জামিরুল হক সুজন লালমনিরহাট প্রতিনিধি
১১:২৭ এম
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় ৭ বছরের একটি শিশুর প্রতি ধ'র্ষণের অ'ভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর এলাকার সবুজ মিয়ার সাত বছরের মেয়ে। বুধবার দুপুরে সে বাড়িতে একা অবস্থান করছিল। তখন দক্ষিণ গোবদা ভিতরকুঠি গ্রামের আমিনুর ইসলামের ছেলে জীবন (২২) শিশুটিকে ধ'র্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেন শিশুটির স্বজনরা।
ঘটনার পরে শিশুটিকে তার দাদা কালাম নিয়ে হাসপাতালে আসেন। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা হচ্ছে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের দ্বিতীয় তলার ৭৩ নম্বর বেডে।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় আশুলিয়া সেতু অপসারণের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। এর ফলে নৌচ্যানেল অস্বাভাবিকভাবে সংকীর্ণ ও বাঁকযুক্ত হয়ে পড়েছে।
এ কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আশুলিয়া নৌপথে চলাচলকারী সব নৌযানকে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষ করে তেলবাহী ট্যাংকারসহ বড় ও ভারী নৌযানকে কর্তৃপক্ষের পাইলট নিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর নৌপথ শাখা থেকে সম্প্রতি এক বিশেষ নৌ-সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, আশুলিয়া সেতুর ভাটিতে নদীর উভয় তীরে পাইল স্থাপন ও স্টেজিং নির্মাণের কার্যক্রম চলছে।
একই সঙ্গে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ড্রেজার এবং অন্যান্য কর্মযান নৌপথের কাছাকাছি অবস্থান করায় সক্ষম নৌচ্যানেল অস্বাভাবিকভাবে সংকীর্ণ ও বাঁকযুক্ত হয়ে পড়েছে।
এ কারণে বিশেষ করে তেলবাহী ট্যাংকারসহ বড় এবং ভারী নৌযানের নিরাপদ মোড় নেওয়া এবং ওই এলাকা অতিক্রম করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংকীর্ণ চ্যানেলে স্রোতের গতি ও চাপ বৃদ্ধি, দৃষ্টির সীমানা কমে যাওয়া, পাইল বা স্টেজিংয়ের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং নৌযানের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতির ফলে আশুলিয়া সেতু অপসারণের পর নৌপথ পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত সব নৌযানকে বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত পাইলট নিয়ে এবং নির্ধারিত ড্রাফট মেনে, বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, দক্ষ নাবিক বা ড্রাইভার দিয়ে নৌযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে নৌযান নিরাপদ স্থানে ভিড়িয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এই ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাতি জ্বালানো, ফগ সিগন্যাল এবং ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ নিজ অর্থায়নে একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। এর ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। ইউনিয়নটির অর্জনপুর গ্রামে নির্মিত কালভার্টটি এলাকাবাসীর যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কোনো টাকা না নিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই জনকল্যাণমূলক কাজ করার কারণে স্থানীয়দের মাঝে তাঁর প্রশংসার ঝড় বইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অর্জনপুর গ্রামের ওই রাস্তাটিতে কালভার্ট না থাকায় সাধারণ পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ইউনিয়নবাসীর এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ কোন সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে, নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থায়ন করে বক্স কালভার্টটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
কালভার্টটি নির্মিত হওয়ার পর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র বদলে গেছে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ও কৃষকরা আনন্দ প্রকাশ করে জানান, “বছরের পর বছর ধরে আমরা এই এলাকার মানুষ অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছি। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো সুরাহা হয়নি। কিন্তু চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ নিজ উদ্যোগে কালভার্টটি করে দেওয়ার পর আমাদের চলাচলের পথ সুগম হয়েছে। তিনি কথা দিয়ে কথা রেখেছেন, যা বর্তমান সময়ে বিরল।”
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বলেন, “জনগণের সেবা করার জন্যই আমি নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার মানুষের কষ্ট দেখলে নিজের বিবেককে ধরে রাখতে পারি না। সরকারি বরাদ্দের জন্য বসে না থেকে সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। জনগণের মুখে হাসি ফোটানোই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নের জন্য আমার এই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।”
জনপ্রতিনিধিদের এমন ব্যতিক্রমী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রিয়াল মাদ্রিদ ও ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে স্প্যানিশ অভিনেত্রী এস্টার এক্সপোসিটোর প্রেম নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ও স্প্যানিশ গণমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। ফিফা বিশ্বকাপের আগে এবং পরে বিভিন্ন স্থানে তাদের একান্তে সময় কাটানোর যে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
যদিও এখন পর্যন্ত এক্সপোসিটো বা এমবাপ্পে কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। এর মাঝে স্প্যানিশ অভিনেত্রী তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্যের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি ভিত্তিহীন সংবাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক দীর্ঘ বার্তায় এই অভিনেত্রী লিখেছেন, "গত কয়েক মাস ধরে, এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে ও আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু মিথ্যা ও মানহানিকর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার বা আমার কোনো সম্পর্ক নেই।"
তিনি আরো বলেন, "সবকিছুরই একটা সীমা থাকে। এবার আমি বাধ্য হয়েই এখানে একটি রেখা টেনে দিচ্ছি এবং যারা এসবের জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছি।"
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া গল্পগুলোকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত করছেন যে, দুই ব্যক্তির সুন্দর একটি সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এসব তথ্য তৈরি করা হয়েছে। যদিও তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, কিন্তু নিজেদের সম্পর্কের গুঞ্জনকে খণ্ডন বা অস্বীকারও করেননি।
বিশ্বকাপের পর ছুটিতে রয়েছে এমবাপ্পে এবং এসময় বেশকয়েকবার এস্টার এক্সপোসিটোর সঙ্গে তাকে দেখা গেছে। সম্প্রতি একটি ছবিতে দেখা যায়, দুজনে একটি প্রবেশ করছেন। এছাড়াও সমুদ্রে একাধিকবার এস্টার-এমবাপ্পে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। এর পাশাপাশি, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা গেছে এই স্প্যানিশ অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তীব্র গরম এখন আর শুধু আবহাওয়ার সমস্যা নয়, এটি অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি ডলারের মধ্যে হয়েছে। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪ শতাংশের সমান।
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদনশীলতা কমতে শুরু করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, তাপমাত্রা যদি ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তবে অর্থনৈতিক ক্ষতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহ এখন শুধুমাত্র মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, বরং এটি কর্মঘণ্টা, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিমাণও কমিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবছর দক্ষিণ এশিয়ায় গরমের কারণে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ চাকরির সমান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যদি এই প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে সংস্থার পূর্বাভাস।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে উৎপাদনশীলতা কমে বাংলাদেশে ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এটি দেশের জিডিপির প্রায় দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪ শতাংশের সমান। বিশেষত, তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই এই ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
চরম তাপপ্রবাহের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার তৈরি পোশাক শিল্পেও দেখা যাচ্ছে, বলে জানায় বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যদি তাপজনিত কর্মপরিবেশের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার প্রস্তুত তৈরি রফতানি আয় ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের সময় নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ নারীর গৃহস্থালির কাজের চাপ বেড়ে যায়। পুলিশের দ্বারা সহিংসতা এবং হয়রানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অপারগ হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা।
এখন বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন তাপপ্রবাহকে কেবল একটি মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা না করে, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে। যথাযথ তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, কার্যকর হিট অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন, টেকসই শীতলীকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজকর্মে নিয়োজিত শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য আরও বেশি বিনিয়োগের সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