ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টাকা ছাপিয়ে আবারও ঋণ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক


টাকা ছাপিয়ে আবারও ঋণ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

 

বাংলাদেশ ব্যাংক আবারো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা বা ধার দিচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে। এই অর্থ নতুন করে টাকা ছাপানোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতামত, এতে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতার ফলে গ্রাহকদের ব্যাপক আমানত উত্তোলনের চাপ মোকাবেলা করতে বিশেষ তারল্য সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে এবং গ্রাহকদের নগদ অর্থ পরিশোধে সংকটে পড়েছে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চাওয়া হলে ধাপে ধাপে ব্যাংকটিকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

অর্থনীতিবিদরা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন নতুন টাকা সৃষ্টি করে কোনো ব্যাংককে ঋণ দেয়, তখন তাত্ত্বিকভাবে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। উৎপাদন ও পণ্যের সরবরাহ একই হারে না বাড়লে তখন মূল্যস্ফীতির ওপর কিছু চাপ তৈরি হতে পারে। একটি ব্যাংককে সীমিত পরিসরে দেওয়া এই ধরনের তারল্য সহায়তার প্রভাব সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে খুব বেশি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌকিফ আহমেদ জানান, ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটানোর উদ্দেশ্যেই এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দেশের ৬২টি ব্যাংকের মধ্যে একজন ব্যাংককে দেওয়া এ ধরনের সহায়তার ফলে সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি আরও বলেন, অর্থের সরবরাহ বাড়লে চাহিদাও কিছুটা বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে একটি ব্যাংককে সীমিত পরিসরে দেওয়া তারল্য সহায়তার কারণে বাস্তবে এর প্রভাব সাধারণত খুবই সামান্য থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে. মুজেরী বলেন, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘লেন্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ বা শেষ আশ্রয়দাতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ। কোনো ব্যাংক যদি হঠাৎ তারল্য সংকটে পড়ে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হলো সাময়িক সহায়তা দেওয়া, যাতে ব্যাংকটি স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

এটি কোনো অনুদান নয়; বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ঋণ, যা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে হবে। ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক এবং দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে আসে। তাই ব্যাংকটি কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে পুরো ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। বৃহত্তর আর্থিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মোস্তফা কে. মুজেরী বলেন, ব্যাংকটির পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একজন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সহায়তার কারণে মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন কোনো ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেয়, তখন নতুন অর্থ বাজারে প্রবেশ করে। এই অর্থের বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে সমপরিমাণ পণ্য বা সেবা না থাকলে তাত্ত্বিকভাবে এটি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে এ ধরনের সহায়তা মূল্যস্ফীতি কিছুটা উসকে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংককে সহায়তা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে কার্যকর কোনো বিকল্প ছিল না। বিশ্বের কোনো ব্যাংকই একসঙ্গে সব গ্রাহকের টাকা তুলতে এলে তাৎক্ষণিকভাবে সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতার জানাজার পরপরই গুরুদাসপুরে প্রবাসীর শপিংমলে হামলা-লুটপাট

আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ বা অপরিহার্যতার নীতির ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হল গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আমানত তুলে নেওয়ার প্রবণতা কমে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তিনি বলেন, এই সংকট সাময়িক। ইসলামী ব্যাংক নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করবে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফিরে আসবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হবে না।

আগের ক্ষেত্রেও টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০২২ সালের শেষ দিকে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর গ্রাহকরা ব্যাংকগুলোর থেকে আমানত উত্তোলন বৃদ্ধি করে। তখন ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তারা সিআরআর ও সরকারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এসএলআর রাখতে ব্যর্থ হয়। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন টাকা সৃষ্টি করে বিশেষ তারল্য সহায়তা দেয়।

এরপর সংকট আরও গভীর হলে ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাব ঘাটতিতে পড়ে। সে ঘাটতি রেখেও লেনদনের সুযোগ দেওয়া হয় তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়ের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়। শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে অর্থ সহায়তা না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংকে তারল্য সংকট ও অস্থিরতা বাড়তে থাকায় পরে আবার বিশেষ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বর্তমান সরকারও টাকা ছাপিয়ে ব্যাংককে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ তারল্য সহায়তা দিতে বাধ্য হয়।

কোন ব্যাংক কত সহায়তা পেয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বিশেষ তারল্য সহায়তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা পেয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এরপর এক্সিম ব্যাংক ১২ হাজার ১০ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার ৮৪১ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি এবং ইসলামী ব্যাংক ৯ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে।

এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক পাঁচ হাজার ৪২০ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি, এবি ব্যাংক চার হাজার ২৭০ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক তিন হাজার তিন কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৬২৪ কোটি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ২৫২ কোটি, পদ্মা ব্যাংক ২৫২ কোটি এবং বেসিক ব্যাংক ১৯৫ কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে। সব মিলিয়ে বিশেষ তারল্য সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান

যেভাবে দেওয়া হয় ঋণ, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ১৬(৪)(ডি) ও ১৭(১)(বি) ধারার আওতায় ৯০ দিনের জন্য সাড়ে ১১ শতাংশ সুদে এই অর্থ প্রদান করা হয়। ব্যাংকিং পরিভাষায় এটি ‘ওভারনাইট-ওডি’ সুবিধা নামে পরিচিত। ঋণের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো সমমূল্যের ডিমান্ড প্রমিসরি নোট জমা দেয়। শর্ত অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক অবসায়িত বা দেউলিয়া হলে তাদের সম্পদ বিক্রির অর্থ থেকে সবার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবারের কাছ থেকে সুখবর পেলেন মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ এম


পরিবারের কাছ থেকে সুখবর পেলেন মেসি

নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ার পর এবার আরও একটি সুখবর পেলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তার বাবা হোর্হে মেসি অবশেষে চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। এর সম্পর্কে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত সাংবাদিক ও উপস্থাপক অ্যাঞ্জেল দে ব্রিটো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার ‘আমেরিকা টিভি’র জনপ্রিয় এলএএম অনুষ্ঠানে ব্রিটো জানিয়েছেন, হোর্হে মেসি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রোসারিও শহরের নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

গত সপ্তাহে ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেসির পরিবার থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয় যে, হোর্হে চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

সমস্ত আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে, এখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হোর্হে মেসি পরিবারের সঙ্গেই আছেন। বাবার সুস্থতার দিনে, মাঠের পারফরম্যান্সেও দারুণ এক আলো ছড়াচ্ছেন পুত্র লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি পেয়েছেন জোড়া গোল। চলতি বিশ্বমঞ্চে তার গোলসংখ্যা ইতোমধ্যে পাঁচে পৌঁছেছে।

একই সঙ্গে, এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। মাঠের সেই সাফল্যের আনন্দ কাটানোর আগেই পরিবার থেকে এই সুখবর পেলেন মেসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ এম


হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আইএমওর মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

তিনি জানান, সংঘাত চলাকালে ১৪ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমান এবং অন্যান্য পক্ষের সহযোগিতায় একটি বৃহৎ পরিসরের উদ্ধার ও স্থানান্তর অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ডোমিঙ্গুয়েজ।

তিনি জানান, এই অভিযান দেখিয়ে দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কার্যক্রমকে কতটা ব্যাহত করেছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক নাবিককে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে আটকে রেখেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কি কোনো গ্যারান্টি দিতে পারে? বিশেষ করে ইরান ট্যাংকারগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করছে- এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে।

জবাবে রুবিও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। কোনো দেশই আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না।

আইএমওর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় ৬০০টি জাহাজ আটকে রয়েছে।

ডোমিঙ্গেজ এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিশ্চয়তা পেয়েছে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে যাচাই করেছে।

তিনি বলেন, হাজার হাজার নিরীহ নাবিকের জন্য দীর্ঘ মাসের দুর্ভোগ এবং বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক প্রভাবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিকে আমি গভীর সন্তুষ্টির সঙ্গে স্বাগত জানাই। এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জাহাজের ওপর অগ্রহণযোগ্য হামলার অবসান ঘটানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন কিয়েস বাকেন্স জানান, তেল সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য জাহাজগুলো এরই মধ্যে আবার হরমুজ প্রণালিতে ফিরতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ওমান সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করানোর জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তার মতে, সম্ভাব্য টোল আদায়ের বিষয়টি উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রমে বড় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে, প্রণালিতে অবশিষ্ট মাইন একটি উদ্বেগের বিষয়। তবুও ওমানের দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নাবিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে যে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোন ঘটনায় ‘থরথর করে কাঁপছিল’ অমীষা পটেলের সারা শরীর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০১ এম


কোন ঘটনায় ‘থরথর করে কাঁপছিল’ অমীষা পটেলের সারা শরীর?

‘গদর’ ছিল অমীষার দ্বিতীয় ছবি। ছবির সেটে প্রথম দিন থেকেই তাঁকে কঠিন একটি দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এ সময় থরথর করে কাঁপছিলেন তিনি।

‘গদর: এক প্রেম কথা’ সম্প্রতি মুক্তির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমীষা পটেল। সম্প্রতি তিনি ছবির শুটিংয়ের স্মৃতি শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা অমরীশ পুরীর সঙ্গে একটি দৃশ্য আজও মনে আছে তাঁর। শুটিংয়ের সময় তিনি থরথর কাঁপছিলেন। কিন্তু কেন?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অমীষা বলেন, “আমার অমরীশজির কথা খুব মনে পড়ে। ওঁর জন্য ভয় পেয়েছিলেন, এমন নয়। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ ও সহ-অভিনেতা ছিলেন। তাঁর রসবোধ ছিল দারুণ। খুব মজার মানুষ ছিলেন। তাঁর মধ্যে এমন এক ধরনের হাস্যরস ছিল, যা কেউ কখনও ভাবতে পারবে না।” তো, কেন সত্যিকার অর্থেই থরথর করে কাঁপছিলেন অভিনেত্রী?

