১০:৩৯ পি.এম
মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচার করার অভিযোগে পুলিশ ব্যুারা অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্তৃক একটি দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর আগের রাতে, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতারের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার মো. জিহাদ আলী লস্কর এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি, যিনি সুমি আক্তার নামেও পরিচিত।
আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা
পিবিআই খুলনার সূত্র জানায়, জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘ সময় ধরে কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বিভিন্ন স্থানীয় জনগণকে মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির ভাও দেখান।
তিনি বলেন, তাদের কথা বিশ্বাস করে প্রতিবেশী মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল প্রত্যেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে জিহাদ ও তার স্ত্রীর কাছে প্রদান করেন।
পরে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি প্রদান করা হয়নি। বরং কম্বোডিয়ায় নিয়ে ভুক্তভোগীদের মেয়েদের পরিচয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণামূলক কথোপকথন এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপের জন্য বাধ্য করা হয়।
এ সময় তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি এবং তারা অমানবিক পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে, কৌশলে সেখানে থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর স্বজনদের সহায়তায় তারা দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। দেশে ফেরার পরে, দুই ভুক্তভোগী পৃথকভাবে নগরীর দৌলতপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২
মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই খুলনা গ্রহণ করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার সময় ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমিকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে আদালতেও তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরো জানা গেছে, একই কৌশল ব্যবহার করে এলাকার আরও কয়েকজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় একই এলাকার আরও দুই ব্যক্তি পৃথকভাবে দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বাসসকে জানান, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের সাথে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত নেতার গণজোয়ারের দাবি, নির্বাচনে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশের আশাবাদ
তিনি আরও জানান, মামলার অন্য সহযোগীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারের অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন