১০:৪৬ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল এবং শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ইতিমধ্যে ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের দেড়শতাধিক নেতা ও কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটলে, ছাত্রশিবিরের সদস্যরা আহত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়ে হামলার শিকার হন। হাসপাতালটিতে আহতদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে, যা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে শুরু করেছে, আর এতে আতঙ্কিত পথচারীরা ছোটাছুটি করতে বাধ্য হন। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোটা দেখা গেছে। তারা একে অপরকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এই সংঘর্ষ থামাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এগিয়ে এলেও তাদের কোনোভাবে থামানো সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকার পরও সংঘর্ষ বন্ধে তারা যথেষ্ট তৎপরতা গঠন করেনি। ঢাকা কলেজে সংঘর্ষের সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও ভিসিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জকসুর নেতৃবৃন্দ কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। প্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণ ও মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত সুবিধার দাবি-দাওয়া ছিল। তাদের সঙ্গে ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চ এবং ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীও ছিলেন। মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। জকসুর নেতারা তখন মিলনায়তনের প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত্ব চত্বরে, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ একাধিক স্থানে সংঘর্ষ দেখা দেয়। এই ঘটনায় জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়নের দাবি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আহত শিবিরের নেতাকর্মীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আবারও হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন। এই হামলার সময় হামলাকারী ছাত্রদলের সদস্যদের উপস্থিতি জানিয়ে ছাত্রশিবির অভিযোগ করছেন।\n
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেছেন, জকসুর ব্যর্থতা এবং জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা এসব কর্মকাণ্ড করছে। তাদের দাবি, তারা ছাত্রলীগের মতো মব কালচার তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উপলক্ষে আজ সারা দেশে বন্ধ স্বর্ণ বেচাকেনা
জকসুর জিএস ও শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে জকসুর প্রতিনিধিরা আহত হয়ে মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি আন্দোলনের হুমকি দেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ অভিযোগ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ওপথ ছিল না।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, জকসু প্রথমে তাদের মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জবি ছাত্রদল ও শিক্ষকদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষ ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষ পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। তারা বক্তব্য ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে সশস্ত্র হামলায় লিপ্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জানিয়েছেন, সংঘর্ষ ঘটানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী অব্যাহতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদলের অবস্থানের কারণে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বেরোবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রশিবিরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা কলেজ ও অন্যান্য কেন্দ্রে সংঘর্ষের এ ঘটনায় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন