০৬:২৫ এম
জুমার দিনকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর যতদিন সূর্য উদিত হবে, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবার। এই দিনেই আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। একই দিনে তাকে জান্নাত থেকে বেরও করা হয়েছিল। সর্বশেষ কেয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবার দিনে। (মুসলিম ৮৫৪)।
জুমার দিনের মধ্যে একটি বিশেষ আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলো, জুমার দিনে ‘সুরা কাহাফ’ পাঠ করা। এটি পবিত্র কোরআনের ১৫তম পারার ১৮তম সুরা। যদি কেউ পুরো সুরাটি তেলাওয়াত করতে অসমর্থ হয়, তবে তার উচিত সুরাটির প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করা।
কোরআনের কোনো অংশ মুখস্থ করলে ইমান বৃদ্ধি পায়। সুরা আল কাহাফে রয়েছে বেশ কিছু গল্প, যা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের জন্য বাস্তব পাঠ শেখায় এবং কোরআনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে। যেমন, ‘পৃথিবীর ওপর যা কিছু আছে, আমি সেগুলোকে তার শোভা করেছি মানুষের জন্য, যে তাদের মধ্যে কোনটা কর্মে ভালো।’ (সুরা কাহাফ, ৭)
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য
এই সুরায় চারটি ঘটনা, চারটি বক্তব্য ও উপদেশ রয়েছে। সুরার ১ থেকে ৮ আয়াতে রয়েছে বক্তব্য। ৯ থেকে ২৬ আয়াতে এসেছে আসহাবে কাহাফের ঘটনা।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে মুক্তি পাবে।’ (মুসলিম শরিফ) রসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সুরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াতে ইসলামের মৌলিক কয়েকটি বিষয়ের আলোচনা রয়েছে। ‘আর যারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন, তাদের সতর্ক করার জন্য এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। এসব উন্মাদনা তাদের মুখ থেকে বের হয়, তারা কেবল মিথ্যাই বলে।’ (সুরা কাহাফ ৪-৫)
রসুলুল্লাহ (সা.)–এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার কথাও এখানে উল্লেখ রয়েছে, ‘প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর দাসের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং এর মধ্যে কোনো অসংগতি রাখেননি।’ (সুরা কাহাফ ১)
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নীত করবে: জহির উদ্দিন স্বপন
প্রতিদানের আলোচনা পরের আয়াতে এসেছে। এতে দেখা যায় যে ভয় ও আশা দুই ধরনের আবেগ উপস্থিত রয়েছে। ‘তার কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং যারা বিশ্বাসী এবং সৎকাজ করে, তাদের সুসংবাদ দেয়ার জন্য যে তাদের জন্য বড় ভালো পুরস্কার রয়েছে।’ ‘সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।’ (সুরা কাহাফ ২-৩)
রসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এই ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, ‘আদমের সৃষ্টি থেকে বিচার দিবসের আগ পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় আর কোনো ফিতনা নেই।’ (মুসলিম শরিফ) এটা দাজ্জালের বিরুদ্ধে একটি নিরাপত্তার ঢাল।
যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা আল কাহাফ পাঠ করবে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মিশকাত ২১৭৫)।
সে ব্যক্তি, যে সুরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম) (মিশকাত)।
আরও পড়ুন: ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে : আইনমন্ত্রী
যে ব্যক্তি সুরা কাহাফ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করবে। আর যে ব্যক্তি তার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলে সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সিলসিলায়ে সহিহা ২৬৫১)।
যে ব্যক্তি জুমার রাতে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা থেকে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নুর হবে। (সহিহ তারগিব ওয়াত্ তারহিব ৭৩৬)।
জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করলে কেয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নুর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যে গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব ১/২৯৮)
জনৈক ব্যক্তি সুরা কাহাফ পড়ছিলেন। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেলেন একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আজিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের কাছে বললেন। তখন তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘হে অমুক, তুমি সুরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। (মুসলিম ১৭৪২)
আরও পড়ুন: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেবেন এ্যানি
বৃহস্পতিবার দিন শেষে সূর্য ডোবার পর থেকে শুক্রবার সূর্য ডোবা পর্যন্ত যে কোনো সময় সুরা কাহাফ পাঠ করলে তা জুমার দিনে পড়া হয়েছে বলে গণ্য হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন