শিক্ষার্থীদের সমান বণ্টনের কথা বলা হলেও ইউনিটভিত্তিক বণ্টনের স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় হিসাব নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁরা জানান, পরবর্তী মাইগ্রেশন থেকে বিষয়টি সমন্বয় করা হবে।

আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় অনার্সে ভর্তির সুযোগ পাওয়া নবীন শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান দাবি করেন, ভর্তি নির্দেশিকায় মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ হারে আসন বরাদ্দের বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। যদি পরে সেই শর্তে পরিবর্তন ঘটে, তবে তা শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত দেখিয়ে পরে তা বাস্তবায়ন না করা প্রতারণার শামিল। কারণ শিক্ষার্থীরা নির্দেশিকায় উল্লিখিত শর্তের ভিত্তিতেই সাবজেক্ট চয়েস করেছে।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা সদস্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন খান জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া, পরবর্তী মাইগ্রেশনে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।

অন্যদিকে, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা ইউএফটিবির রুবেল শেখ বলেন, আমি এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরাই এ সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মাকসুদুল হক তালুকদার জানান, যদি কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়ে থাকে তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল। তিনি বর্তমানে এখানে রুটিন দায়িত্বে আছেন এবং ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রক্রিয়া তদারকি করেছেন শিক্ষা শাখার কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে

এ বিষয়ে উপ-রেজিস্ট্রার শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসা-কলেজ ভারসাম্য নীতি অনুযায়ী ভর্তি পরিচালনা করা হবে। প্রথম মেরিটে হয়তো এই ভারসাম্য পাওয়া যায়নি কিন্তু আগামী মেরিট থেকে এ শর্ত অনুযায়ী ভর্তি করানো হবে।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে ‘আল-ফিকহ্’ বিভাগ চালু হয়। শুরুতে আরবিতে দক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ভর্তি পরীক্ষা হলেও পরবর্তীতে ভর্তি পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তন আসে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মাদরাসা ও কলেজ পটভূমির শিক্ষার্থীদের সমানসংখ্যক ভর্তির আয়োজন করা হয়। পরে গুচ্ছভিত্তিক উন্মুক্ত ভর্তি নীতির আওতায় সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

বিভাগের শিক্ষকদের দাবি, অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার নম্বরের আরবি ও ফিকহভিত্তিক কোর্স রয়েছে। আরবিতে দুর্বল শিক্ষার্থীরা এসব কোর্সে পিছিয়ে পড়ায় ফলাফল খারাপ হয়ে যায়, রিটেক পরীক্ষা বৃদ্ধি পায় এবং সেশনজটের মতো সমস্যা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪০ জন মাদ্রাসা ও ৪০ জন কলেজ পটভূমির শিক্ষার্থীর জন্য আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ভর্তি কার্যক্রমে কেন তা অনুসরণ করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

আরও পড়ুন: ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের তফসিলের সম্ভাবনা

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশে গঠিত ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ধারা ১.২.১ এবং ৫.১৪ তে ভর্তির ক্ষেত্রে জেনারেল ও মাদরাসা থেকে সমানসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম বেধে দেওয়া হয়। ১৯৮৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর ৫০ শতাংশ মাদরাসা থেকে নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। দুই ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ১০০ নম্বরের ইংরেজি অথবা আরবি ও ইসলামিয়াতও আবশ্যিক ছিল। বর্তমানে এই ভারসাম্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ধর্মতত্ত্ব অনুষদেও নেই জেনারেল শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশ ভারসাম্য নীতি। শুধুমাত্র আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগের জন্য তা পুনরায় কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও চলমান ভর্তি কার্যক্রমে নীতিটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিয়ানগরে গৃহবধূর পরকীয়ার জেরে শাশুড়ীকে হত্যা মামলার প্রধান আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


জিয়ানগরে গৃহবধূর পরকীয়ার জেরে শাশুড়ীকে হত্যা মামলার প্রধান আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

পিরোজপুরের জিয়ানগরে গৃহবধূর পরকীয়ার জেরে শাশুড়ীকে হত্যার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানুয়া এলাকার জামাল কাজীর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী কামাল পঞ্চায়েত (৫৫) জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত আবু পঞ্চায়েতের ছেলে।
উল্লেখ্য, গত (২৮ মে) জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামের রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের স্ত্রী নমিতা রানী পালকে পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল ও তার পরকীয়া প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েত শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ মে নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র জিয়ানগরের ইন্দুরকানী থানায় বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ সময় ওই গৃহবধূ বন্যা রানী (৩২) ও তার মামা তাপস দেবনাথকে (৪৪) গ্রেপ্তার করে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা রানী ও কামাল পঞ্চায়েতের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক থাকায় শাশুড়ি প্রায় সময় বাধা দিত। ঘটনার দিন অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাদের দেখে ফেলায় অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী কামাল পঞ্চায়েত গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিলেন এবং বার বার স্থান পরিবর্তন করছিলেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে থাকায় তার শেষ রক্ষা হয়নি। রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানু এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেখানে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহব্বত খান বলেন, রাত ৯টার দিকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামালকে র‌্যাব-৮ সদস্যরা গ্রেফতার করেছেন। পরে গ্রেফতারকৃত আসামীকে ইন্দুরকানী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে আসামী কামালকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য সংকটে চরাঞ্চলে নারীদের মধ্যে জরায়ু ও ত্বকের রোগ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


স্বাস্থ্য সংকটে চরাঞ্চলে নারীদের মধ্যে জরায়ু ও ত্বকের রোগ বৃদ্ধি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কিছু দিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের শ্রমজীবী নারীরা। দেখা যাচ্ছে, তীব্র গরমে মাঠে কাজ করার ফলে নারীদের বোধগম্যভাবে মাথা ঘোরা ও অতিরিক্ত দুর্বলতার মধ্যে জরায়ুজনিত ইনফেকশন ও ত্বকের বিভিন্ন জটিল রোগ প্রকট আকার ধারণ করছে। চিকিৎসকদের মতে, মূলত অসচেতনতা এবং লোকলজ্জার কারণে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারা জানানো হচ্ছে, গরমের এই সময়ে চরের নারীদের মধ্যে মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) এবং বিভিন্ন চর্মরোগের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। চরের বাতাসে বালুকণা বেশি থাকার কারণে এবং তীব্র রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ফলে চুলকানি, লাল দানা ও একজিমার প্রকোপ বাড়ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরমে চরের নারীদের সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত। প্রজনন স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে শরীর সর্বদা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার নিরাপদ পানি অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন পান করতে হবে। এই গরমে অতিরিক্ত ঘাম এবং দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরে থাকার কারণে কুচকি, বগল এবং আঙুলের ফাঁকে ছত্রাকজনিত (ফাঙ্গাল) ইনফেকশন হচ্ছে। ঘামের কারণে চামড়ায় লাল দানা উঠছে, যা তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া তৈরি করে।

মাঠে কাজ করার পর শরীর ভালো করে মুছে শুকনা রাখা জরুরি, এবং ঘামে ভেজা কাপড় দ্রুত বদলে ফেলা প্রয়োজন। দিনে অন্তত একবার পরিষ্কার পানিতে এক চামচ লবণ মিশিয়ে অথবা সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করতে হবে। চরের নলকূপের পানিতে অনেক সময় আয়রন বা বালুকণা থাকে। পানি পরিষ্কার করতে এক কলসি পানিতে সামান্য ফিটকিরি দিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিলে ময়লা নিচে পড়ে যাবে। পরে ওপর থেকে পরিষ্কার পানি ছেঁকে ব্যবহার করতে হবে। তবে গোসলের সময় আক্রান্ত স্থানে অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার না করার পরামর্শ রয়েছে চিকিৎসকদের।

চিকিৎসকরা জানান, চরের বেশিরভাগ নারী সুতি কাপড় ব্যবহার করেন। এই কাপড় ব্যবহারের পর পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে নারীরা ভেজা কাপড় ঘরের কোণে বা অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে জায়গায় লুকিয়ে রাখেন, যা কাপড়ে মারাত্মক জীবাণু ও ছত্রাক সৃষ্টি করে। তাই কাপড় অবশ্যই সূর্যের আলোতে শুকাতে হবে। একটি সুতি কাপড় ধুয়ে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ বার ব্যবহার করা যাবে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জন্য ক্ষারযুক্ত কাপড়ের সাবান বা অতিরিক্ত সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করা যাবে না। এতে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ইনফেকশন বাড়ে। এর পরিবর্তে কেবল পরিষ্কার কুসুম গরম পানি বা হালকা নিমপাতা সেদ্ধ পানি ব্যবহার করা নিরাপদ।

তীব্র গরমের সাথে নারীদের জরায়ু ও প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্কের বিষয়ে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ভায়া ইনচার্জ মোছা. শারমিন সুলতানা বলেছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়। চরের নারীরা যখন দীর্ঘ সময় মাঠে কাজ করেন, তখন প্রজনন অঙ্গের চারপাশ ঘামে ভেজা থাকে। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও গরমে সেখানে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া চরে কাজ করার সময় দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকানো অথবা পিরিয়ডের সময় অপরিচ্ছন্ন ভেজা কাপড় ব্যবহারের কারণে জীবাণু সহজেই জরায়ুর মুখে এবং মূত্রনালীতে প্রবেশ করে। ফলে জরায়ুতে ইনফেকশন, পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (PID), অতিরিক্ত সাদা স্রাব ও তীব্র চুলকানির সৃষ্টি ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চিলমারী হাসপাতালে গেল মে মাসে জরায়ু সংক্রান্ত প্রাথমিক পর্যায়ের সেবা নিয়েছেন ১৬ জন এবং চলতি জুন মাসের প্রথম ১০ দিনেই চিকিৎসা নিয়েছেন ১১ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চিলমারী, নয়ারহাট ও অষ্টমীরচর এলাকায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এই তীব্র গরমে আবাদি জমিতে দীর্ঘ সময় কাজ করছেন। ফলে তারা দ্রুত পানিশূন্যতায় ভুগছেন, যা তাদের প্রজনন স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দা মিমি খাতুন (ছদ্মনাম) জানিয়েছেন, ‘এমনিতেই গরমে চরের বালু দিয়ে হাঁটা যায় না। তার ওপর পেটের ব্যথায় টিকতে পারি না। লজ্জায় এসব কথা কাউকে বলা যায় না। গরম বাড়ার পর থেকে শরীর সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে গেছে, মাঝে মাঝে চোখও অন্ধকার হয়ে আসে।’

একই এলাকার রুপা খাতুন (ছদ্মনাম) বলেছেন, ‘সারাদিন মাঠে কাজ করতে হয়। প্রচণ্ড গরমে শরীর ভিজে থাকে, অনেক সময় কাপড় পরিবর্তন করার সুযোগও পাই না। কয়েকদিন ধরে চুলকানি ও জ্বালাপোড়ার সমস্যা বাড়ছে। কিন্তু সংসারের কাজের চাপে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয় না।’

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অফিস জানান, চলতি জুন মাসের প্রথম ১০ দিনে কুড়িগ্রাম জেলায় গড় তাপমাত্রা ছিল ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৫ এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭১ শতাংশ।

আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক শামছুদ্দোহা বলেছেন, বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলার সর্বোচ্চ আর্দ্রতার পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত থাকছে। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় মানুষের শরীরে গরমের অনুভূতি অনেক বেশি হচ্ছে এবং রাতেও গরম কমছে না। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে শরীরের ঘাম সহজে শুকায় না, যার ফলে অস্বস্তি ও গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।

স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. বেলাল হোসেন এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এসএসিএমও জিয়াউল হক জানান, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে চরাঞ্চলের নারীদের মধ্যে জরায়ু ও ত্বকজনিত সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অনেক নারী লজ্জার কারণে যখন চিকিৎসা নিতে চান না। তাই তাদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রান্ত সরকার জানিয়েছেন, এই তীব্র গরমে চরের নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা ও পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার নিরাপদ পানি অথবা পর্যাপ্ত স্যালাইন পান করতে হবে। যেকোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় অবহেলা না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ তিনি দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় পেকুয়ায় নিহত ২, আহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


সড়ক দুর্ঘটনায় পেকুয়ায় নিহত ২, আহত ৪

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং বাজার এলাকায় বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং চারজন আহত অবস্থায় রয়েছেন।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল নয়টার দিকে আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া (এবিসি) আঞ্চলিক মহাসড়কে টইটং বাজারের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজন হলেন নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয়কুড়ি টিক্কা এলাকার হাসান আলী (৬৫) এবং অন্যজন সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার শৈলজানা এলাকার আফজাল সরকার (৪৫)। আহতদের মধ্যে পেকুয়ার হরিণাপাড়ি এলাকার সিরাজ (৪২) ও শাহেদ (২২) রয়েছেন। এছাড়া নিহত হাসান আলীর পরিবারের সদস্য পাখি বেগম (৫৫) ও রামিম (১০) আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত পথে আসা এস আলম পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষটি ঘটে। এতে অটোরিকশাটি বেশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় চালকসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে গুরুতর দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে এবং এই ঘটনার বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে নিখোঁজের ৩ দিন পর অটোরিকশাচালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


বরিশালে নিখোঁজের ৩ দিন পর অটোরিকশাচালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

বরিশালের কালিজিরা নদী থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর মো. নাজমুল মোল্লা (২২) নামের এক অটোরিকশাচালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন কালিজিরা তেমাথা এলাকার নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাজমুল মোল্লা বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণফুলিয়া-জাগুয়া এলাকার বাসিন্দা আ. রশিদ মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নাজমুল। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন রোববার (১৪ জুন) কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান
সোমবার সকাল ৭টার দিকে কালিজিরা নদীতে একটি বস্তা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। পরে নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা এসে লাশটি শনাক্ত করেন।

হত্যার ধরন ও পুলিশের বক্তব্য
লাশের সুরতহাল দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা নাজমুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এরপর লাশটি আড়াল করতে কাঁথা দিয়ে পেঁচিয়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। চালককে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আল মামুন উল ইসলাম আরও জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%