‘গদর’ ছিল অমীষার দ্বিতীয় ছবি এবং ছবির সেটে প্রথম দিন থেকেই তাঁকে কঠিন একটি দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রথমেই অমরীশ পুরীর সঙ্গে একটি আবেগঘন দৃশ্যে অভিনয় করতে বলা হয়েছিল তাঁকে। ছবিতে অমরীশ তাঁর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেই দৃশ্যের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা মনে করে অভিনেত্রী বলেন, “‘গদর’-এ আমার প্রথম দৃশ্যই ছিল অমরীশজির সঙ্গে। আমি ভয়ে থরথর করে কাঁপছিলাম। আমার সারা শরীর কাঁপছিল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কাজ করা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি আমার কাজকে খুব সহজ করে দিয়েছিলেন। তিনি কখনও আমাকে বুঝতে দেননি যে, তিনি এত বড় একজন অভিনেতা এবং আমি একজন নতুন শিল্পী।”

এর আগেও ‘গদর’ নিয়ে কথা বলেছেন অমীষা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁকে সানি দেওলের বিপরীতে অভিনয় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কারণ, সানি তাঁর থেকে বয়সে অনেক বড় ছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, অভিনেতাদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান নিয়ে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। তবে গল্পে সেই ব্যবধানের যুক্তি থাকা দরকার বলে তাঁর অভিমত। তাঁর মতে, ‘গদর’-এর গল্প বয়সের সেই ব্যবধানকে যথাযথ ভাবে তুলে ধরেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মদরিচের মাইলফলকের রাতে কঠিন লড়াইয়ে জিতল ক্রোয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ এম


মদরিচের মাইলফলকের রাতে কঠিন লড়াইয়ে জিতল ক্রোয়েশিয়া

বল নিয়ে ছোটা মদরিচকে আটকানোর চেষ্টা  পানামার এর এক খেলোয়াড়ের। ছবিটি রয়েছে রয়টার্সের।

চল্লিশ বৎসর বয়সেও মদরিচ নিজের সেরা ফর্মে আছেন। তিনি মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছেন। পেশাদার ক্যারিয়ারের অনেকেই এই বয়সে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু মদরিচের জন্য সেই চিন্তা নেই।

২০০৬ সালে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে, আজ তিনি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করেছেন। বিশ্বের চতুর্থ ফুটবলার হিসাবে ২০০ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বদের আল-মুতাওয়া এবং লিওনেল মেসি।

মদরিচের মালিকের রাতটা স্মরণীয় করে তুলেছেন আন্তে বুদিমির। পানামার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়াকে জয়সূচক গোল এনে দিয়ে তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। সেই গোলের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া প্রথম জয় পেল এবং নকআউটে খেলার আশা জাগিয়ে রাখল। বর্তমানে তাদের পয়েন্ট তৃতীয়। বিপরীতে সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে তারা শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড ও ঘানার সাথে।

ক্রোয়েশিয়া ৫৪ মিনিটে জয়সূচক গোলটি পায়। ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস দেন ইয়োসিপ স্তানিসিচ। গোললাইনের সামনে দাঁড়িয়ে পা দিয়ে বল জালে ঢোকান বুদিমির। গোল হওয়ার সাথে সাথে টরন্টোর গ্যালারিতে ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া স্লোগান শুরু হয়ে যায়।

অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে মদরিচও গোলের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারতেন। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে, তিনি মুখে তুলে দেওয়া এক গোল বানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্যাসালিচ গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল জালে জড়াতে পারেননি। সেই অবস্থায় প্রথমবার সরাসরি গোলরক্ষকের শরীরে মারার পর ফিরতি সুযোগটিও তিনি হারান।

যদিও ম্যাচ জয়ের নায়ক ছিল বুদিমির, কিন্তু ক্রোয়েশিয়াকে প্রতিপক্ষের গোল থেকে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে না দেওয়ার জন্য ডমিনিক লিভাকোভিচের অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি ৬৮ মিনিটে ডাবল সেভ করেন। কর্নারের বিনিময়ে মুরিল্লোর দুটি শট ঠেকিয়ে জান, পরে ফিরতি কর্নারে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে হার্ভির হেডও দুর্দান্তভাবে পাঞ্চ করে ক্রোয়েশিয়াকে রক্ষা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%