ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ

জবিসহ চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত দেড় শতাধিক


জবিসহ চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত দেড় শতাধিক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল এবং শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের দেড়শতাধিক নেতা ও কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটলে, ছাত্রশিবিরের সদস্যরা আহত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়ে হামলার শিকার হন। হাসপাতালটিতে আহতদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে, যা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে শুরু করেছে, আর এতে আতঙ্কিত পথচারীরা ছোটাছুটি করতে বাধ্য হন। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোটা দেখা গেছে। তারা একে অপরকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এই সংঘর্ষ থামাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এগিয়ে এলেও তাদের কোনোভাবে থামানো সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকার পরও সংঘর্ষ বন্ধে তারা যথেষ্ট তৎপরতা গঠন করেনি। ঢাকা কলেজে সংঘর্ষের সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও ভিসিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জকসুর নেতৃবৃন্দ কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। প্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণ ও মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত সুবিধার দাবি-দাওয়া ছিল। তাদের সঙ্গে ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চ এবং ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীও ছিলেন। মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। জকসুর নেতারা তখন মিলনায়তনের প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত্ব চত্বরে, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ একাধিক স্থানে সংঘর্ষ দেখা দেয়। এই ঘটনায় জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়নের দাবি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আহত শিবিরের নেতাকর্মীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আবারও হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন। এই হামলার সময় হামলাকারী ছাত্রদলের সদস্যদের উপস্থিতি জানিয়ে ছাত্রশিবির অভিযোগ করছেন।\n

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেছেন, জকসুর ব্যর্থতা এবং জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা এসব কর্মকাণ্ড করছে। তাদের দাবি, তারা ছাত্রলীগের মতো মব কালচার তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উপলক্ষে আজ সারা দেশে বন্ধ স্বর্ণ বেচাকেনা

জকসুর জিএস ও শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে জকসুর প্রতিনিধিরা আহত হয়ে মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি আন্দোলনের হুমকি দেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ অভিযোগ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ওপথ ছিল না।

ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, জকসু প্রথমে তাদের মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জবি ছাত্রদল ও শিক্ষকদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষ ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষ পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। তারা বক্তব্য ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে সশস্ত্র হামলায় লিপ্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জানিয়েছেন, সংঘর্ষ ঘটানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী অব্যাহতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদলের অবস্থানের কারণে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বেরোবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রশিবিরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা কলেজ ও অন্যান্য কেন্দ্রে সংঘর্ষের এ ঘটনায় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামীকাল জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


আগামীকাল জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের দিন বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে এটি সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সকালে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর-এর ফলক উন্মোচন করবেন, যা জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

উদ্বোধনের পরে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন। তিনি সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকসমূহ পরিদর্শন করবেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হবেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান। জাদুঘরটি গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ করছে, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে এবং শহিদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করতে জুলাই যোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যগণ বক্তব্যও প্রদান করবেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাস ভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। তাঁরা দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে তুলে ধরবেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন জাদুঘরের মহাপরিচালক।

অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাই যোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

মন্ত্রী আবারও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের দিন বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তিনি জানিয়েছেন, ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে এটি সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে এবং এখানে বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৫৮ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৫৮ জন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তাদের নিয়মিত অভিযানের আওতায় রাজধানী ঢাকা শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময়ের মধ্যে ৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় ডিএমপি। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৪ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৭ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৯ জন, মতিঝিল বিভাগে ৩৬ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৭ জন, মিরপুর বিভাগে ১৩৫ জন, গুলশান বিভাগে ৩১ জন, উত্তরা বিভাগে ৭১ জন, গোয়েন্দা বিভাগে ৬ জন এবং সিটিটিসি বিভাগে ২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

এই অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১১ কেজি ৯৮০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৩৩৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯০ বোতল ফেন্সিডিল, ১ টি ওয়ান শাটারগান, ১ টি সামুরাই, ১৭ টি মোবাইল ফোন, ৩০টি খালি চেক বইয়ের পাতা, নগদ ১০৮০ টাকা ও ২৮ লাখ জালনোট উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া ভেবেছিল, দুই দিনেই টেস্ট হারব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫১ পি.এম


‘অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া ভেবেছিল, দুই দিনেই টেস্ট হারব’

২০০৩ সালের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে গিয়েছিল। মহাপরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ দল বাজেভাবে হেরে গেলেও স্টিভ ওয়াহর মতো কিংবদন্তির প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন হান্নান সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে গ্লেন ম্যাকগ্রা, জেসন গিলেস্পি, ব্রেট লিদকে সামলে হান্নান টানা দুই ইনিংসে ফিফটি করেছিলেন। এর ফলে কেয়ানর্সে শেষ টেস্টটি চারদিনে গিয়েছিল। ২৩ বছর পর আবারও যখন বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গেছে, তখন হান্নান পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করলেন। সাবেক ওপেনার জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার সবাই সেটি মনে করেছিল বাংলাদেশ ২ দিনেই হেরে যাবে।

কিন্তু তাদের ভুল প্রমাণ করে তার দল প্রথম ম্যাচ তৃতীয় ও দ্বিতীয় ম্যাচ চতুর্থ দিনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হান্নান বলেছেন, ‘সেই সময় বিশ্বের সেরা বোলিং আক্রমণ ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ওই বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল কীভাবে ম্যাচটাকে লম্বা করতে পারি। হয়তো আমরা যাওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া বা স্থানীয় মানুষজন চিন্তা করেছিল ২ দিনেই টেস্ট শেষ হয়ে যাবে।

সেখান থেকে আমরা ম্যাচ তিন দিনে বা চার দিনে নিয়ে গিয়েছি। এখানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে।’ ২০০৩ সালে মহাপরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ইনিংসে ফিফটি করেছিলেন হান্নান সরকার। 

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে মুশফিক, শান্ত ও তানজিদদের ভালো করতে হলে কী করা উচিত, সেই টোটকাও দিয়েছেন বর্তমানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হান্নান। তিনি বলেন, ‘তানজিদ তামিম যদি অস্ট্রেলিয়ায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, তবে বড় খেলোয়াড় হতে পারে। তানজিদ তামিম যে ধরনের শট খেলে, টেস্ট ক্রিকেটেও এই ধরনের শট খেলা অপরিহার্য।

কিন্তু কখন এই শটগুলো খেলা উচিত, সে বিষয়ে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা করে নজর দেওয়ার প্রয়োজন।’ মুশফিকের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হান্নান বলেন, ‘মুশফিক এই দলে সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড়। তিনি নিশ্চিতভাবেই তরুণদের পরামর্শ দেবেন এবং পথ দেখাবেন।’

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ভালো কিছু করতে হলে বোলিং বিভাগই দায়িত্ব নিতে হবে, এই ব্যাপারে হান্নান মনে করেন। সেজন্য অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের শক্তি ও দুর্বলতা বিচার করে আলাদা পরিকল্পনা সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, ‘ট্রাভিস হেডকে আপনি আটকে রাখতে পারবেন না। সে যদি দ্রুত ৩০-৪০ রান করে ফেলে, তবুও করে। কিন্তু এরপরও যদি আমরা তার উইকেট নিতে পারি, তাহলে সেই রানটাকে আর বড় করতে পারবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ট্যালিন জুনিয়রের গ্রেপ্তার ও মুক্তিকে ঘিরে উত্তাল তামিলনাড়ু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


স্ট্যালিন জুনিয়রের গ্রেপ্তার ও মুক্তিকে ঘিরে উত্তাল তামিলনাড়ু

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতি হঠাৎ করেই উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং চার ঘণ্টা পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষমতাসীন টিভিকের সঙ্গে বিরোধী দল ডিএমকে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছে।

গ্রেপ্তারের পর ডিএমকে সমর্থকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে। একই সাথে ক্ষমতাসীন টিভিকও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। উদয়নিধি স্ট্যালিন, যিনি তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের ছেলে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে একটি মন্তব্যের জেরে দায়ের করা মামলায়।

আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চেন্নাইয়ের বাসভবন থেকে উদয়নিধিকে গ্রেপ্তার করে। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে চার ঘণ্টা পর মুক্তি দেওয়া হয়। তবে স্ট্যালিনের মন্তব্য, তার গ্রেপ্তার ও মুক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অস্থিরতা বইছে।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সম্পর্কে নানা গুঞ্জন চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এ বিষয়ে অনেকেই নানা কথা বলছেন। কাবেরী নদীর পানিবণ্টন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে ডিএমকে গতকাল সোমবার তাঞ্জাভুরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।

সমাবেশে উদয়নিধি স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছিলেন। তখন ডিএমকে সমর্থকরা বিজয়কে ইঙ্গিত করে ‘তৃষা, তৃষা’ স্লোগান দিতে থাকে। উদয়নিধি তখন বক্তব্য থামিয়ে মুচকি হেসে বলেন, ‘অন্য কোথাও পানি পৌঁছাক আর না পৌঁছাক, ওইখানে যেন পানি ঠিকমতো পৌঁছায়।’

তৃষার নাম উল্লেখ না করলেও তার এই দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্যে মঞ্চে থাকা ডিএমকের অন্যান্য নেতারাও হাসাহাসি করতে থাকে। পরে বুঝতে পেরে উদয়নিধি মুচকি হেসে বলেন, ‘আমি কিন্তু কাবেরী নদীর পানির কথা বুঝিয়েছি।’

কিন্তু ততক্ষণে পানি অনেকদূর গড়িয়ে গেছে। টিভিকের পক্ষ থেকে উদয়নিধির ইঙ্গিতপূর্ণ অশালীন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। বিজেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তার বক্তব্যকে নারীদের জন্য অবমাননাকর হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র সমালোচনা করেন।

এ ঘটনার পর তাঞ্জাভুর থানায় উদয়নিধির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগ তামিলনাড়ু মহিলাদের হয়রানি প্রতিরোধ আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন-এর আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষমতাসীন টিভিকও জাতীয় নারী কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেছে।

আজ সকালে তাঞ্জাভুর পুলিশ উদয়নিধিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরেই ডিএমকে কর্মী-সমর্থকেরা তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। গ্রেপ্তারের আগেই উদয়নিধি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি কি মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কারো নাম উল্লেখ করেছিলাম? তাহলে আপনাদের কেন মনে হচ্ছে যে এমনটা ঘটছে? আদালতই এর ফয়সালা করুক।’

তবে উদয়নিধি যতই বলুন, তিনি কারো নাম বলেননি; কিন্তু সবাই বুঝতে পেরেছে, তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন। এর ফলে তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা চলছে। টিভিক এই ঘটনায় নারীর শালীনতাহানির অভিযোগে উদয়নিধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, স্ট্যালিনকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা করতে হবে।

টিভিকে বিধায়ক রেভন্থ চরণ বলেছেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত জঘন্য এবং এটি রাজনীতির ক্রমাবনতিশীল মানসিকতারই প্রতিফলন।’ বিজেপিও এই ঘটনায় উদয়নিধির বিচার দাবি করেছে। তামিলনাড়ু বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি বলেছেন, ‘উদয়নিধির মন্তব্য অশ্লীল, কুরুচিকর এবং লজ্জাজনক।’ এমডিএমকে নেতা দুরাই ভাইকো বলেছেন, ‘মূল বিষয় ছিল কাবেরী নদী এবং তামিলনাড়ুর কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে। উদয়নিধি স্ট্যালিন যে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন, তা নিন্দনীয়। এটি নারীদের অবমাননা করে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এটি ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশ চুকানোর মঞ্চ ছিল না। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ গায়িকা ও ডাবিং শিল্পী চিন্ময়ী শ্রীপদা এবং অভিনেত্রী ও তামিলনাড়ু বিজেপির সহ-সভাপতি খুশবু সুন্দরও উদয়নিধি স্ট্যালিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ডিএমকে এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। দলের বক্তব্য হলো, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতেই সরকার পুলিশকে ব্যবহার করছে। ডিএমকে প্রধান ও উদয়নিধির পিতা এমকে স্ট্যালিন এ ঘটনায় টিভিকের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘অহংকার ধ্বংস ডেকে আনে; আর অনড় অহংকার সেই ধ্বংসকে কেবল ত্বরান্বিত করে।’

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক মুখমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বলেছেন, ‘সরকার কাবেরী ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতে উদয়নিধিকে গ্রেপ্তারের পথ বেছে নিয়েছে। রাজ্যের বাজেট অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন, বিরোধীদলীয় নেতাকে বিধানসভার বাইরে রাখারই একটি অপচেষ্টা এটি।’

এমকে স্ট্যালিন বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টার বদলে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে এখন অবশ্যই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তাকে, তার মন্ত্রীদের বা তার সরকারকে যারা সমালোচনা করছে; তাদের গ্রেফতার করা ছাড়া আর কিছুই করেননি। যে কোনো টুইট বা ভিডিও বার্তার পরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%