১২:৪৮ এম
দেশের স্টিল মিল মালিকরা বিদ্যুতের দাম ও সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা শিল্পখাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ প্রায় ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্টিল মিল মালিকরা জানান, কোভিড-পরবর্তী সময়ে শিল্পখাত দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চ ব্যয় চাপে রয়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, নির্মাণ খাতে মন্দা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক কারখানা বর্তমানে লোকসান বহন করে চলছে।
আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষায় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে ইউনাইটেড ট্রাস্ট, মাসে মিলবে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা
তারা আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের ট্যারিফ প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং ডিমান্ড চার্জ ১২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে গ্যাসের দামও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
বিবৃতিতে বলেছে, স্টিল শিল্পের বড় কারখানাগুলো ৩৩ কেভি, ১৩২ কেভি ও ২৩০ কেভি লাইনের সরাসরি গ্রাহক হলেও ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও অন্যান্য অতিরিক্ত খরচের কারণে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। তারা নিজেদের সাবস্টেশন থাকার পরেও এসব ব্যয় থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
স্টিল মিল মালিকরা সতর্ক করে দেন যে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগ কমে যাবে এবং দেশের শিল্প প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান ও শিল্প স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে।
তারা জানাচ্ছেন যে, বিদ্যুৎ মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি একটি ট্যারিফ নয়, বরং এটি শিল্প টিকে থাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই তারা নতুন মূল্যহার অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: দারোয়ানী রেলস্টেশনে সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন
বুধবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে।
বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) সঞ্চালন ব্যয় বিবেচনায় বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার (হুইলিং চার্জ) ভারিত গড়ে প্রতি ইউনিট ৩১.৩৫ পয়সা থেকে ৩৮.৮৬ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ৭.৫১ পয়সা বা প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কিন্তু বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কমিশনের এই আদেশ ২০২৬ সালের জুন মাসের বিল থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
আরও পড়ুন: সম্প্রীতির বন্ধনে আলফাডাঙ্গা, পূজামণ্ডপে পূজামণ্ডপে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেমায়েত হোসেনের আর্থিক সহায়তা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন