প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তীব্র গরম এখন আর শুধু আবহাওয়ার সমস্যা নয়, এটি অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি ডলারের মধ্যে হয়েছে। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪ শতাংশের সমান।
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদনশীলতা কমতে শুরু করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, তাপমাত্রা যদি ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তবে অর্থনৈতিক ক্ষতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহ এখন শুধুমাত্র মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, বরং এটি কর্মঘণ্টা, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিমাণও কমিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবছর দক্ষিণ এশিয়ায় গরমের কারণে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ চাকরির সমান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যদি এই প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে সংস্থার পূর্বাভাস।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে উৎপাদনশীলতা কমে বাংলাদেশে ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এটি দেশের জিডিপির প্রায় দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪ শতাংশের সমান। বিশেষত, তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই এই ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
চরম তাপপ্রবাহের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার তৈরি পোশাক শিল্পেও দেখা যাচ্ছে, বলে জানায় বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যদি তাপজনিত কর্মপরিবেশের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার প্রস্তুত তৈরি রফতানি আয় ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের সময় নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ নারীর গৃহস্থালির কাজের চাপ বেড়ে যায়। পুলিশের দ্বারা সহিংসতা এবং হয়রানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অপারগ হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা।
এখন বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন তাপপ্রবাহকে কেবল একটি মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা না করে, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে। যথাযথ তাপসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, কার্যকর হিট অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন, টেকসই শীতলীকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজকর্মে নিয়োজিত শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য আরও বেশি বিনিয়োগের সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন